সবুজবাগ, খিলগাঁও, মুগদা ও মান্ডা এলাকা নিয়ে ঢাকা-৯ আসন। এখানে প্রার্থী ১২ জন। রাজধানীর অন্য আসনগুলোর চেয়ে এখানে ব্যতিক্রম হচ্ছে, সব প্রার্থী ‘জয়ের ব্যাপারে’ আশাবাদী। এর কারণ হিসেবে প্রার্থীরা বলছেন, ভোটারদের কাছ থেকে তাঁরা ‘ভালো সাড়া’ পাচ্ছেন।
টেলিভিশন প্রতীক নিয়ে এই আসনে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রার্থী মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে গত বৃহস্পতিবার কথা বলেছে প্রথম আলো। নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পরিচিত বন্ধুবান্ধব, সবাই তো ভোট দেওয়ার আশ্বাস দেয়। রেজাল্টের পর বোঝা যায়, কার আশ্বাস কী রকম ছিল। এটা হলো সবচেয়ে বড় জিনিস।’
শফি উল্লাহ চৌধুরী ২০২৪ সালেও এই আসন থেকে টেলিভিশন প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন। ‘আমি–ডামি’ হিসেবে পরিচিত ওই নির্বাচনে এক হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন বলে জানান শফি উল্লাহ চৌধুরী।
ভোট কারচুপি না হলে আরও বেশি ভোট পেতেন জানিয়ে শফিউল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ইলেকশনে যদি না দাঁড়াই তাহলে মানুষ চিনবে কীভাবে, জানবে কীভাবে? আমাদের ছোট দলটা বিকশিত হবে কীভাবে? একদিন তো একদিন সফল হবই।’
এই আসনে হারিকেন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মাসুদ হোসেন। তাঁর দাবি, ধানের শীষের সঙ্গে এই আসনে হারিকেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষ হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা আছে। আর ১৯৯১ সাল থেকে তিনি রাজনীতি করেন।
বিভিন্ন এলাকা ঘুরেও আপনার কোনো ব্যানার চোখে পড়েনি—এমন এক প্রশ্নে প্রার্থী মাসুদ হোসেন বলেন, ‘আর্থিক সমস্যার কারণে ব্যানার–ফেস্টুন লাগাতে পারছি না। কিন্তু যখন ভালো প্রচার-প্রচারণায় চলে যেতে পারব, ইনশা আল্লাহ তখন মাঠ আমাদের পক্ষে চলে আসবে। কারণ, ভোটারদের মাঝে যথেষ্ট সাড়া আছে।’
গত এক সপ্তাহে ঢাকা-৯ আসনের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রশিদের ব্যানার–ফেস্টুন সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। ফুটবল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করা স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা জনসংযোগের ক্ষেত্রে মানুষের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন। বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নির্বাচনী ব্যানার রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অংশীদার এনসিপির প্রার্থী জাবেদ রাসিন এই আসনে শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নির্বাচনী প্রচারের ব্যানার দেখা গেছে। এর বাইরে কাস্তে প্রতীকের সিপিবির প্রার্থী মনিরুজ্জামানের কিছু ব্যানার চোখে পড়েছে।
এই ছয়জনের পাশাপাশি ঢাকা-৯ আসনে প্রার্থী রয়েছেন আরও ছয়জন। তাঁরা হলেন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ইসলামী আন্দোলনের শাহ ইফতেখার আহসান, লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী জাতীয় পার্টির কাজী আবুল খায়ের, আম প্রতীকের ন্যাশনাল পিপলস পার্টির প্রার্থী শাহীন খান, উদীয়মান সূর্য প্রতীকের গণফোরামের প্রার্থী নাজমা আক্তার, আপেল প্রতীকের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী নাহিদ হাসান চৌধুরী জুনায়েদ ও কাঁচি প্রতীকের বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী খন্দকার মিজানুর রহমান।
এই প্রার্থীদের মধ্যে গণফোরামের নাজমা আক্তার। নির্বাচনী এলাকায় ব্যানার নেই কেন—এমন প্রশ্নে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘অন্যদের মতো আমাদের সামর্থ্য এত বেশি নেই।’