
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে মো. সামসুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি বলেছে, যিনি এত দিন বিএনপির এজেন্ডা বাস্তবায়নে সোচ্চার ছিলেন, তাঁর অধীন কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ রোববার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় অতিরিক্ত সচিবের প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, অবসরের পর প্রত্যক্ষ বিএনপির রাজনীতিতে জড়ানো ৬৭ বছর বয়সী একজন ব্যক্তিকে আবারও স্পর্শকাতর এ প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে গোলাম পরওয়ার বলেন, সামসুল আলম অতীতে প্রকাশ্যে বিএনপির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তিনি অবসরের পর বিএনপির একটি নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি চরম প্রতারণা।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও দাবি করেন, এই নিয়োগকে বিএনপির অফিশিয়াল মিডিয়া সেল প্রচার ও উদ্যাপন করছে। তাঁর ভাষ্য, এ ঘটনা নির্বাচন কমিশনকে আবারও বিএনপির আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চক্রান্তের প্রমাণ দেয়।
জামায়াত অবিলম্বে এই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সর্বজনগ্রাহ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
গ্যাস-সংকট নিয়ে উদ্বেগ
এদিকে পৃথক এক বিবৃতিতে দেশের চলমান গ্যাস-সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াত। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবৃতিতে বলেন, দেশের নাগরিকেরা এলপিজি ও সিএনজি গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগছেন। এর ফলে নাগরিকদের বাসাবাড়িতে দৈনন্দিন রান্নাবান্না, সিএনজিচালিত গাড়ি ব্যবহার এবং কলকারখানায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গ্যাস–সংকটের জন্য অবৈধ গ্যাস–সংযোগ এবং সরকারের অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সিন্ডিকেট অনেকাংশে দায়ী বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা কোনো মহল করছে কি না, তা–ও খতিয়ে দেখার দাবি জানান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বিবৃতিতে নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধান, বিদ্যমান কূপ থেকে উত্তোলন বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত গ্যাস-সংকট নিরসনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।