
দেশ এখনো পুরোপুরি ফ্যাসিস্টমুক্ত হয়নি বলে মনে করেন সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। এই ধারণার পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেছেন, ফ্যাসিবাদী কাঠামো এখনো চিহ্নিত করে ধ্বংস করা সম্ভব হয়নি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রেও এখনো সেই পুরোনো কাঠামোর প্রভাব বিদ্যমান।
এই কাঠামো ভাঙতে সাংবাদিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ফরিদা আখতার। আজ সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান: গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব, ত্যাগ ও দুঃসাহসিক স্মৃতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
আলোচনায় জুলাই আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করেন ফরিদা আখতার। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কারণে আজকে যদি বিচার আদৌ করতে পারে, তাহলে এই ফুটেজগুলো আপনাদেরই করা রিপোর্টগুলো হয়তো কাজে লাগবে। কারণ, ডকুমেন্টেশন একমাত্র আপনারাই করে দিয়েছেন।’
উদাহরণ হিসেবে ফটো সাংবাদিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে ফরিদা আখতার বলেন, ইয়ামিনকে যেভাবে পুলিশের এপিসি থেকে ফেলে দেওয়া হচ্ছিল, সেই ছবি সাংবাদিকেরা তুলেছিলেন বলেই আজ শহীদ পরিবার বিচার পাওয়ার আশা করতে পারছে। এ ছাড়া আবু সাঈদের ছবি ও ভিডিওগুলোও সাংবাদিকদের মাধ্যমেই মানুষের কাছে পৌঁছেছে, যা আন্দোলনকে বেগবান করেছিল।
সাহসী সাংবাদিকতার জন্য এখনো যথাযথ স্বীকৃতি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের স্বীকৃতি না দিলে আমাদের সাংবাদিকতা অপূর্ণ থেকে যাবে।’
আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন আয়োজক এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান। জুলাই গণ–অভ্যুত্থান ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ‘শেখরাজ্য’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান সফল না হলে দেশের বেশ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল ও শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র বন্ধ করে দেওয়া হতো। বহু সাংবাদিক গুম, কারাবন্দী ও নির্যাতনের শিকার হতেন। শুধু তা–ই নয়, আনুষ্ঠানিকভাবে হাসিনা পরিবারের “শেখতন্ত্র” বা “শেখরাজ্য” প্রতিষ্ঠা করা হতো।’
জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, সংসদে শুধু জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনা করলেই চলবে না; নির্বাচন কমিশনে চুক্তিভিত্তিক অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ, রাষ্ট্রায়ত্ত করপোরেশনগুলোতে দলীয় নিয়োগ এবং সরকারি দল হিসেবে বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফা থেকে সরে আসার বিষয়েও প্রশ্ন তুলতে হবে।
আলোচনা সভার শুরুতে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ ছয়জন সাংবাদিককে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং তাঁদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন, আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, দ্য ডিসেন্ট-এর সম্পাদক কদরুদ্দীন শিশির, সাংবাদিক রাজীব আহাম্মদ, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, এ বি এম খালিদ হাসান ও নাসরীন সুলতানা মিলী।