স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বেশ খানিকটা জটিল জায়গা। এই মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনের চেয়ে টাকার বরাদ্দ কম, দুর্নীতি বেশি। এখানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে দক্ষতাই যথেষ্ট নয়, দরকার প্রজ্ঞার। ধরা যাক, টাকা আছে এক শ কোটি। এই টাকা দিয়ে একটি হাসপাতাল ভবন তৈরি করা ভালো, নাকি দেশের সব শিশুর জন্য কোনো একটি সুরক্ষাবড়ি কেনা উচিত। এ রকম ছোট–বড় অসংখ্য টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে ছোটাছুটি করতে হয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে।
এবার এই ছোটাছুটির দায়িত্ব পেয়েছেন ৭৪ বছর বয়সী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল নামে বেশি পরিচিত। বিএনপির প্রার্থী হয়ে এবারের নির্বাচনে নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাব) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে আজ মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে শপথ নেন। এরপর দপ্তর বণ্টনে দেখা যায়, মন্ত্রী হিসেবে সরদার সাখাওয়াত পেয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার মধ্যে আছে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা, এক লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ দেওয়া, প্রাথমিক স্বাস্থ্য জোরদার করা। এ ছাড়া স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনেও গুরুত্বপূর্ণ করণীয়র সুপারিশ আছে। সরদার সাখাওয়াত হোসেন অতীতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব পালন না করলেও তিনি করিতকর্মা ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
এ পর্যন্ত মোট চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন। পঞ্চম, ষষ্ঠ (ফেব্রুয়ারি) ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি জয়ী হয়ে সংসদে বসেন। তিনি নরসিংদী জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এবং মনোহরদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক কারণে তিনি একাধিকবার কারাভোগ করেছেন।
সরদার সাখাওয়াত হোসেনের জন্ম ১৯৫১ সালে নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার চালাকচর ইউনিয়নের হাফিজপুর গ্রামে। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী তিনি।
হলফনামায় সাখাওয়াত উল্লেখ করেন, তাঁর ইটের ব্যবসা আছে। ব্যবসা থেকে বছরে তাঁর আয় হয় ১৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া বাড়িভাড়া পান প্রায় ১০ লাখ টাকা, কৃষিজমি থেকে আয় হয় দেড় লাখ টাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা পান আড়াই লাখ টাকা।
প্রায় ৫০ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য হলফনামায় দিয়েছেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন, যার বর্তমান মূল্য ৮৫ লাখ টাকা। তাঁর স্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ টাকা, বর্তমান মূল্য ১৬ কোটি টাকা।