
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বাজেটে ৬১টি নিত্যপণ্যে কর কমানো ও প্রত্যাহারের প্রতিফলন তাঁরা বাজারে দেখতে চান। প্রতিফলন বাজারে দেখলে বোঝা যাবে যে সুফল জনগণের জন্য। আর বাজারে এর প্রতিফলন দেখা না গেলে বুঝতে হবে যে এটা সিন্ডিকেটের জন্য।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে বাজেট–পরবর্তী মতবিনিময় সভায় বিরোধীদলীয় নেতা এ কথা বলেন। কালোটাকা সাদা করার সুযোগ বাদ দেওয়া, মুদিদোকানের মতো প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ওপর কর প্রস্তাব বাদ দেওয়াকে স্বাগত জানান তিনি।
অর্থবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর করার দাবি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে একটা দানব আছে; উন্নয়নের দানব। এটা নয় মাস কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমায়, শেষের তিন মাস গা ঝাড়া দিয়ে চলে আসে। ঝড়ের গতিতে কাজ শুরু করে। ৯ মাসে ৪২ শতাংশ, তিন মাসে ৫০ শতাংশ। তখন বৃষ্টি-ঝড়ে জনগণের টাকা পানির সাথে মিশে যায়—লুটপাট, অপচয়, হজম। তার কোনো যৌক্তিকতা নাই।’
দেশের আবহাওয়া অনুযায়ী অর্থবছর নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘তাহলে অন্তত শেষ তিন মাসে দৈত্যটার ঘুম ভাঙলেও আমাদের সম্পদ পানি হয়ে হারিয়ে যাবে না, ভেসে যাবে না।’
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাজেট বাস্তবায়নে সক্ষমতা ও দুর্নীতি বড় চ্যালেঞ্জ। এ দুটি ক্ষেত্রে সংস্কার আনা না গেলে বাজেটের প্রকৃত সুফল জনগণ পাবে না।
‘সংসদে বিরোধী দল দায়িত্বশীল আচরণ করতে চায়’ মন্তব্য করে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের সমস্যা ও তার সমাধান এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে সংসদে কথা বলতে হবে। কাদা–ছোড়াছুড়ি ও চরিত্রহনন বাদ দিয়ে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সংসদ পরিচালিত হলে সেটিই হবে প্রকৃত অর্থে জনগণের সংসদ।
অনেকে তাঁদের সংসদ ‘গরম’ করার জন্য বলেন জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ৫৪ বছরের তাপে দেশ অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন সে তাপ ঠান্ডা করে জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার সময়। তাই বিরোধী দল কোনো উসকানিতে পা দেবে না। বিরোধী দলের ভূমিকা হবে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক। নরমও নয়, গরমও নয়।
বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক মিত্রতা দীর্ঘদিনের। এখন জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করছে। দেশের রাজনীতিতে একটি জনপ্রিয় শব্দ আছে ‘তলে তলে অনেক কিছু হয়’—এ রকম কিছু হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের কোনো তলা নাই, আমাদের গলা আছে।’ রাজপথের আন্দোলন সরকারের সঙ্গে সমঝোতা কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো সমঝোতার আন্দোলন নাই।’
জুলাই জাদুঘর ও জুলাই ফাউন্ডেশনের জন্য বাজেটে কিছু নেই উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘জুলাই কি হারিয়ে যাবে? জুলাই না থাকলে আমরা কোথায়? এই সংসদ কোথায়? এই সরকার কোথায়?’
সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকারের প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটিতে নাম দেওয়া প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তাঁরা সংস্কার পরিষদের জন্য তৈরি। সংবিধান সংশোধনের জন্য আলাদা কমিটি বা কমিশন গঠন করা লাগে না।
বিরোধীদলীয় সদস্যদের আসনে বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে ছিল জুলাই-আগস্টের গণ–অভ্যুত্থান। তাঁরা আশা করেন যে ভবিষ্যতে কোনো বৈষম্য হবে না।
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা চান, তিস্তা প্রকল্পের বাস্তবায়ন হোক। বাংলাদেশ জাতীয় স্বার্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে, এতে বন্ধুরা কেউ নাখোশ হবে না।
বাংলাদেশ প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে আরেকজন কেন নাখোশ হবে? এমন প্রশ্ন রেখে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কেউ কারও অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে নাক গলাব না, হস্তক্ষেপ করব না। স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি সকল দেশের থাকুক, আমরা সম্মান করি—শুধু বাংলাদেশের না, আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সম্মানের দৃষ্টিতে দেখি, দেখতেই থাকব। তাদের কাছ থেকেও আমরা আমাদের প্রাপ্য সম্মান আমরা পেতে চাই।’
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অন্যদের মধ্যে দলটির নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম, মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সাইফুল আলম খান, মো. নাজিবুর রহমান; সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম মাসুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমদ হানজালা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।