পান বিক্রেতাকে আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবিরের টাকা দেওয়ার দৃশ্য
পান বিক্রেতাকে আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবিরের টাকা দেওয়ার দৃশ্য

জামায়াতের ভোটের প্রচারের সময় টাকা দিলেন শাহরিয়ার, মানবিক কারণের কথা বললেন তিনি

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবিরের একটি ভিডিও ফুটেজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা–সমালোচনা চলছে। ওই ভিডিওতে তাঁকে ভ্রাম্যমাণ বয়োজ্যেষ্ঠ এক পান বিক্রেতার হাতে এক হাজার টাকার নোট গুঁজে দিতে দেখা যায়।

ওই টাকা দেওয়ার সময় শাহরিয়ারের হাতে ভোটের প্রচারপত্র ছিল। ঘটনাটি গত শনিবার রাজধানীর মিরপুরের। জামায়াতে ইসলামীর আমির ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচন করছেন। এ বিষয়ে আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির নিজেই গতকাল সোমবার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে বলেছেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে তিনি ওই টাকা দান করেছিলেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, ওই দোকানির কাছে শাহরিয়ার কবির জানতে চান, ব্যবসা কেমন হচ্ছে? তখন তিনি উত্তর দেন, ‘মোটামুটি’। তখন শাহরিয়ার কবির বলেন, মোটামুটি কেন? উত্তরে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি ভালা না। সবাই ভয়ের মধ্যে আতঙ্ক, কোন বেলা কী করে বয়।’ শাহরিয়ার বলেন, ‘কী ভয়, আমরা তো আপনাদের জন্যই।’ তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘নতুন সরকার আইলে কওন যাইব। এখন সরকার নাই বুঝেন না।’

ঘটনাটি নিয়ে এ এস এম শাহরিয়ার কবিরের ফেসবুক পোস্ট।

ভিডিওতে শাহরিয়ার কবিরকে বলতে শোনা যায়, সরকার কোনটা ভালো? তখন ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আইলে তো কওন যাইব (কোনটা) ভালা। আমি চাই দেশ ভালা চলুক’। শাহরিয়ার বলেন, ‘সে কাগ (কাকে) দিয়া ভালো চলবে ইনশা আল্লাহ?’ একপর্যায়ে শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘আমরা মুসলমান। আল্লাহ ছাড়া আর কারও ক্ষমতা আছে ভালো করার?’ এ সময় ওই ব্যক্তিকে তিনি আরও জিজ্ঞেস করেন, ‘রিজিকের মালিক কে? আপনার সঙ্গে এই মুহূর্তে আমার দেখা হবে, এটার মালিক কে?’ উত্তরে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আল্লাহ’। তখন শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘তাহলে সে যেটা বলছে, তার বাইরে গিয়ে দেশ চললে ভালো হবে?’ ‘আর কয় দিন বাঁচবেন? কবরে বেশি দিন, না দুনিয়ায় বেশি দিন?’ উত্তরে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘কবরে বেশি দিন।’ এ সময় শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘তাহলে কোন জায়গায় ভালো থাকতে হবে?’ ওই ব্যক্তি উত্তরে বলেন, ‘কবরে’। উত্তরে শাহরিয়ার বলেন, ‘কবরে ভালো থাকতে হবে, তাইলে ওই ব্যবস্থা করতে হবে। তাই না।’ ভিডিওতে দেখা যায়, এই আলাপচারিতার শেষে শাহরিয়ার কবির সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় ওই ব্যক্তির হাতে এক হাজার টাকার নোট গুঁজে দেন।

এ ঘটনার বিষয়ে সোমবার রাত ৮টা ২২ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন এ এস এম শাহরিয়ার কবির। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি গত শনিবারে মিরপুর এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে জামায়াতের সমর্থনে গণসংযোগকালে একজন পান ও সিগারেট বিক্রেতার সাথে আমার সাক্ষাৎকালে জানতে পারি যে তার সারা দিন তেমন বেচাবিক্রি হয় নাই, এবং আমি সবার সম্মুখে ক্যামেরার সামনে এক হাজার টাকা দান করি মানবিক দিক বিবেচনা করে।’

ফেসবুক স্ট্যাটাসে শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘ওই একই স্থানে আমি বাচ্চাদের র‍্যাকেট কেনার কিছু টাকা গিফট করি এবং মিডিয়াকে আমি স্পষ্টভাবে বলি, এই মানবিক সাহায্যকে আপনারা অন্যভাবে দেখবেন না বা দেখার সুযোগ নেই। বাচ্চাদের র‍্যাকেট খেলার ভিডিওটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে সাড়া ফেলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে জুলকারনাইন সায়ের খান এবং বিভিন্ন গণমাধ্যম এই মানবিক সাহায্যকে অন্যভাবে প্রচার করার হীন চেষ্টা করিয়াছেন। আমি অত্যন্ত মর্মাহত ও শোকাহত এরূপ দুর্বৃত্তায়নের জন্য।। ইনশা আল্লাহ, আল্লাহ আমাকে ও সকলকে এমন দুর্বৃত্তায়নের হাত থেকে রক্ষা করুক। তারপরও মানুষ হিসেবে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’

নির্বাচনী আচরণবিধিতে কী বলা আছে

নির্বাচনী আচরণবিধিতে বলা আছে, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী কিংবা তাঁর পক্ষ হতে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন-পূর্ব সময়ে ওই প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ওই এলাকা বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে প্রকাশ্যে বা গোপনে কোনো প্রকার চাঁদা বা অনুদান বা উপঢৌকন দিতে বা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে না।

জানতে চাইলে এ বিষয়ে ঢাকা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও ঢাকা–১৫ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী সোমবার রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ভোটের উদ্দেশ্যে এমন অর্থ দেওয়া সঠিক নয়। তিনিও ভিডিওটি সোমবার দেখেছেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা বা বিচার করার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটির।