
বিদ্যুৎ খাতের সব অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সরকারের উচিত ছিল বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম, দুর্নীতি, সিস্টেম লস, ক্যাপাসিটি চার্জের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট বন্ধ করা। তা না করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে গোলাম পরওয়ার এ কথা বলেন। দফায় দফায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণ শাখা।
গোলাম পরওয়ার বলেন, বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেছিলেন আগামী দুই বছরের মধ্যে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না। তিনি বলেন, ‘দুই বছরের মধ্যে আপনি দাম বাড়াবেন না কথা দিলেন, তিন মাসের মধ্যেই দাম বাড়ালেন। সামনের পাঁচ বছরে জনগণের রক্ত চুষে আপনারা হয়তো খেয়ে ফেলবেন। সে ব্যাপারে জনগণ কিন্তু আতঙ্কিত।’
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি কমিটি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর ভোগান্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।
অর্থমন্ত্রীর সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আমির খসরু সাহেব আইএমএফের শর্ত পূরণ করার জন্য বৈঠক করেন। আইএমএফ শর্ত দিয়েছে বিদ্যুতের দাম বাড়াও। বিশ্বব্যাংক আর আইএমএফের কাছে আমরা তো কোনো দাসখত দিইনি, আমরা তাদের গোলাম না। তাদের কথায় আপনি বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি করে জনগণের দুঃখ, কষ্ট, দুর্ভোগ আবার বাড়িয়ে দিয়েছেন।’
এ সময় ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক আগে এস আলম গ্রুপ লুটপাট করে খেয়েছে। এখন সরকার তাদের ঘাড়ে উঠে লুটপাট করতে চায়। সেদিকেই মনোযোগ, জনগণের দিকে তাদের কোনো মনোযোগ নেই।’
সরকারের সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘পাঁচ বছর অনেক সময়, তিন মাসেই যা অবস্থা... মন্ত্রীরা যেখানেই যাইতেছেন সাধারণ জনগণ বলে ভুয়া, ভুয়া, ভুয়া...। তো তিন মাস যেতে পারেনি পাবলিক যদি ভুয়া ভুয়া বলে, আরও সামনের দিনে কী হবে তার জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ইয়াসিন আরাফাত প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পুরানা পল্টন মোড়, বিজয়নগর, কাকরাইল হয়ে শান্তিনগরে গিয়ে শেষ হয়।