
রাজধানীর মিরপুর–১০ নম্বরে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের নারী কেন্দ্রে আজ বৃহস্পতিবার সকালে ভোট দিতে আসেন ভোটার কামরুন নাহার। নির্বাচন কমিশনের অ্যাপ দেখে ভোটকেন্দ্র সম্পর্কে তথ্য জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু সকাল আটটায় কেন্দ্রে যাওয়ার পর কর্তব্যরত কর্মকর্তারা তাঁকে বলেন, সেখানে তাঁর সিরিয়াল নম্বর নেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নারী কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা তনয় রায় প্রথম আলোকে বলেন, স্কুল ভবনের দোতলায় একটি বুথ চালু করে অ্যাপে কেন্দ্র দেখে নম্বর খুঁজে না পাওয়া ভোটারদের ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
কামরুন নাহারকে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হলেও মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের নারী কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা অনেক ভোটারই পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেছেন।
মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের অবস্থান ঢাকা–১৬ আসনে। এ প্রতিষ্ঠানে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা দুটি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। সেখানকার নারী কেন্দ্রে ভোট দিতে এসেছিলেন গৃহবধূ সোনিয়া আফরিন। তিনি বলেন, ২০২৪ ও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে পারেননি। এবারের নির্বাচনে খুব সহজেই তিনি তাঁর ভোট দিতে পেরেছেন।
ঢাকা–১৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির আমিনুল হক ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ১১ প্রার্থী ওই আসন থেকে নির্বাচনে লড়ছেন।
আজ সকাল থেকেই মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটে নারী ও পুরুষদের লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। এই স্কুলে দুই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা বলেন, এখানে নারী ও পুরুষ কেন্দ্রে মোট ভোট রয়েছে ৬ হাজার ৫৪০টি।
নারী কেন্দ্রের ভোটার কামরুন নাহার প্রথম আলোকে বলেন, সকাল আটটার দিকে তিনি এখানে ভোট দিতে আসেন। ভোট দিতে পেরে খুশি তিনি।
সকাল আটটার পর পুরুষ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোহাম্মদ ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, এর আগে তিনি প্রতিবার ভোট দিতে আসতেন। কিন্তু ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তিনি ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। তখন ভোট না দিয়েই তাঁকে বাসায় ফিরে যেতে হয়েছে।
ঢাকা–১৬ আসনে ১১ প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউটের নারী ও পুরুষ ভোটকেন্দ্রে ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টদের দেখা যায়। অন্য প্রার্থীদের এজেন্টদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নারী ও পুরুষ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশিক শাহরিয়ার ও তনয় রায় প্রথম আলোকে বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট নেওয়া যাচ্ছে।
কেন্দ্রের সামনে পুলিশ ও আনসার ব্যাটালিয়নের সশস্ত্র সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। কেন্দ্রটিতে দেশি–বিদেশি পর্যবেক্ষকদের পরিদর্শন করতে দেখা যায়।