
সরকারকে শুধু মিরপুর ও কাফরুল নয়, সারা দেশের সমস্যার সমাধান করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করেন, দখলদারি বন্ধ করেন, দুর্নীতি বন্ধ করেন। বিভিন্ন জায়গায় মদ, মাদকের ব্যবসার সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের ধরেন। ইতিমধ্যে ঢাকায় যারা বড় অপকর্ম করেছে, তাদের শাস্তি দেন। একজন শাস্তি পেলেই বাকিরা ঠিক হয়ে যাবে। শাস্তি না দিলে ধরে নেব, এটির সঙ্গে সবাই জড়িত।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে জামায়াতের আমির এ আহ্বান জানান।
সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত চলাচলের উপযোগী রাখা জরুরি। তবে ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাঁদের জন্য উপযুক্ত বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে সেখানে ব্যবসার সুযোগ দিতে হবে। যাতে তাঁরা ব্যবসা করে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারেন।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘রাস্তা রাস্তার মতো থাকুক। পরিচ্ছন্ন থাকুক। রাস্তায় কোনো ব্যবসা না হোক। রাস্তা যানবাহন চলাচলের জন্য এবং ফুটপাত মানুষের হাঁটার জন্য। কিন্তু আমাদের সামাজিক শৃঙ্খলার অভাবে ফুটপাত ও রাস্তায় ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনাও ঘটছে।’
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, গ্রাম থেকে রাজধানীতে এসে অনেক মানুষ জীবিকার তাগিদে ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। কিন্তু এই ব্যবসাও তাঁদের জন্য স্বস্তির নয়। ঘাটে ঘাটে তাঁদের বিভিন্ন পর্যায়ে চাঁদা দিতে হয়। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে তাঁদের জন্য নির্ধারিত স্থানে ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।
চাঁদার কবল থেকে দেশ মুক্তি পাচ্ছে না উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম, এই সমস্যার টেকসই ও সমন্বিত সমাধান করতে হবে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দিতে হবে। সেখানে তাঁরা ব্যবসা করবেন, সিটি করপোরেশন যৌক্তিক হারে ট্যাক্স পাবে; কিন্তু কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। কিন্তু চাঁদার কবল থেকে বাংলাদেশ মুক্তি পাচ্ছে না। সম্প্রতি বড় বড় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটে গেছে।’
হকারদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, সমাজ সবার। শৃঙ্খলার বাইরে কোনো কাজ করবেন না। আজকে কিছু সরকারি যানবাহন পোড়ানো হয়েছে। এটা ঠিক হয়নি। যানবাহনের কোনো দোষ নেই। দোষ করলে ব্যক্তি করতে পারে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই যানবাহন কেনা হয়েছে। এটা নষ্ট করা যাবে না।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অনুরোধ, সবাই শান্ত থাকবেন। এটার একটা সুষ্ঠু সমাধান আশা করি বের করা যাবে। সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। ধৈর্য হারালে কোনো সমাধান নেই।’
জামায়াত আমির বলেন, মিরপুর এলাকাটি দুটি নির্বাচনী এলাকার মধ্য পড়েছে। এত বড় একটি অভিযান চালানোর আগে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হলে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে পৌঁছানো যেত। জনকল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে যে উদ্যোগ নেওয়া হোক না কেন, সেটার সঙ্গে যেন জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়। তাহলে বিশৃঙ্খলা থেকে মুক্ত থাকা যাবে।
এ সময় উপস্থিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মো. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিক ছিলেন।