হাইকোর্ট ভবন
হাইকোর্ট ভবন

কুমিল্লা ৪ ও ১০ আসন

আপিলে যাবেন বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান, গফুর ভূঁইয়ার রিটে আদেশ কাল

প্রার্থিতা ফিরে পেতে রিট খারিজ করে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করবেন কুমিল্লা–৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। অন্যদিকে প্রার্থিতা ফিরে পেতে কুমিল্লা–১০ আসনে (নাঙ্গলকোট) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আবদুল গফুর ভূঁইয়ার রিটের ওপর আদেশের জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন রেখেছেন হাইকোর্ট।

গফুর ভূঁইয়ার করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার আদেশের এ দিন ধার্য করেন।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা রিট সরাসরি খারিজ করে আদেশ দেন হাইকোর্টের একই বেঞ্চ।

বাছাইয়ে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেন একই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী ও দলটির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী (মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী) ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল নিয়ে ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইসি ভবনে শুনানি হয়। শুনানিতে আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসানের মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়। ইসির এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে মঞ্জুরুল আহসান গত সোমবার রিট করেন।

আপিল বিভাগে আবেদন করবেন মুন্সী

আদালতের আদেশের পর হাসনাত আবদুল্লাহর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসির সিদ্ধান্ত বহাল থাকল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি লড়তে পারছেন না, যদি না আপিল বিভাগে হাইকোর্টের ওই আদেশ বাতিল হয়।’

অবশ্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অন্যতম আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন প্রথম আলোকে বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, মো. রুহুল কুদ্দুস ও এ বি এম সিদ্দিকুর রহমান এবং আইনজীবী মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ মামুন ও আব্দুল্লাহ আল হাদী। হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সালাহ উদ্দিন দোলন, মোহাম্মদ হোসেন, সৈয়দ মামুন মাহবুব ও এহসান এ সিদ্দিক এবং আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা প্রমুখ। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. ফয়জুল্লাহ।

আবদুল গফুর ভূঁইয়ার করা রিট নিয়ে আদেশ কাল

আবদুল গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিক অভিযোগ করে ইসিতে আপিল করেছিলেন একই আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের প্রার্থী কাজি নুরে আলম সিদ্দিকি। ১৮ জানুয়ারি এ নিয়ে শুনানির পর আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করে ইসি।

প্রার্থিতা ফিরে পেতে ইসির এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে গত সোমবার রিট করেন আবদুল গফুর ভূঁইয়া। আবেদনের ওপর আজ বিকেলে শুনানি নিয়ে কাল বৃহস্পতিবার আদেশের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও মো. রুহুল কুদ্দুস এবং আইনজীবী নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম শুনানিতে ছিলেন। নুরে আলম সিদ্দিকির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন এবং আইনজীবী জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ও এ এস এম শাহরিয়ার কবির শুনানিতে ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. ফয়জুল্লাহ।

পরে ইসির আইনজীবী মো. ফয়জুল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, আবদুল গফুর ভূঁইয়ার করা রিটের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।

আইনজীবীর তথ্যমতে, গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের ইসির ১৮ জানুয়ারির সিদ্ধান্ত কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে রিটে। একই সঙ্গে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নিতে অনুমতি দেওয়ার প্রার্থনাও রয়েছে।