
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অন্যায় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে বলে মনে করে গণসংহতি আন্দোলন। সব মিত্রশক্তি ও বন্ধুদেশকে সঙ্গে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে এই যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসনের প্রতিবাদে ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বানে ডাকা এক সমাবেশে দলটির পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যে যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, সেই যুদ্ধের কোনো কারণ তারা বলতে পারছে না। এটা সম্পূর্ণ একটা অন্যায় যুদ্ধ। এই অন্যায় যুদ্ধে তারা আন্তর্জাতিক সব রীতিনীতি ভঙ্গ করে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে। তারা ইরানজুড়ে নানা ধরনের স্থাপনায় ও স্কুলে হামলা করে শত শত বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে। এর ফলে দুনিয়াব্যাপী মানুষের ওপর নতুন করে একধরনের সংকট চেপে বসবে।
আবুল হাসান রুবেল বলেন, ‘এই যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমাদের যে জ্বালানি আসে, তার ওপর একটা বিরাট চাপ পড়বে। আমাদের দেশের কর্মসংস্থানের দিকে একটা বিরাট চাপ পড়বে। কারণ, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ওপর এটার বিরূপ প্রভাব পড়বে।’
এই যুদ্ধে তিনজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন উল্লেখ করে গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাই, সব বাংলাদেশিকে যাতে নিরাপদ করা যায়, তার জন্য যত দ্রুত সম্ভব তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন। এই অন্যায় যুদ্ধ যাতে চলতে না পারে। এই যুদ্ধ যাতে অবিলম্বে বন্ধ হয়। আমরা আহ্বান জানাই, বিশ্ব শান্তি যাতে প্রতিষ্ঠিত হয়, স্থিতিশীলতা যাতে জারি থাকে, তার জন্য সারা দুনিয়ায় আমাদের যেসব মিত্রশক্তি ও বন্ধুদেশ আছে, সবাইকে নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে শান্তির জন্য অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধের জন্য তাঁরা প্রচেষ্টা চালাবেন।’
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, আমজাদ হোসেন, আলিফ দেওয়ান, মনিরুল হুদা বাবন, আলিমুল কবীর, মাহবুব রতন, কেন্দ্রীয় পরামর্শক কমিটির সদস্য গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) মো. খালিদ হোসাইন প্রমুখ। সমাবেশের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শুরু হয়ে সংলগ্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।