
মিরপুর, শাহ আলী ও দারুসসালাম এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর পর থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এ আসনের প্রার্থী ও তাঁদের নেতা–কর্মীরা। প্রার্থীরা শুনছেন ভোটারদের নানা সমস্যা আর সংকটের কথা, সুযোগ পেলে সমাধানে কাজ করার আশ্বাসও দিচ্ছেন তাঁরা।
এই আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম (তুলি)। তিনি গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার নিয়ে গড়ে তোলা ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের সংগঠক। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি নিজে গুমের শিকার হয়েছিলেন। রাজধানীর এই আসন থেকে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ১২ জন প্রার্থী।
আজ শনিবার দিনভর প্রচার চালিয়েছেন সানজিদা ইসলাম। বিএনপির দলীয় নির্বাচনী স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবুজ, পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ঢাকা-১৪’ স্লোগানে বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে প্রচারপত্র নিয়ে ভোটারদের কাছে যান এই প্রার্থী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।
প্রচারের সময় বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে উন্নয়ন ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সানজিদা ইসলাম গণসংযোগ করেন। সকাল থেকে মিরপুরের রূপনগর ও কুসুমবাগ এলাকায় গণসংযোগ করেন তিনি। তবে প্রচারকাজ শুরুর আগে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি জয়ের বিষয়ে আশাবাদী বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘যাঁরা জাতীয়তাবাদী দল ও ধানের শীষকে ভালোবাসেন, তাঁদের সাড়া পাচ্ছি, সাধারণ মানুষের সাড়া পাচ্ছি।’
ভোটাদের পক্ষ থেকে জননিরাপত্তা, দুর্নীতি, দখল, চাঁদাবাজির অভিযোগ আসছে জানিয়ে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, তিনি দায়িত্ব পেলে এসব বন্ধে কাজ করবেন। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পিছিয়ে পড়া এলাকাগুলোর উন্নয়নে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজ করবেন। এ ছাড়া যানজট নিরসন, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং নাগরিকদের কাছে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ নিয়মিত রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজের কথাও জানান সানজিদা ইসলাম।
সবার চাওয়া একটাই, পরিবর্তন
মিরপুরের পাইকপাড়ার ডি টাইপ কলোনির নতুন মসজিদে মাগরিবের নামাজ আদায়ের পর গণসংযোগ শুরু করেন মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। এরপর তিনি কল্যাণপুরে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে দুটি উঠান বৈঠক করেন।
নারী, তরুণ ও শ্রমজীবী ভোটারদের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন উল্লেখ করে জামায়াতের এই প্রার্থী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সবার চাওয়া একটাই, পরিবর্তন।’ ভোটাররা নতুন বাংলাদেশ চান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাঁরা নতুন বাংলাদেশ চান, কালো টাকার প্রভাবমুক্ত, পেশিশক্তির ব্যবহারমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, মাদকমুক্ত, জবাবদিহিমূলক, ইনসাফভিত্তিক সমাজ চান।’
জয়ের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে এই প্রার্থী বলেন, ‘মানুষ যেহেতু মুখিয়ে আছেন, আমরা যেহেতু জুলাই সনদের বিষয়ে আপসহীন, সেহেতু পরিবর্তনের জন্য মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নেবেন, ইনশা আল্লাহ।’ বিজয়ী হলে নাগরিকদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা এবং এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন বলেও জানান তিনি।