সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা। সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা; ২৪ জুন ২০২৬
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা। সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা; ২৪ জুন ২০২৬

পদত্যাগ নিয়ে জামায়াতপন্থী আইন কর্মকর্তাদের বক্তব্য ‘পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি’: বিএনপি নেতা বদরুদ্দোজা

আইন কর্মকর্তার পদ থেকে পদত্যাগের কারণ উল্লেখ করে জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা ‘টোটালি পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি’ (পুরোপুরি রাজনৈতিক লোক দেখানো কর্মকাণ্ড) বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক এম বদরুদ্দোজা। তিনি বলেন, পদত্যাগের কারণ হিসেবে তাঁরা কিছু রাজনৈতিক বিষয় সামনে এনেছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত।

বুধবার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বর্ধিত ভবনের সামনে এক ব্রিফিংয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম বদরুদ্দোজা এসব কথা বলেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার সাতজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) ও ১১ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) একযোগে পদত্যাগ করেন। তাঁরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-সমর্থক আইনজীবী হিসেবে পরিচিত। পদত্যাগের পর এক ব্রিফিংয়ে তাঁরা জানান, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করা, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় না করা এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রতিবাদে তাঁরা পদত্যাগ করেছেন।

ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে বুধবার এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করেন বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক এম বদরুদ্দোজা। এ সময় তাঁর সঙ্গে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট শাখার সদস্যসচিব গাজী তৌহিদুল ইসলাম, আইনজীবী জামিল আক্তার এলাহী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এম বদরুদ্দোজা বলেন, দেশের ইতিহাসে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইন কর্মকর্তারা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। অতীতে দেখা গেছে, নির্বাচনের পর অন্য দল ক্ষমতায় এলে সরকারদলীয় আইন কর্মকর্তারা পদত্যাগ করে থাকেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই আইনজীবী বলেন, ‘ইন্টারেস্টিং (মজার) বিষয় হলো, আমাদের যে বন্ধুরা গতকাল পদত্যাগ করেছেন, তাঁরা এই সরকারের অধীন আইন কর্মকর্তা হিসেবে চার মাস কাজ করেছেন। বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, পদ-পদবি ব্যবহার করেছেন। চার মাস পর তাঁদের মনে হলো পদত্যাগ করা দরকার অথবা তাঁরা অপসারিত হবেন—এ জন্য তাঁরা কিছু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে এসেছেন, যা খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। তাঁদের এই বক্তব্য পুরোপুরি পলিটিক্যাল (রাজনৈতিক) স্টান্টবাজি ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত, যেটা আমরা প্রত্যাশা করিনি তাদের কাছ থেকে।’

বিএনপির আইনবিষয়ক সম্পাদক আরও বলেন, ‘এখন আমি অ্যাটর্নি জেনারেলকে আপনাদের মাধ্যমে বলতে চাই, এই চার মাস যে তাঁরা কাজ করলেন, তাঁরা সরকারের পক্ষে কাজ করেছেন, নাকি সরকারের বিপক্ষে স্যাবোটাজ (অন্তর্ঘাত) করেছেন? এই চার মাসের যতগুলো ফাইল ছিল, সবগুলো ফাইল যেন তাঁরা একটু খোঁজখবর নিয়ে দেখেন। কারণ সরকারের কাছ থেকে বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা সব নিয়ে চার মাস কাজ করে দিন শেষে পদত্যাগ করে আবার সরকারের বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন। এতে অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসে সরকারের স্বার্থরক্ষার জন্য তাঁরা কাজ করেছেন বলে আমাদের কাছে মনে হয়নি। কাজেই সরকারের বিরুদ্ধেই মনে হয় কাজ করেছেন। এ জন্য রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত হয়ে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তাঁরা এনেছেন; যেটা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—এটা তাঁদের বক্তব্যেই উঠে এসেছে।’