
রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় বর্তমান সরকারি দলের লোকজন, নেতা ও ‘গডফাদারদের’ হাত থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘মানুষ ধারণা করতে বাধ্য হচ্ছে, এর পেছনে বর্তমান সরকারি দলের লোকদের, নেতাদের, গডফাদারদের হাত আছে।’
আজ সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিন দিন আগে রাতে সেন্টারটিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সেন্টারে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত খুঁজে বের করে শাস্তির দাবি জানান জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, ‘দুই থেকে আড়াই শ লোক এই অপকর্ম করল, তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না? দীর্ঘ সময় ধরে করল, তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না? এগুলো সব রহস্যজনক।’
সরকারের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, অর্ধশতাব্দী ধরে মানুষের সেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তায় শক্তিশালী কাঠামো গড়ে দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দুর্বৃত্ত সেখানে হাত দিতে না পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সামাজিক অপকর্ম করার সুযোগ না পায়, হামলাকারীদের এমন শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
রাড্ডা সেন্টারের সেবা কার্যক্রম চালু করতে প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ টাকা অনুদানের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, সেন্টারের ছয় সদস্যের ট্রাস্টি বোর্ডের সঙ্গে বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। অনুদানের এই টাকা দিয়ে ভাঙা স্থাপনা কিছুটা সংস্কার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কিনে মা ও শিশুদের সেবা কার্যক্রম চালু করার চেষ্টা করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গত কয়েক দিনে ঢাকায় কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। মোহাম্মদপুরে বাড়ি দখলের জন্য অস্ত্র হাতে হামলার অভিযোগ এবং ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু কারও সম্পদে ‘গুন্ডা-সন্ত্রাসীরা’ হাত দেবে, সেই সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনায় দলীয় রং দেওয়ার চেষ্টা না করে অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের আমির বলেন, ‘এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে আমার দলের লোক তো দূরের কথা, আমি নিজেও যদি জড়িত থাকি—আমাকে যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ক্ষমা না করে, আমাকেও যেন আইনের আওতায় নেয়।’
সরকারকে সতর্ক করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘নিশ্চয়ই সরকারি দলের আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এত বড় অপকর্ম করার সাহস কেউ করবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাছের গোড়ায় কেটে মাথায় পানি দেবেন, আপনারা এটা জনগণ দেখতে চায় না। সর্পদংশন করে ওঝার নাটক আমরা দেখতে চাই না।’