জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (বাঁ থেকে)
জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (বাঁ থেকে)

১১ দলের সমঝোতা

আসন সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াত

নির্বাচনী আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে ১১ দলের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।

নির্বাচনী সমঝোতাভিত্তিক ১১ দলে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। এর মধ্যে ছয়টি দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছে প্রথম আলো

নির্বাচনী আসন সমঝোতায় প্রথমে ছিল আটটি রাজনৈতিক দল। পরে এই সমঝোতায় যুক্ত হয় এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি। একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে আট দলের আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসনের দাবি তোলে। অন্য দলগুলোর দাবিও ছিল তুলনামূলক বেশি। তবে শেষ মুহূর্তে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হলে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের মধ্যে আসনসংখ্যা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।

আলোচনা চলমান আছে। শিগগিরই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে।
সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, নায়েবে আমির, জামায়াতে ইসলামী

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, ইসলামী আন্দোলনকে ৩৫ থেকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১১টি, খেলাফত মজলিসকে ৩টি, এবি পার্টিকে ৩টি, এলডিপিকে ২টি এবং বিডিপিকে ২টি আসন ছাড় দেওয়ার কথা জানায় জামায়াত। এমন পরিস্থিতিতে ইসলামী আন্দোলন এক পর্যায়ে সমঝোতার আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এসব ঘটনা গত ২৮–২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে ঘটে।

সমঝোতা হয়ে গেলে প্রতিটি আসনে ১১ দলের একজন করে প্রার্থী থাকবেন বলে প্রথম আলোকে জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন। তিনি বলেন, আসন সমঝোতার বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী।

ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনা চলছে

সমঝোতার আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায়ই জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে দলীয় প্রার্থী দেয়। এর পাশাপাশি এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।

সমঝোতার আলোচনা প্রায় শেষ হওয়ার পথে। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হতে পারে।
গাজী আতাউর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ইসলামী আন্দোলন

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আসন সমঝোতার বিষয়ে আগের চেয়ে নমনীয় ইসলামী আন্দোলন। গত বুধবার জামায়াতের সঙ্গে দলটির বৈঠক হয়েছে। প্রথম বৈঠকটি হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার বাসায়। ওই বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এ রকম বৈঠক আরও হবে। শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনকে আসন সমঝোতায় রাজি করানো যাবে বলে ওই সূত্রগুলো মনে করছে।

এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, সমঝোতার আলোচনা প্রায় শেষ হওয়ার পথে। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হতে পারে।

আলোচনা চলছে এনসিপির সঙ্গেও

১১-দলীয় নির্বাচনী সমঝোতায় এনসিপিকে ৩০টি আসনে জামায়াত ছাড় দেবে, এমন আলোচনা রয়েছে। তবে সারা দেশে ৩০০ আসনের মধ্যে এনসিপির ৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

এনসিপির দায়িত্বশীল দুজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, আলোচনা চলছে। আসনসংখ্যা ৩০-এর কম হতে পারে, এমন ইঙ্গিত জামায়াতের দিক থেকে দেওয়া হয়েছে। তবে এনসিপি ৩৫ থেকে ৪০টি আসন চাইছে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসন সমঝোতার বিষয়টা নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে অবিশ্বাস তৈরি করার জন্য। এনসিপির ৪৪টি মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। আমরা মনে করি, এনসিপি সমঝোতায় ৩০–এর বেশি আসন পাবে।’

সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত

নির্বাচন ও আসন সমঝোতা নিয়ে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বৈঠক করেছে। এই বৈঠকে দল মনোনীত প্রার্থীরা অংশ নেন। এই বৈঠকে দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছিলেন, সমঝোতার ধরন যা-ই হোক, নির্ধারিত কিছু আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অবশ্যই রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।

ওই বৈঠকের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতার সঙ্গে কথা বলেছিল প্রথম আলো। নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি সেদিন বলেছিলেন, তাঁদের লক্ষ্য ২৫-৩০টি আসন। ইতিমধ্যে ১৩টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত আসনে ছাড় না পেলে সমঝোতা না হওয়া অবশিষ্ট আসনে দলীয় প্রতীকে তাঁদের প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন।

আসন সমঝোতার বিষয়টা নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে।
আরিফুল ইসলাম আদীব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক, এনসিপি

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, শুরুতে আসন সমঝোতা নিয়ে ১১ দলভুক্ত কয়েকটি দলে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও নানামুখী আলোচনার পর এখন তা অনেকটাই কমে এসেছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার পর্যন্ত আরও প্রায় ১২ দিন আছে। ফলে সবার সঙ্গে আরও আলোচনার সুযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, আলোচনা চলমান আছে। শিগগিরই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে।