সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনে
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি সালাহউদ্দিন আহমদ। মঙ্গলবার সকালে সংসদ ভবনে

স্বরাষ্ট্রের গুরুভার সালাহউদ্দিনের ওপর

আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুমের শিকার সালাহউদ্দিন আহমদ জুলাই অভ্যুত্থানের পর দেশে ফিরে বিএনপির হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে সংস্কারের আলাপে দিয়েছিলেন নেতৃত্ব। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব পেলেন তিনি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শপথ নেন। নতুন মন্ত্রিসভায় সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ (৬৩) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার–১ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রথম নির্বাচিত হন। চার মাস পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় নির্বাচনেও নির্বাচিত হন তিনি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে সালাহউদ্দিন নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি, সেবার কক্সবাজার–১ আসন থেকে প্রার্থী হয়ে সংসদে যান তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদ।

তখন সালাহউদ্দিন ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্রেপ্তার হয়ে যাওয়ার পর সেই দায়িত্ব পালনের সময় সালাহউদ্দিন আহমদের গুম হয়ে যাওয়া ছিল আলোচিত একটি ঘটনা। ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা তাঁকে তুলে নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাঁকে উঠিয়ে নিয়ে যায় বলে বিএনপি অভিযোগ করে। দুই মাস পর ভারতের মেঘালয়ের শিলংয়ে সালাহউদ্দিনকে পাওয়া যায়। মেঘালয় পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, সালাহউদ্দিন শিলংয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরি করার সময় তাঁকে আটক করা হয়।

সালাহউদ্দিনকে আটকের পর বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। নিম্ন আদালতের রায়ে ২০১৮ সালে তিনি খালাস পান। ভারত সরকার এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি তাঁর রায়েও খালাস পান বিএনপির এই নেতা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট তিনি দেশে ফেরেন। গত বছরের ৩ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে গুমের অভিযোগ দেন তিনি।

২০২৪ সালের ১১ আগস্ট দেশে ফেরার পর সালাহউদ্দিন আহমেদকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী

সালাহউদ্দিন আহমদের জন্ম ১৯৬২ সালের ৩০ জুন। কক্সবাজারের পেকুয়ার সাঈদুল হক ও আয়েশা হকের ঘরে। সালাহউদ্দিন আহমদ উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম কলেজ থেকে। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন ১৯৮৮ সালে। ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী, তখন তাঁর সহকারী একান্ত সচিবের (এপিএস) দায়িত্ব পালন করেন তিনি। পরে সরকারি চাকরি ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০১ সালে খালেদা জিয়ার সরকারে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।

এবারের নির্বাচনী হলফনামা অনুসারে সালাহউদ্দিনের পেশা আইন পেশা ও ব্যবসা। তাঁর আয়ের উৎস হচ্ছে চাকরি, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও স্থাবর সম্পত্তি থেকে ভাড়া। তাঁর ১০ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেশি অস্থাবর ও ৭ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তাঁর হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রয়েছে ৩৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। তাঁর বছরে আয় ৬ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি।

হলফনামায় সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তিনি ৩৮টি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে পাঁচটি। তবে মামলাগুলো থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন কি না বা মামলার অন্যান্য বিবরণ নেই হলফনামায়।