অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস
অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস

অভিমত

সহিষ্ণুতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠাই সরকারের প্রধান কর্তব্য

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দমন, পীড়ন ও হত্যার প্রতিবাদে ছাত্র–জনতার প্রতিরোধ রূপ নেয় গণ–অভ্যুত্থানে। পতন হয় স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের। এরপর নানা পক্ষের দর–কষাকষির মধ্য দিয়ে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সেই সরকার বাংলাদেশের খোলনলচে বদলে দেবে, সেটা আশা করাই বরং ছিল আকাশকুসুম কল্পনা। সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে যাঁরা ডাক পেয়েছিলেন, তাঁরা হয়তো অনেকেই পেশাগত জীবনে সফল বা উচ্চ ডিগ্রিধারী, কিন্তু অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে গৎবাঁধা চর্চা ও চিন্তার বাইরে গিয়ে সমাজ বা রাষ্ট্রকে আমূল বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখার কিংবা দেখানোর সামর্থ্য তাঁদের ছিল না। তারপরও ওই সরকারকে আমরা আঁকড়ে ধরেছিলাম। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ২০২৪ সালের আগে বাংলাদেশের কোনো উত্থান-পতন বা সংকটের মুহূর্তে কখনো ভূমিকা নিতে না দেখলেও বহির্বিশ্বে তাঁর যে ভাবমূর্তি, সেটাকেই অনেকে ভূরাজনৈতিক সমীকরণে ঢাল হিসেবে গণ্য করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বের ওপর ভরসা রেখে মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিল।

কিন্তু ‘জুলাইয়ের স্বপ্ন’ বলে যদি কিছু থেকে থাকে, সরকার গঠনের পর মুহূর্ত থেকেই তা ধাক্কা খেতে শুরু করে। নতুন সরকারকে পাহাড় ঠেলতে হয়েছিল। দেড় দশকে জমা হওয়া বঞ্চনা আর নালিশ নিয়ে মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। দীর্ঘদিনের নিপীড়নের শৃঙ্খল ভেঙে নেমে আসা মানুষেরা বোধগম্যভাবেই অসহিষ্ণু ছিল। অনেকে এ–ও মনে করেন, কথায় কথায় অনেকের পথে নেমে আসার পেছনে ক্ষেত্রবিশেষে হয়তো পতিত রেজিমের কুশীলবেরাও মদদ জুগিয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারকে প্রথম দিন থেকেই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়েছে। তাদের সম্বল বলতে ছিল লুটপাটে ছিবড়ে হয়ে যাওয়া অর্থনীতি, দল ও গোষ্ঠীতন্ত্রে নুব্জ্য আমলাতন্ত্র এবং নির্বাহী বিভাগ। এসবের ওপর না করা গেছে ভরসা, না ছিল এসবের হাত থেকে রাতারাতি পরিত্রাণের উপায়।

ওই সময়ে শ্রমিক বা প্রাথমিক শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিদাওয়ার আন্দোলন নির্মম হাতে দমন করা হয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনের তরুণ তুর্কিরা ‘নয়া বন্দোবস্ত’–এর কথা বললেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো দেড় দশকের অপ্রাপ্তি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছিল। ফলে পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে যাওয়াটাই যেন হয়ে উঠেছিল নিয়তি। সরকারের মাধ্যমে নিজ দলের লোকদের নিয়োগ পাইয়ে দেওয়া কিংবা প্রয়োজনে পূর্বতন পদধারীকে টেনেহিঁচড়ে বের করে দিয়ে হলেও নিজেরাই গিয়ে আসন দখল করে ফেলা—এ ধরনের চর্চা লাগাতার চলছিল সচিবালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রত্যন্ত স্কুল-কলেজ অবধি।

২.

জনমনে অস্থিরতা বা জোড়াতালি দেওয়া প্রশাসন ইত্যাদির চেয়েও মাঠে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছিল অসহিষ্ণু রাজনীতি। গণ–অভ্যুত্থানের প্রথম আওয়াজটা ছিল বৈষম্যবিরোধিতা। অথচ এর উত্তরসূরি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সমাজে বৈষম্যমূলক আচরণই প্রকট হয়ে উঠল। অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের আগে স্বৈরশাসকের প্রতীক বা স্মারকের ওপর আক্রমণ হলেও এ কথা মানতেই হবে যে বাংলাদেশের জনগণ ও আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা ওই সময় সহিষ্ণুতা ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছিলেন। নইলে কার্যত সরকার ও থানা-পুলিশ-প্রশাসনবিহীন ওই কয়টা দিনে দেশ রক্তে ভেসে যেতে পারত।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বরং জনপরিসরে ক্রমে ক্রমে অসহিষ্ণুতা প্রকট হয়ে ওঠে। রাস্তাঘাটে নারী বা লিঙ্গবৈচিত্র্যের মানুষ আক্রান্ত হতে থাকল যত্রতত্র, আদিবাসীদের মিছিলে রক্ত ঝরল, মাজারে হামলা হলো, মারেফতপন্থীরা খুন হলো। সরকার চলে যাওয়ার আগমুহূর্ত পর্যন্ত এই সবকিছু চলল—যার শেষভাগে ছিল উদীচী, ছায়ানট, প্রথম আলো বা ডেইলি স্টার অফিসে হামলা। এর প্রায় সব ক্ষেত্রে উগ্রপন্থীদের প্রাধান্য ছিল। আর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার নিষ্ক্রিয় থেকেছে কিংবা মুখরক্ষার জন্য ‘ব্যবস্থা নিচ্ছি’ বা ‘নেব’ ভঙ্গি করেছে। তাতে দেশের রাজনীতিতে অসহিষ্ণুতার প্রপঞ্চ স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।

জুলাই–পরবর্তী সময়ে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির সরব উপস্থিতি দেখা গেছে। তাঁরা বলতে চেয়েছেন যে তাঁরা দীর্ঘ সময় জনপরিসরে উপেক্ষিত ছিলেন, মজলুম ছিলেন; তাঁদের কথা শোনা হয়নি। তাঁরা আদতে কোনো সমরূপ গোষ্ঠী নয়; আর সবাই যে আওয়ামী আমলে মজলুম ছিলেন, তা–ও সত্য নয়। একাত্তরে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে সংঠনগতভাবে অবস্থান নিলেও তাকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নানা সময়ে রাজনৈতিক মিত্র হিসেবে সঙ্গে রেখেছিল। আবার একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হলে জামায়াতই প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। অন্যদিকে হেফাজতের কাছে শেখ হাসিনার ‘কওমি জননী’ অভিধা প্রাপ্তিও বলে দেয় যে তাদের সম্পর্ক সব সময় তিক্ত ছিল না। কিন্তু মানতেই হবে যে শাপলা চত্বরের নৃশংসতা কিংবা সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরে আওয়ামী লীগ এবং তাদের বামপন্থী মিত্রদের বাঙালি বনাম ধর্মভিত্তিক রাজনীতির বাইনারি চর্চা নানা সময়ে মানুষের মনে তিক্ততার জন্ম দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে আওয়ামী লীগ যে তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে, বছরের পর বছর বামপন্থীদের একটি বড় অংশ হয় সেটি দেখতে পায়নি; নয়তো তা মেনে নিয়ে আওয়ামী শাসনের হাতকে শক্তিশালী করেছে। আওয়ামী শাসনে কোণঠাসা ধর্মভিত্তিক দল ও সংগঠনগুলো গণ–আন্দোলনে মরিয়া হয়ে অংশ নিয়েছিল। অভিন্ন রাজনৈতিক লক্ষ্য না থাকলেও অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে তাদের মাঠে দেখা যায়, নিজেদের মজলুম পরিচয়ের দাবিতে এবং ‘ইসলামের বিরুদ্ধে’ যেকোনো ‘ষড়যন্ত্র’ রুখতে তৌহিদি জনতা নামে তৎপর ছিল। যা কিছু তাদের কাছে ধর্মবিরোধী মনে হয়েছে, সেই চর্চা ও পরিচয়কে বল প্রয়োগ করে থামিয়ে দিতে চেষ্টা করেছে।

৩.

বামপন্থীরা যখন গণ–আন্দোলনে শামিল হয়, তখন কিন্তু তারা শহীদ আবু সাঈদ জামায়াতের কর্মী কি না, সেই সংশয়ে বিন্দুমাত্র বিচলিত হননি। অথচ অভ্যুত্থান–পরবর্তীকালে দক্ষিণপন্থার এহেন উচ্চকিত রাজনীতির বিপরীতে বাম ও প্রগতিশীল ঘরানার রাজনীতি যেন সেই বিশ্বাসেই ফিরে গেল যে যাঁরা ধর্মীয় রাজনীতি করেন, তাঁদের সঙ্গে কোনোভাবেই আলাপ সম্ভব নয়। আবার বামপন্থীরা যখন রাজনীতির মাঠে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে সামনে নিয়ে এল, জামায়াত বরাবরের মতোই নিজেদের দায় অস্বীকার করে চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছে। আওয়ামী লীগ যেমন নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য মুক্তিযুদ্ধকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে, জামায়াতও একইভাবে একাত্তরের দায় এড়ানোর জন্য ইসলামকে ব্যবহার করে। আওয়ামী লীগের ওই কৌশল নিয়ে মোটাদাগে বামেরা যেমন দীর্ঘদিন কোনো আওয়াজ তোলেনি, অপরাপর ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোও জামায়াতের ক্ষেত্রে একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করে নিশ্চুপ থাকে। ফলে স্বাধীন বাংলাদেশে চব্বিশের জুলাই অনেক রক্তের বিনিময়ে প্রথমবারের মতো বাইনারির রাজনীতি ঘোচানোর যে সুযোগ তৈরি করেছিল, তা আবার বন্ধ হয়ে গেল। ভিন্ন রাজনীতির মধ্যে আলাপের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পুরোনো বিভাজন ও ঘৃণার রাজনীতির ফিরে আসা জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় ক্ষতি।

এর দায় ডান-বাম সবার ওপরই বর্তায়। এরা উভয়েই জুলাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি, অথচ এখন তারা একে অন্যকে আওয়ামী শাসনের সুবিধাভোগী বলে পরস্পরের অবদানকে নাকচ করে, একে অন্যকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চায়। এর লক্ষণ দেখা গেল সম্প্রতি মেহেদী হকের একটি কার্টুন প্রকাশিত হওয়ার পর এনসিপি ও জামায়াতপন্থীদের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় এবং প্রথম আলোতে ফিরোজ আহমেদের ‘চব্বিশের কাঠগড়ায় বামপন্থী রাজনীতি’ প্রকাশিত হওয়ার পর বামপন্থী মহলের উত্তেজনায়। এসব ঘটনা সমাজে বিদ্যমান তীব্র অসহিষ্ণুতা ও আত্মসমালোচনার অভাবকে সামনে নিয়ে এল।

এই বিভাজন প্রসঙ্গে একটি বিষয় উল্লেখ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপন্থার ছাত্রনেতৃত্বের একাংশ আওয়ামী লীগের বানানো সেক্যুলার বনাম ধর্মভিত্তিক রাজনীতির পুরোনো বাইনারিকে যথাযথভাবেই প্রত্যাখ্যান করেছিল। তারা ইসলামকে দেশের সিংহভাগ মানুষের অন্যতম চেতনা হিসেবে গণ্য করে বুদ্ধিবৃত্তিক বা নীতি প্রণয়নের পরিসরে আলেম সমাজকে অন্তর্ভুক্ত করার কথাও ভেবেছিল। কিন্তু ধর্মের নামে মাঠে অসহিষ্ণুতার চর্চা শুরু হলে এবং তাতে মুখচেনা আলেমরাও শামিল হয়ে পড়লে আলাপের পথ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ল। পুরো প্রক্রিয়াটার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ল নির্বাচনী রাজনীতি। মধ্যপন্থার আওয়াজ তোলা এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট গঠনের প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে পড়ল। তাদের নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশের বিরোধিতা সত্ত্বেও দলটি ডানপন্থার দিকে হেলে পড়লে তাদের মধ্যপন্থার রাজনীতির সম্ভাবনা ক্ষীণতর হয়ে গেল।

৪.

ইতিমধ্যে একটি নির্বাচিত সরকার দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে। সরকার কী করছে, তা দেখার জন্য মানুষ তাকিয়ে আছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, জন্মলগ্ন থেকেই যে দলীয়করণের রাজনীতি বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল, তা এখনো চলমান। দলীয়করণ যোগ্য লোকের মূল্যায়ন করে না; সিন্ডিকেট, ধান্দাবাজ, চাটুকারেরা যোগ্যতরদের কোণঠাসা করে ফেলে। নতুন সরকারও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয়। মানুষ আরও লক্ষ করছে, সরকার মুখে মুখে জুলাই ও সংস্কারের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা বললেও কার্যত সংস্কার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি নেই। জুলাইয়ের নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারও প্রলম্বিত হচ্ছে। ব্যক্তি–গোষ্ঠীস্বার্থে তকমা, মবের রাজনীতি কিংবা প্রহসন ও প্রতিশোধের মামলা থেকে বেরিয়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

সরকারের সামনে অজস্র কাজ। অর্থনীতির চাকা ঘোরানো, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং সেগুলোকে স্বৈরাচারমুক্ত করা ইত্যাদি। প্রধানমন্ত্রী তাঁর আচরণে যে সহিষ্ণুতা দেখাচ্ছেন বা দেশনায়কসুলভ বার্তা দিতে চাইছেন, মধ্য বা তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃত্বে তার প্রতিফলন নেই। তাঁরা যেন পুরোনো ও চিরচেনা বন্দোবস্তেই থাকতে চাইছেন। অথচ গণ–অভ্যুত্থান সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলটিকে সবকিছু নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ এনে দিয়েছিল। বিএনপি অতীতেও জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, কিন্তু এবারে লেখক, শিল্পী, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মীদের যে ব্যাপক সমর্থন দলটি পেয়েছে, তাঁদের প্রত্যাশা, স্বপ্ন বা দেশপ্রেমকে তারা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হবে কি না—এ প্রশ্ন নিজেদের করতে হবে।

জন্মলগ্ন থেকেই বিএনপিতে নানা পন্থার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তাঁদের অনেকে একসময় বামপন্থার রাজনীতি করেছেন। দল হিসেবে বিএনপি কখনো বামঘেঁষা ছিল না, জামায়াতের সঙ্গে মিলেমিশে রাজনীতিও করেছে। জুলাইয়ের পরে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করে ডান-বামের বিভাজন ঘুচিয়ে বিএনপি মধ্যপন্থার রাজনীতির পরিসর গড়ে তুলতে পারে। তাদের শুধু মনে রাখতে হবে, এ দেশের মানুষ যার যার জীবনে যেমন ধর্মকর্ম করে, তেমনই অন্য ধর্মের মানুষের সঙ্গে বসে একসঙ্গে খায়, অন্যের সুখে-দুঃখে কাঁদে-হাসে। সে ওয়াজ শোনে, মাজারে যায়, যাত্রা দেখে, মেলায় ঘোরে। এমন একটা অপূর্ব দেশে সহিষ্ণুতার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করাই হতে পারে শাসকের প্রথম কর্তব্য।