মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম
মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম

সংসদে যাচ্ছেন এনসিপির মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মাহমুদা আলম মিতু। তাঁদের মধ্যে মনিরা সংসদে এনসিপির আসনের অনুপাতে পাওয়া একটি সংরক্ষিত আসনে মনোনীত হয়েছেন। আর মাহমুদা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের মনোনয়নে সংসদে যাচ্ছেন।

এনসিপির নীতিনির্ধারণী একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মনিরা ও মাহমুদাকে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হিসেবে সংসদে পাঠানোর বিষয়টি দলীয়ভাবে চূড়ান্ত হয়েছে। দুজনই আগামীকাল মঙ্গলবার শেষ দিনে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেবেন।

জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যে যুক্ত হয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় এনসিপি। ঐক্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এনসিপি ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ করা হয়েছে।

সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। ৩০০টি সংসদীয় আসনের অনুপাতে সংরক্ষিত আসন ভাগ হয়ে থাকে। অর্থাৎ সংসদে কোনো দলের ছয়টি আসন থাকলে তারা একটি সংরক্ষিত আসন পাবে। সেই হিসাবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপি জোট ৩৬টি, ১১–দলীয় ঐক্য ১৩টি আর স্বতন্ত্র সদস্যরা ১টি সংরক্ষিত আসন পাচ্ছেন।

১১–দলীয় ঐক্যের এই ১৩টি আসনের মধ্যে এনসিপির নিজস্ব আসন একটি, জামায়াতের ১১টি। আর ঐক্যের মোট আসনের অনুপাতে তারা আরও একটি আসন পেয়েছে। এখন জামায়াত নিজেদের জন্য আটটি আসন রেখেছে। আর এনসিপিকে একটি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে একটি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিকে (জাগপা) একটি এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের একজনকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

এনসিপি দলীয়ভাবে মনিরা শারমিনকে সংরক্ষিত আসনের জন্য চূড়ান্ত করেছে বলে একাধিক নীতিনির্ধারণী নেতা ও সংসদ সদস্য নিশ্চিত করেছেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়কের পাশাপাশি তিনি দলের নারী সংগঠন জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ–৫ আসনে তিনি প্রথমে এনসিপির মনোনয়ন পেলেও পরে নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে দলের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মনিরা।

মনিরা শারমিন জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন। ২০১৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের জিএস (সাধারণ সম্পাদক) নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ) একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল। সেই পরিস্থিতিতে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জিতেছিলেন মনিরা শারমিন।

অন্যদিকে মাহমুদা আলম মিতু যে ১১–দলীয় ঐক্যের মনোনয়নে সংসদে যাচ্ছেন, সে বিষয়টিও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই নেত্রীও জুলাই অভ্যুত্থানে সক্রিয় ছিলেন। রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত বেসরকারি সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজের সাবেক এই ছাত্রী বর্তমানে চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠকের পাশাপাশি নারীশক্তির সদস্যসচিব হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমে ঝালকাঠি–১ আসনে এনসিপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন মাহমুদা আলম। কিন্তু পরে ১১–দলীয় ঐক্যের সঙ্গে সমঝোতার কারণে আসনটি এনসিপিকে ছেড়ে দিতে হয়। ফলে মাহমুদা আলম আর নির্বাচন করেননি।

সংরক্ষিত আসনে এই দুজনকে মনোনীত করার বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির সদস্যসচিব ও রংপুর–৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এনসিপি যখন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে যুক্ত হয়, তখন বোঝাপড়া হয়েছিল যে আমরা ৩০টি আসনে নির্বাচন করব এবং একটি সংরক্ষিত মহিলা আসন আমরা ঐক্য থেকে পাব। সেই বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির একজন এবং ঐক্য থেকে আমাদের দলের একজন সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে যাচ্ছেন। দুজনের নামও ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।’