শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে

সামনে কঠিন সময়, হেসেখেলে চললে ক্ষতি হবে দেশের: প্রধানমন্ত্রী

সামনের কঠিন সময়ে সরকারকে সফল করতে নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী; জোর দিলেন নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে।

সামনে অত্যন্ত কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে বলে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার সফলভাবে পরিচালনা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে তাঁদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেছেন, এই সময়ে হেসেখেলে চললে দেশের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্ষতি হবে।

আজ রোববার বিকেলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারেক রহমান এ কথা বলেন।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ সকলের (নেতা-কর্মী-সমর্থক) উদ্দেশে আমি বলব, আমাদের সামনে প্রথমত অত্যন্ত কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। আমাদের সামনে একই সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ও অপেক্ষা করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন সময়ে আমরা হেসেখেলে চললে খুব বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতি আপনার হয়তো হবে না, ক্ষতি হবে দেশের, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের।’

ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বিএনপির যে ইশতেহারের পক্ষে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষ রায় দিয়েছে, সেই ইশতেহারের মধ্যে শহীদ জিয়ার প্রতিটি পথনির্দেশিকা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন সরকারের কাজ সরকার কাজ করবে। সরকার তখনই সফল হতে পারবে, যখন দলের কর্মীরা সরকারের প্রত্যেক সঠিক কার্যক্রমকে সহযোগিতা করতে থাকবেন। তিনি বলেন, ‘সংসদে আমাদের যে ২১৪ জন এমপি, আমিসহ যে ৫০ জন ক্যাবিনেট সদস্য আছেন, আমরা শুধু পরিশ্রম করলেই কিন্তু কার্যক্রমগুলো সফল হবে না। আপনাদের সবার সহায়তা প্রয়োজন হবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এখানে আলোচনা করতে গিয়ে শুনেছি, কীভাবে শহীদ জিয়া শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছিলেন, শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন জাতিকে। ঠিক তারই প্রতিফলন শিক্ষাসংক্রান্ত বিষয়ে আমাদের ইশতেহারের মধ্যে আছে। এখানে বক্তারা আলোচনা করেছেন, কীভাবে পোশাকশিল্প নিয়ে গর্ববোধ করি। যে পোশাকশিল্প আমাদের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সাহায্য করছে, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল শহীদ জিয়ার সময়। ঠিক একইভাবে, অর্থাৎ শিল্পের বিপ্লব রেখেছি এই ইশতেহারের মধ্যে।’

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে

আবার শিল্পের প্রসার ঘটানো, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে সরকারের পরিকল্পনা নেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঠিক একইভাবে শিল্পে বৈচিত্র্য আনার পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে দেশে কী কী শিল্প গড়ে তোলা যায়, সেসব পরিকল্পনা ইশতেহারে রাখা হয়েছে।

বাবার স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তারেক রহমান ১৯৮৬ সালের একটি ঘটনা তুলে ধরেন। বলেন, ‘এই ঘটনা ১৯৮৬ সালে আব্বা মারা যাওয়ার প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পরের ঘটনা। প্রথমবার আম্মার সঙ্গে ওমরাহ করতে গিয়েছি। সৌদি সরকারের দাওয়াতেই গিয়েছিলাম। মক্কা হোটেল নামে একটা হোটেল ছিল, ওখানেই সৌদি সরকার কমবেশি মোটামুটিভাবে অতিথিদের রাখতেন। মাগরিবের নামাজ শেষ করে এশার জন্য যাব, আমি হোটেল রুমে এসেছি রিফ্রেশ হতে। লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, পাশে এসে আরেক লোক দাঁড়াল। লোকটির পোশাক দেখে বোঝা যাচ্ছে যে ইন্দোনেশিয়ান, মালয়েশিয়ান হলেও হতে পারে। তবে মোটামুটিভাবে বলা যায় ইন্দোনেশিয়ান। আমাকে বলল কোন দেশ, খুব সংক্ষেপে বলল। সে দুই সেকেন্ডের মধ্যে আমাকে বলল “ও বাংলাদেশ”, সাথে সাথে বলল “ও জিয়াউর রহমান”। আমার নিজের সাথে ঘটনাটা ঘটল। ও বলল যে “জিয়াউর রহমান”। জিয়াউর রহমান বলতেই তারা বাংলাদেশ বুঝত, মুসলমান দেশগুলো জিয়াউর রহমান বুঝত। এটাও ছিল সন্তান হিসেবে আরেকটি অভিজ্ঞতা, যেখানে সন্তান হিসেবে পিতার জন্য আমি গর্ব অনুভব করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার পরে দুর্ভাগ্যজনক দুর্ভিক্ষের পর বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলেছিলেন হেনরি কিসিঞ্জার। মাত্র কিছুদিনের মধ্যে জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এমন জায়গা নিয়ে গিয়েছিলেন বিশ্বদরবারে যে মানুষ শহীদ জিয়া ও বাংলাদেশ এই দুটিকে একসঙ্গে বুঝত।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানি, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, ছাত্রদলের রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।

সভায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন। সভার সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।