রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আজ রোববার দুপুরে
রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আজ রোববার দুপুরে

প্রস্তাবিত বাজেট বড় ধরনের অর্থনৈতিক বাজি: গণসংহতি আন্দোলন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিএনপি সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক বাজি’ বলেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের শরিক দল গণসংহতি আন্দোলন।

বাজেটের পর্যালোচনায় দলটি বলেছে, বাজেটে এডহক বা সাময়িক প্রকল্পের চেয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পদ্ধতিগত ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক, তবে বাজেটের ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংকব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ালে তা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পর্যালোচনা বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে দলের বাজেট পর্যালোচনা তুলে ধরেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান (রুবেল)।

গণসংহতি আন্দোলনের বাজেট পর্যালোচনায় বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি একটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক বাজি। একদিকে এটি ভোক্তাদের ওপর থেকে পরোক্ষ কর হ্রাস, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী সম্প্রসারণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্টার্টআপ ও কৃষি খাতকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিসহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এলডিসি-উত্তর অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক মানোন্নয়নের সঙ্গে সংগতি রেখে এডহক বা সাময়িক প্রকল্পের চেয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পদ্ধতিগত ব্যয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্তটি ইতিবাচক। অন্যদিকে এই বাজেটের সাফল্য পুরোপুরি দুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে—অভূতপূর্ব রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা ও প্রশাসনিক কাঠামোগত দক্ষতা।

গণসংহতির নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান বলেন, খাদ্য সরবরাহের বাজারে সিন্ডিকেট বা একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে ও দেশি ব্যাংকিং খাতকে সুরক্ষিত রাখতে তুলনামূলক নমনীয় শর্তের বৈদেশিক অর্থায়নের দিকে বেশি নজর দিতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলন বলেছে, সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী নারীর জন্য বাজেটে বিশেষ নজর, পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও সৃজনশীল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ‘সফট পাওয়ার’ তৈরির চেষ্টা, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির চেষ্টা প্রশংসনীয়।

তিন মাস অন্তর অগ্রগতি পর্যালোচনার দাবি

গণসংহতি আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা আবুল হাসান বলেন, ‘খাতভিত্তিক বরাদ্দের সবচেয়ে বড় কাঠামোগত দুর্বলতা হলো বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়নের দীর্ঘস্থায়ী আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা। কাগজে-কলমে শিক্ষা, সামাজিক অবকাঠামো বা যোগাযোগের জন্য যে আকর্ষণীয় বরাদ্দই রাখা হোক না কেন, প্রশাসনিক সংস্কার ও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে না পারলে এই খাতভিত্তিক বণ্টন কেবল একটি বার্ষিক আনুষ্ঠানিকতাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। এ জন্য আমরা প্রতি তিন মাস অন্তর বাজেট বাস্তবায়নে অগ্রগতি পর্যালোচনা ও তার তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রস্তাব করছি, যাতে বাজেট বাস্তবায়নে কাজের মান ও পরিমাণ যথোপযুক্ত হয় এবং জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত হয়।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন দলের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু।

গণসংহতির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য মনির উদ্দিন পাপ্পু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বাচ্চু ভূঁইয়া, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক দীপক কুমার রায়, দপ্তর সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, গণমাধ্যম ও ডিজিটালবিষয়ক সম্পাদক তাহসিন মাহমুদ প্রমুখ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।