জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

এনসিপির দলীয় কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে, ‘সুপার ইলেভেন’ হচ্ছে ‘সুপার সিক্স’

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যখন আত্মপ্রকাশ করে, তখন দলটির ঘোষিত সাংগঠনিক কাঠামোটি ছিল কিছুটা ‘অপ্রচলিত’। প্রতিষ্ঠার দেড় বছরের মাথায় সেটি পাল্টে ‘প্রচলিত’ কাঠামোয় আসতে যাচ্ছে দলটি। এনসিপির নেতারা এই পরিবর্তনকে বলছেন, সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়াতে দল পুনর্গঠন।

আসন্ন জুলাই মাসের শুরুতেই এনসিপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে এই পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। পুনর্গঠিত কমিটি আগামী প্রায় ছয় মাস দায়িত্ব পালন করবে। পরে আগামী বছরের শুরুর দিকে এনসিপির প্রথম জাতীয় কাউন্সিল বা সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সূত্রে জানা গেছে।

এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামোতে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবং মুখ্য সমন্বয়ক, মুখ্য সংগঠক (২ জন), মুখপাত্র, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন), জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক—এই ১১টি পদ দলটির নেতৃত্বের ‘সুপার ইলেভেন’ হিসেবে পরিচিত। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘সুপার ইলেভেনের’ পরিবর্তে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকবেন ছয়জন, অর্থাৎ ‘সুপার ইলেভেন’ হচ্ছে ‘সুপার সিক্স’।

এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের তিনজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলে দলের সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আনার এই পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে দুজন জানান, পরিবর্তিত কাঠামোতে যে ছয়টি পদ থাকবে, সেগুলো হলো আহ্বায়ক, সদস্যসচিব, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক (২ জন) ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব (২ জন)।

আহ্বায়ক পদে নাহিদ ইসলাম আর সদস্যসচিব পদে আখতার হোসেন বহাল থাকছেন। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে থাকতে পারেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আবদুল্লাহ। সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব হতে পারেন বলে এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের দুজন সদস্য জানিয়েছেন।

এই ছয়জন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য। দলীয় সূত্র বলছে, রাজনৈতিক পর্ষদের অন্য ১২ জন সদস্যকে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও যুগ্ম সদস্যসচিব পদে দেখা যাবে। পর্ষদ সদস্যদের প্রত্যেকের আলাদা বিষয়ভিত্তিক দায়িত্ব থাকবে। কেউ সামলাবেন জোট রাজনীতি, কেউ সাংগঠনিক কার্যক্রম, কেউ দেখবেন সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, কেউ সামলাবেন দপ্তর।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি প্রতীকে অংশ নিয়ে ছয়টি আসনে জয় পায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)

রাজনৈতিক পর্ষদের কোনো কোনো সদস্য দলের পেশাজীবী সংগঠন, কেউ দেখভাল করবেন ছাত্রসংগঠন। আবার কারও কারও দায়িত্ব থাকবে দলের কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। কাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হবে, তা নিয়ে দলে আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সম্পাদকীয় ও সহসম্পাদকীয় বেশ কিছু নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়টি নিয়েও আলোচনা চলছে বলে দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

দলটির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতার ভাষ্য, এনসিপি এখন যে কাঠামোতে পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। দলের অনেকে এটিকে বলছিলেন ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা’। সেই জায়গা থেকে কাঠামো পরিবর্তন করা হচ্ছে। এ ছাড়া দলের কাঠামোটি ‘জটিল’ বলে অনেকেই বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে এসব ‘জটিলতা’ নিরসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামোতে পরিবর্তন আসছে।

এসব পরিবর্তনের বিষয়ে এনসিপিতে অভ্যন্তরীণ আলোচনা হলেও এখনো দলের ফোরামে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা। তবে দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য সারোয়ার তুষার বলছেন, আসন্ন জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই এনসিপির নতুন কাঠামো চূড়ান্ত হবে।

সারোয়ার তুষার প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সাংগঠনিক গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এনসিপির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে দলের প্রথম জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। তত দিন পর্যন্ত পুনর্গঠিত কমিটিই দলের দায়িত্ব পালন করবে।’