প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

কক্সবাজার–৪

‘সংশয়’ নেই, ভোটের উত্তাপ টেকনাফে

ঢাকা থেকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের উদ্দেশে যাত্রা। উদ্দেশ্য, প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে দেশের দক্ষিণ–পূর্বাঞ্চলের শেষ প্রান্তের জনপদে ভোটের চিত্র কী, তা জানা।

যাত্রার আগে ঢাকায় নানাজনের মুখে দুটি আলোচনা শোনা যায়। একটি হলো, ভোট নিয়ে রাস্তাঘাটে নিম্ন আয়ের মানুষজন; যেমন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান-অটোচালক বা এ ধরনের মানুষের সঙ্গে কথা বললে একটি দলের কথা বেশি শোনা যায়। এই দলের জেতার সম্ভাবনা নিয়ে রয়েছে নানা জল্পনাকল্পনা।

দ্বিতীয় আলোচনা বা জিজ্ঞাসাটা হলো, ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট হবে কি? অনেক শিক্ষিত ও বিজ্ঞজনের মধ্যেও এমন প্রশ্ন, সংশয় দেখা গেছে। নির্বাচন ঘনিয়ে এসেছে। এখনো এমন সংশয়ের কথা শোনা যায়। অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ইস্যু ও যুক্তির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাকেও গুরুত্ব দেন সংশয়বাদীরা।

আমরা জানি, মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাত চলছে। রাখাইনে প্রায়ই সরকারি বাহিনী ও সশস্ত্র সংগ্রামী আরাকান আর্মির মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে। গুলি কখনো কখনো সীমান্তের এপারে বাংলাদেশের মানুষের প্রাণও বিদ্ধ করছে। রাখাইনের এই সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা রয়েছে।

কেউ কেউ মনে করেন, মিয়ানমারের চলমান সশস্ত্র সংঘাত যদি তীব্র হয় এবং সীমান্ত অতিক্রম করে, সেটার প্রভাব বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপরও পড়তে পারে। আবার কারও কারও ধারণা, ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। এসব আলোচনা মূলত অনুমানভিত্তিক।

লোকমুখে প্রচলিত দুটি আলোচনা বা ধারণার একটি হোঁচট খেল কক্সবাজারে নামার পর। আরেকটি ধারণা বা উদ্বেগ; যেটি মিয়ানমারের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে, সেটি ভেঙে গেল উখিয়া-টেকনাফে পৌঁছার পর। সেখান থেকে শাহপরীর দ্বীপে যাওয়ার পর সেটি আরও উবে গেল।

কক্সবাজারে নামার পর হোঁচট খাওয়া গল্প আজ থাক, পরে বলব। আজ উখিয়া, টেকনাফ, শাহপরীর দ্বীপের ভোটের চিত্র কী, সেটি বলব।

নাফ নদীর তীরের ভোট

বাংলাদেশের সর্ব উত্তর প্রান্ত যেমন পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া। তার পাশে মহানন্দা নদী। যে নদী ভারত ও বাংলাদেশকে আলাদা করেছে। তেমনি দেশের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত এই টেকনাফ। উখিয়া ও টেকনাফ—দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় সংসদের কক্সবাজার-৪ আসন। এ আসনের দক্ষিণে নাফ নদী প্রবাহিত, যার অপর পারেই মিয়ানমার। এই নাফ নদী পরিবেষ্টিত ছোট্ট ভূখণ্ডটির নাম শাহপরীর দ্বীপ। এর পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর ও পূর্বে পাহাড়-নদীঘেরা সীমান্ত অঞ্চল এ আসনকে ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তুলেছে।

লবণ চাষ, মাছ ধরা এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান অবলম্বন। যদিও মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সংকট, চোরাচালান, মাদক পাচার, মানব পাচার, আন্তসীমান্ত নিরাপত্তাসহ ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে টেকনাফ ও উখিয়া এখন সারা দুনিয়ায় পরিচিত। এ আসনে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁরা হলেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকে শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নূর আহমদ আনোয়ারী, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকে নুরুল হক ও সিংহ প্রতীকে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সাইফুদ্দিন খালেদ।

লোকমুখে প্রচলিত দুটি আলোচনা বা ধারণার একটি হোঁচট খেল কক্সবাজারে নামার পর। আরেকটি ধারণা বা উদ্বেগ; যেটি মিয়ানমারের যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে, সেটি ভেঙে গেল উখিয়া-টেকনাফে পৌঁছার পর। সেখান থেকে শাহপরীর দ্বীপে যাওয়ার পর সেটি আরও উবে গেল।

গত রোববার দুপুরে কক্সবাজার থেকে উখিয়া, টেকনাফ হয়ে একেকবারে শাহপরীর দ্বীপের জেটিঘাঁট পর্যন্ত ঘুরে অনেক সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা হয়। কথা হয় স্থানীয় রাজনীতিক, সাংবাদিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, লবণচাষি, গৃহিণী, শিক্ষার্থী ও অটোরিকশাচালকের সঙ্গে। আলোচনার সারমর্ম, ভোটে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপেক্ষা করছে এ আসনে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য, এলাকার পুরোনো রাজনীতিক বিএনপির শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে জামায়াতের নতুন প্রার্থী নূর আহমদ আনোয়ারীর।

শাহজাহান চৌধুরী বর্তমানে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি আর নূর আহমদ আনোয়ারী জেলা জামায়াতের আমির। শাহজাহান এলাকার পরিচিত মুখ, প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। অন্যদিকে আনোয়ারী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ। তিনি ২০০৩ সাল থেকে টানা ২২ বছর টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। লোকজন বলছেন, এটিই তাঁর পরিচিতি ও উত্থানের ভিত্তি। তাঁকে প্রার্থী করে জামায়াত এ আসনের ভোটের মাঠে আলোচনায় এসেছে।

শাহপরীর দ্বীপের জেটিঘাঁটে কথা হয় সাবরাং ইউনিয়নের বাসিন্দা সত্তরের কাছাকাছি বয়সের এক দোকানির সঙ্গে। তিনি জানান, জিয়াউর রহমানের সময় থেকে তিনি বিএনপির সমর্থক, বিএনপিকেই ভোট দিয়েছেন অতীতে। এবার জামায়াতকে ভোট দেবেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই দোকানির ভাষ্য, জামায়াত কখনো এ আসনে আলোচনায় ছিল না। সে জায়গায় তারা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে এসেছে, এটা বড় ব্যাপার। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্থানীয় নানা কারণে জামায়াত আলোচনায় আসে।

এই দোকানের অদূরে ভাতের হোটেল সীমান্ত মোহনা রেস্টুরেন্ট। এর মালিক নুরুল আলম মনে করেন, এ আসনে বড় ব্যবধানে জয়ী হবেন বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। নুরুল আলমও সাবরাং ইউনিয়নের বাসিন্দা।

রেস্তোরাঁয় দুপুরের খাওয়া-দাওয়া সেরে বের হয়েই কথা বলি রাস্তায় দাঁড়ানো অটোরিকশার চালক মো. রফিকের সঙ্গে। নতুন ভোটার রফিকের বাড়িও সাবরাং ইউনিয়নে। তবে তাঁর ভাষ্য একটু ভিন্ন। রফিকের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ভোটের মধ্যে যে একটা মজা থাকে, সেটা নেই। কেন নেই? এমন প্রশ্নে রফিক হেসে বলেন, ‘একটি দল নাই, আওয়ামী লীগ নাই, সে জন্য।’

দুই প্রার্থীর দেখা দুই পথসভায়

রোববার বেলা তিনটার দিকে যখন শাহপরীর দ্বীপের জেটিঘাটের দিকে যাচ্ছিলাম, পথে সেখানকার একটি নির্বাচনী কার্যালয়ে দেখা হয় শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে। আমার সঙ্গে ছিলেন উখিয়ার একজন সংবাদকর্মী, যিনি সেখানকার একটি কলেজের শিক্ষক এবং একটি জাতীয় দৈনিকের সংবাদদাতা। তিনি জানান, শাহজাহান চৌধুরী একটু আগে এই ঘাঁট দিয়ে সেন্ট মার্টিনে জনসংযোগ করে ফিরেছেন। বিকেল পাঁচটায় শাহপরীর দ্বীপের তিন রাস্তার মাথায় তিনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন। নেতা-কর্মীরা সেখানে যাচ্ছিলেন। শাহজাহান চৌধুরী ওই নির্বাচনী কার্যালয়ে বসে দলের উপজেলার নেতাদের সঙ্গে আলাপ করছিলেন।

পরিচয় দিয়ে শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে অনেক বিষয়ে কথা হলো। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত পরিবেশ শান্তপূর্ণ আছে। মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনাও আছে। তবে তাঁর আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থীর অনুসারীরা যেভাবে উসকানি দিচ্ছেন, অপতথ্য ছড়াচ্ছেন, তাতে সংঘাতের তৈরি হয় কি না। ভোটে কারচুপির কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করেন কি না, এমন উদ্বেগের কথাও জানান তিনি।

বিকেল পাঁচটার দিকে যখন শাহপরীর দ্বীপ থেকে ফিরছিলাম, তখন শাহজাহান চৌধুরী তিন রাস্তার মাথায় জনসভা মঞ্চে উঠছিলেন। স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা নানা স্লোগানে তাঁকে স্বাগত জানাচ্ছিলেন। তখনো মাঠে কিছু চেয়ার খালি। তবে বাইরে কিছু উৎসুক মানুষ জনসভা দেখছিলেন। দ্বীপ ছেড়ে টেকনাফের উদ্দেশে ছুটলাম। রাস্তার দুই পাশে লবণের মাঠ। শেষ বেলায় চাষিদের বাড়ি ফেরার তাড়া।

গাড়ি থামিয়ে কথা হলো লবণচাষি জালাল আহমদের সঙ্গে। জানালেন, তিনি শাহপরীর দ্বীপের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ভোটের পরিস্থিতি কী—এমন প্রশ্নে ষাটোর্ধ্ব জালাল বলেন, ‘আমার বাড়িতে ধানের ছড়াও আছে, দাঁড়িপাল্লাও আছে। এবার ভাই-ভাতিজারা নতুন কিছু করতে চাইছে।’

টেকনাফ থেকে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং পৌঁছাতে পৌঁছাতে প্রায় রাত আটটা। চেষ্টা করছি, নূর আহমদ আনোয়ারীর একটি নির্বাচনী সভা দেখা। তিনি পথসভা করছেন উখিয়ার ৯ নম্বর ভালুকিয়া হারুন মার্কেটের সামনে। সেখানে তাঁর সঙ্গে দেখা। পথসভায় ভালো উপস্থিতি দেখা গেল। সেখানে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীর আপন ছোট ভাই জামায়াত নেতা শাহজালাল চৌধুরীও বক্তব্য দেন। তবে শাহজালাল চৌধুরীর এক ছেলে এবং ছেলের স্ত্রী শাহজাহান চৌধুরীর পক্ষে কাজ করছেন।

পথসভায় জামায়াতের প্রার্থী নূর আহমদ আনোয়ারী বিভিন্ন এলাকায় তাঁর নির্বাচনী ব্যানার ও নারী কর্মীদের হেনস্তা করার অভিযোগ তুলে বিএনপির প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের সতর্ক করেন।

বিএনপির প্রার্থীর ভোটে কারচুপির আশঙ্কা সম্পর্কে নূর আহমদ আনোয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা এটুকু বলতে পারি, আমাদের পক্ষ থেকে কোনো কারচুপি, দখল করা হবে না। কারণ, আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, কোনো দখল-চাঁদাবাজিতে যাব না।’

ভোটের নানা হিসাব-নিকাশ

কক্সবাজার-৪ আসনের দুটি উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা আছে। এর মধ্যে উখিয়ায় পাঁচটি ইউনিয়ন ও টেকনাফে একটি পৌরসভা ও ছয়টি ইউনিয়ন রয়েছে। এখানকার মোট ভোটার ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮২৫ জন। নারী-পুরুষ ভোটার সংখ্যা কাছাকাছি। পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ৩ হাজার ৮৬৩ জন। উখিয়ার চেয়ে টেকনাফে ভোটার বেশি প্রায় ৩২ হাজার।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির শাহজাহান চৌধুরীর বাড়ি উখিয়ায়। আর জামায়াতের নূর আহমদের বাড়ি টেকনাফে। ভোটের সময় এ ধরনের আঞ্চলিকতা বা এলাকার একটা প্রভাব থাকে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নারী ভোটার, তরুণ ভোটার ও আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট এখানকার জয়-পরাজয়ে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।

এই আসনে দুবার সংসদ সদস্য ছিলেন আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা আবদুর রহমান বদি। দুবার সংসদ সদস্য ছিলেন তাঁর স্ত্রী শাহীন আক্তার। বদি এখন জেলে আছেন। আর শাহীন আক্তার মালয়েশিয়ায় আছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মাঠপর্যায়ের কিছু নেতা এলাকায় আছেন। তবে তাঁরা তেমন বের হন না।

শাহজাহান চৌধুরী আশা করেন, আওয়ামী লীগের ভোট তিনি পাবেন। কারণ, মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অবস্থান একই। তিনি আওয়ামী লীগের ভোটারদের অনেকের সঙ্গে কথা বলেছেন, যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলেও জানান।

নূর আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের ভোট আওয়ামী লীগেরই। এখন কেউ হয়তো জেতার জন্য, কেউ বাঁচার জন্য সমঝোতা করছে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর তারা যা করেছে, মামলা, দখল, চাঁদাবাজি—এগুলোর বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে।

তবে এ বিষয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মধ্যবর্তী নির্বাচন চাইবেন শাহজাহান

কথোপকথনে বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী জানান, আওয়ামী লীগসহ সবাইকে নিয়েই নির্বাচন করা উচিত অন্তর্বর্তী সরকারের, যেটা জিয়াউর রহমান করেছিলেন। এখন আওয়ামী লীগ ছাড়া এ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নে খুঁত থেকে যাবে।

এ বিষয়ে শাহজাহান চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমি তো দলকে মিডটার্ম ইলেকশনের জন্য বলব। আমরা সব দলকে নিয়ে নির্বাচন করতে চেয়েছি।’

এই প্রতিবেদনের শুরুতে বলেছিলাম, ঢাকা থেকে দুটি ধারণা নিয়ে টেকনাফে যাওয়ার কথা। শাহপরীর দ্বীপের জেটিঘাটে সিএনজিচালক মো. ফয়সাল, উখিয়ার কোট বাজারে রাজাপালং ইউনিয়নের শফি আলমসহ যেসব শ্রমজীবীর সঙ্গেই কথা বলেছি, তাঁদের অনেকেই জামায়াতকে ভোট দেবেন বলে কথা জানিয়েছেন। তবে ভিন্ন ভাবনা দেখা গেছে অপেক্ষাকৃত সচ্ছল ব্যক্তিদের মধ্যে।

যেমন কোট বাজারে যেখানে দাঁড়িয়ে সিএনজিচালক শফি আলমের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে কথা হয় হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. রশীদ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান আহমদের সঙ্গে। দুজনেই জানান, তাঁরা ধানের শীষে ভোট দেবেন। টেকনাফ চত্বর কথা হয় হাছিনা বেগমের সঙ্গে। তিনি জানান, ধানের শীষে ভোট দেবেন।

টেকনাফে যাত্রার আগে নির্বাচন নিয়ে লোকমুখে উচ্চারিত সংশয় বা শঙ্কার কথা বলেছিলাম। কিন্তু মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা উখিয়া–টেকনাফ ও শাহপরীর দ্বীপে কথা বলা বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের মধ্যে সে রকম কোনো সংশয়ে কথা শোনা যায়নি; বরং আলোচনায় উঠে এসেছে ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রার্থীদের শক্তি–দুর্বলতা এবং কার ভোট কোন দিকে যেতে পারে—সেই হিসাব। সীমান্তের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও মানুষের মনোযোগ এখন ভোটের দিকেই।

বিএনপির প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী বলেন, একটা আশঙ্কা ছিল, সেটা কেটে গেছে। নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে আর কোনো সংশয় নেই।