মাগুরার মহম্মদপুরে নির্বাচনী প্রচারে নিতাই রায় চৌধুরী
মাগুরার মহম্মদপুরে নির্বাচনী প্রচারে নিতাই রায় চৌধুরী

নিতাই রায় চৌধুরী তিন যুগ পর মন্ত্রিসভায়, তখন ছিলেন যুব-ক্রীড়ায়, এবার সংস্কৃতিতে

গত শতকের আশির দশকে জাতীয় পার্টির সরকারে মন্ত্রী ছিলেন নিতাই রায় চৌধুরী। তিন যুগ পর আবার মন্ত্রী হলেন তিনি। এবার বিএনপির সরকারে, এই দলটির ভাইস চেয়ারম্যানের পদে রয়েছেন এই আইনজীবী।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর সরকারের মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে শপথ নেন। নিতাই রায় চৌধুরী পেয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

৭৬ বছর বয়সী নিতাই রায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-২ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হন। ১ লাখ ৪৭ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি। এ নিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন।

নিতাই রায়ের জন্ম ১৯৪৯ সালে মাগুরার মহম্মদপুরের হাটবাড়িয়া গ্রামে জমিদার পরিবারে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন, পরে এলএলবি সম্পন্ন করে আইন পেশায় যুক্ত হন।

ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে যুক্ত হন নিতাই রায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৮৮ সালে চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা–২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯০ সালে তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে পূর্ণ মন্ত্রীও হয়েছিলেন।

এরশাদ সরকারের পতনের কয়েক বছর পর নিতাই রায় বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালের অষ্টম, ২০০৮ সালের নবম ও ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে মাগুরা–২ আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। তবে জিততে পারেননি।

নিতাই রায় চৌধুরীর স্ত্রী ঝুমা চৌধুরী প্রয়াত। এই দম্পতির দুই ছেলে ও তিন মেয়ে। তার মধ্যে মেয়ে নিপুন রায় চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ছেলে দেবাশীষ রায় চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। আরেক ছেলে মিথুন রায় চৌধুরী মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।

এবারের নির্বাচনী হলফনামায় নিতাই রায় তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা, সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ৪২ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।