জিডিপির ৬ শতাংশ‎ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ সমাবেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৩ মে
জিডিপির ৬ শতাংশ‎ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিক্ষোভ সমাবেশ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৩ মে

শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ আর স্বাস্থ্য খাতে ৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবি ছাত্র ফ্রন্টের

হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং আসন্ন বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ শতাংশ ও স্বাস্থ্য খাতে ৫ শতাংশ বরাদ্দের দাবিতে অর্থমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।

‎‎আজ বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের পর সংগঠনের একটি প্রতিনিধিদল দুপুরে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বরাবর স্মারকলিপি দেন।

এর আগে সমাবেশ শেষে বিভিন্ন দাবি–সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে একটি মিছিল ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) গিয়ে শেষ হয়।

ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রগতি বর্মণের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক, অর্থ সম্পাদক নওশিন মুসতারি এবং সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী। চিকিৎসা খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে জনগণকে মোট চিকিৎসা ব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে ঋণ ও দারিদ্র্যের চক্রে ঠেলে দিচ্ছে।

ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, বাস্তবতা হলো সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, শয্যা ও ওষুধের চরম সংকট। প্রতি ১০ হাজার জনে মাত্র ৬–৭ জন চিকিৎসব থাকায় সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

সালমান সিদ্দিকী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে শিক্ষা খাত বরাবরই অবহেলিত ও উপেক্ষিত থেকেছে। গবেষণায় নগণ্য বরাদ্দের কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাঙ্কিং আজ তলানিতে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।

‎ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, বিএনপি সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিচ্ছে। এই স্লোগানকে সত্যিকার অর্থে ধারণ করতে হলে সবার আগে দেশের হামে আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসার পদক্ষেপ নিতে হতো। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ‘হাম কর্নার’ চালু, আইসিইউর ব্যবস্থা করতে হতো। কিন্তু সরকারের সেই ত্বরিত পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।

ছাত্র ফ্রন্টের ‎ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোজাম্মেল হক বলেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পেলেও এর প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি ও প্রশাসনিক দুর্বলতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, মৃত্যুর সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনায় অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা, টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতা এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী। হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যু ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বর্তমান সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের ঘাটতিও লক্ষণীয়।