
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ঢাকা–১৩ আসনে পরাজিত প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করা হবে বলে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের দেওয়া বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে দলটি। দলটি বলছে, ‘ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফল-ডাকাতি ও ববি হাজ্জাজের অব্যাহত মিথ্যাচার অচিরেই সরকার পতনের কারণ হতে পারে।’
আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফতের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
এর আগে আজ সকালে নির্বাচনের দিন সন্ত্রাসী হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকা বিএনপির কয়েকজন নেতা–কর্মীকে দেখতে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান ববি হাজ্জাজ। সেখানেই তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্র দখল ও বিএনপির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে মামুনুল হককে নিয়ে ওই মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বিবৃতিতে মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ববি হাজ্জাজের বক্তব্যকে মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করা হয়। একই সঙ্গে হত্যাপ্রচেষ্টা মামলার হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ববি হাজ্জাজকে ‘তথাকথিত নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি একটি গভীর ও সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ। জনগণের স্পষ্ট রায়কে আড়াল করতেই এসব অপপ্রচার ও মামলা-হুমকির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
বিবৃতিতে জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, ঢাকা–১৩ আসনে মামুনুলের রিকশা প্রতীকের বিপুল জনসমর্থন দৃশ্যমান হওয়ার পর থেকেই একটি প্রভাবশালী চক্র ফলাফল বিকৃতির নীলনকশা বাস্তবায়ন করে। অসংখ্য বৈধ ভোট অবৈধ ঘোষণা, ফলাফল শিটে টেম্পারিং ও ওভাররাইটিং এবং চূড়ান্ত ফলাফল পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রকাশ্য ‘রেজাল্ট ডাকাতি’ সংঘটিত হয়েছে। একাধিক টেলিভিশন চ্যানেলে প্রায় ২০ মিনিট ধরে মাওলানা মামুনুল হককে বিজয়ী ঘোষণা করার পর হঠাৎ সংশোধিত ফলাফল প্রচার জনমনে গভীর সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ দাখিল ও ফলাফল স্থগিতের অনুরোধ সত্ত্বেও তড়িঘড়ি করে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বলেছে, ‘অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মামুনুল হককে দমনে মিথ্যা মামলা, হয়রানি ও চরিত্রহননের কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। আজ একই ধারার পুনরাবৃত্তির চেষ্টা দৃশ্যমান। ফ্যাসিবাদের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনার পরিবারের সঙ্গে ববি হাজ্জাজের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক সব সময়ই জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। অতীত শাসনব্যবস্থার প্রভাববলয় থেকেই বর্তমান অপতৎপরতা পরিচালিত হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। সংশ্লিষ্ট মহলের তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
মামুনুল হককে ‘কোটি কোটি তৌহিদি জনতার মুখপাত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, মিথ্যা হত্যাপ্রচেষ্টা মামলার হুমকি দিয়ে তাঁর অগ্রযাত্রা রোধ করা যাবে না। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস নির্বাচন কমিশনের কাছে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিচারিক তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানায়।