নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিং করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিং করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখতে আবারও দাবি বিরোধী দলের

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের ভোটে অযোগ্য করার বিধান যুক্ত না করে তাঁদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছে বিরোধী দল।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আমাদের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। দেশে এ ধরনের ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। তাঁরা অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে ও প্রার্থী হতে পেরেছেন। অথচ তাঁদের স্থানীয় নির্বাচনে অযোগ্য করার যে সুপারিশ করা হয়েছে। আমরা এর তীব্র ও প্রতিবাদ জানিয়েছি।’

আজ মঙ্গলবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ দাবির কথা জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। গত ২৯ জুলাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকেও একই দাবি জানিয়েছিল দলটি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে জামায়াতের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে এবং সেগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে।

একজন ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন; কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, এটি বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ‘আমরা এই সুপারিশ বাতিলের দাবি জানিয়েছি।’

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘যেসব রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ, সেই দলের কোনো নেতা বা পদধারী ব্যক্তি স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে, সেটিকে রাজনৈতিক কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তাই নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছি।’

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ পাওয়া অতিরিক্ত সচিব শামসুল আলমের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশের কথা জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘তিনি অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনবিষয়ক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য ও প্রমাণ রয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে এমন নিয়োগ থাকা উচিত নয়, যা প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন সৃষ্টি করে। কমিশন জানিয়েছে, আমাদের উদ্বেগের বিষয়টি তারা সরকারকে জানাবে।’

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগের বিষয়েও আমরা আপত্তি জানিয়েছি। আমাদের আশঙ্কা, এসব নিয়োগের মাধ্যমে তাঁদের স্থানীয় নির্বাচনের মাঠ প্রস্তুতের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাই যাঁরা এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না দেওয়ার দাবি জানিয়েছি।’

এ ছাড়া মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ব্যক্তিরা যেন স্থানীয় নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, সে দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান জামায়াত সেক্রেটারি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘এ মুহূর্তে নির্বাচন বর্জনের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমরা এখনো আশাবাদী। তবে নির্বাচন কমিশনের ওপর দলীয় সরকারের চাপ রয়েছে কি না—এমন একটি বিষয় তাদের কথাবার্তা ও আচরণ থেকে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করুক এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করুক।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, স্থানীয় নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হয় না। তাই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেওয়ার প্রশ্ন নেই। তবে দলের স্থানীয় শাখাগুলোকে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে এবং সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়নের কাজ করতে বলা হয়েছে। ১১–দলীয় ঐক্য কেবল জাতীয় নির্বাচনের জন্য ছিল। স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিটি দল নিজ নিজভাবে প্রার্থী দিতে পারবে।

ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াত প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. ইজ্জত উল্লাহ, আবদুর রব ও মোবারক হোসাইন, সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান (মোমেন) ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ইয়াছিন আরাফাত।