শামা ওবায়েদ
শামা ওবায়েদ

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছেড়ে আসা শামা ওবায়েদ প্রতিমন্ত্রী হলেন পররাষ্ট্রে

বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান ছিলেন বিএনপির মহাসচিব, সেই পথ ধরে বিএনপিতে এসে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য হলেন শামা ওবায়েদ। পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেলেন তিনি।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করে। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর সরকারের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে শপথ নেন। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে খলিলুর রহমানকে (টেকনোক্র্যাট)।

৫২ বছর বয়সী শামা ওবায়েদ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ফরিদপুর বিভাগ) পদে রয়েছেন। বিএনপির চেয়ারপারসনের আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সহায়ক কমিটিতেও ছিলেন তিনি। এবারের নির্বাচনে ফরিদপুর-২ সংসদীয় আসনে (সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা) প্রার্থী হয়ে ১ লাখ ২১ হাজার ৯৯৪ ভোট পেয়ে তিনি জয়ী হন।

বাবা কে এম ওবায়দুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় শামা ওবায়েদ

শামা ওবায়েদের জন্ম ১৯৭২ সালের ১৪ মে। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুর রহমান গত শতকের আশির দশকে বিএনপির মহাসচিব ছিলেন, জিয়াউর রহমানের সরকারে মন্ত্রী ছিলেন তিনি। শামা ওবায়েদের মা শাহেদা ওবায়েদ শিক্ষকতা করতেন। শামা ওবায়েদের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। রাজধানীর বনানীর বাসিন্দা শামা ওবায়েদের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দার লস্করদিয়া গ্রামে।

২০০৭ সালে বাবার মৃত্যুর পর শামা ওবায়েদ রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০০৮ সালে সংসদ নির্বাচনে প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে হেরে যান। ২০১৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিনি।

শামা ওবায়েদের যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছিল। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে গত ২০ নভেম্বর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন।

এবার নির্বাচনে ফরিদপুর-২ আসনে কে বিএনপির প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামের সঙ্গে শামা ওবায়েদের বিরোধ চলছিল। গত বছরের ২১ আগস্ট দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় ওই রাতেই কেন্দ্রীয় বিএনপি শহীদুল ও শামা দুজনকে দলীয় প্রাথমিক পদসহ সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করে। তবে কয়েক মাস পর সেই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়।

এই ঘটনায় শামা ওবায়েদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তিনি হলফনামায় এ মামলাসহ মোট ১৮টি মামলার তথ্য উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ১৭টি মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার কথা লিখেছেন তিনি।

শামা ওবায়েদ নির্বাচনী হলফনামায় নিজের পেশা লিখেছেন ব্যবসায়ী। তিনি অ্যালিউর বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অ্যাভোসিল্ক সলিউশনের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কো-অপারেশন ফাউন্ডেশনের (আইজিসিএফ) জেনারেল সেক্রেটারি। তাঁর স্বামী শোভন ইসলাম (মুস্তাজিরুল শোভন ইসলাম) ব্যবসায়ী। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে।

ফরিদপুরের সালথায় শামা ওবায়েদ

হলফনামায় শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, তাঁর বার্ষিক আয় ২১ লাখ ৮৯ হাজার ৭১ টাকা। আয়ের উৎস হিসেবে চাকরি থেকে দেখিয়েছেন ৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬৬৭ টাকা এবং সম্মানী ভাতা ৯৬ হাজার টাকা।

শামা ওবায়েদের নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে ঢাকার বনানীতে, যার দাম ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাঁর নগদ টাকার পরিমাণ ২ কোটি ৫২ লাখ ৫১ হাজার ৮৯৪ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ৩০ লাখ ৩৩ হাজার ৯১২ টাকা, শেয়ার ও বন্ড আছে ৫০ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার ৫০ ভরি, ৩০ লাখ টাকা মূল্যমানের একটি জিপ গাড়ি। ফ্ল্যাট কেনা বাবদ ব্যাংকে ১ কোটি ৬৭ লাখ ৪৭ হাজার ৯৬৪ টাকা ঋণ রয়েছে তাঁর। হলফনামায় শামা ওবায়েদ স্থাবর সম্পদের যে বিবরণ দিয়েছেন, তার অর্জনকালীন মূল্য ৬ কোটি ৯৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, যার বর্তমান আনুমানিক মূল্য দেখানো হয়েছে ৯ কোটি টাকা। ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্যও দিয়েছেন তিনি।