
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে বিগত ৫৫ বছরের ধারাবাহিক ‘লুটপাট ও পাচারমুখী’ এবং ‘উৎপাদনবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
দলটির দাবি, এ বাজেট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেরও আকাঙ্ক্ষাবিরোধী।
আজ শুক্রবার রাজধানীর তোপখানা রোডে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। একই সঙ্গে বিকল্প বাজেট প্রস্তাবও তুলে ধরে দলটি। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে দলটি।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং জনগণের জীবনমানের অবনতির বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তাঁর মতে, প্রস্তাবিত বাজেট কর্মসংস্থানবিমুখ এবং দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়াবে।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, অর্থনীতিকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে এনে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করতে এ বাজেট অবিলম্বে সংশোধন করা প্রয়োজন।
আমলাতন্ত্রের ওপর জনগণের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বাজেট বাস্তবায়নে আমলার কাজের ভূমিকা মূল্যায়ন করে তার ভিত্তিতে পদোন্নতি বা পদাবনতির ব্যবস্থা চালু করার পরামর্শ দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষে লিখিত বাজেট প্রতিক্রিয়া ও প্রস্তাব পাঠ করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া। তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান–পরবর্তী বাজেটের মূল প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত ‘কর্মসংস্থানই উন্নয়ন’।
বাজেটকে জুলাই চেতনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করতে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পক্ষ থেকে কিছু সুনির্দিষ্ট বিকল্প প্রস্তাব ও সংশোধনী তুলে ধরা হয়।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে করব্যবস্থার সংস্কার, করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি এবং উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর অধিক হারে কর আরোপ। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহ দিতে উদ্যোক্তা ও স্টার্টআপ খাতে কর ছাড়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি অপচয় ও বিদ্যুৎ খাতের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা, স্বাস্থ্য কার্ড চালু, শিক্ষা ভাউচার এবং এসএমই ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। কৃষি সমবায়, কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, কৃষি ভর্তুকি এবং সৌরবিদ্যুৎভিত্তিক গ্রিন এনার্জি গ্রিড গড়ে তোলার প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সোহেল। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাহবুবুর রহমান, সহসভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা, নির্বাহী কমিটির সদস্য মঞ্জুর কাদির ও শাহাবুদ্দিন কবিরাজ, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দিন এবং অহিংস গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক জালালউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।