আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়

আগের চেয়ে বেশি সার সরবরাহের দাবি, তবু সংকটের অভিযোগ সংসদীয় কমিটিতে

বিগত বছরগুলোর তুলনায় চলতি বছরে কৃষক পর্যায়ে বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে বলে সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। আজ বুধবার কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সার মজুত ও সরবরাহের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রণালয়। তবে ওই বৈঠকে কমিটির সদস্যদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় সারের সংকট রয়েছে।

আজ সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি অর্থবছরে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি মিলিয়ে মোট সারের চাহিদা ৫৮ লাখ ৫০০ টন। জুলাই থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন ধরনের মোট ১২ লাখ ১৯ হাজার টন সার বিতরণ করা হয়েছে। সারের মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে জানানো হয়, ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ হিসাবে এই চার ধরনের সারের মজুত আছে ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টন। গত ২০২৫–২৬ অর্থবছরে মজুত ছিল ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৮০০ টন। ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি—এই তিন ধরনের সারের মজুত গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর বেশি বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে সার মজুত ও বিতরণের এই চিত্র তুলে ধরা হলেও সারসংকট নিয়ে কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কমিটির অন্তত তিন সদস্য অভিযোগ করেন, তাঁদের সংসদীয় এলাকায় সারের সংকট আছে। অনেক জায়গায় কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছেন না। আবার কোনো কোনো সদস্য বলেছেন, তাঁদের এলাকায় সারের সংকট নেই। সারের ডিলার নিয়োগ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রথম আলোকে বলেন, সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সারের ঘাটতি নেই। কোথাও কোথাও কিছুটা গুজব ছড়িয়ে একটি পক্ষ ও পালিয়ে যাওয়া সার ডিলাররা জল ঘোলা করার চেষ্টা করছেন। সার পাচারের অভিযোগও আছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম, সিলেট—এসব অঞ্চলে সারের সংকট নেই। নওগাঁ, রাজশাহী—এসব এলাকায় কিছুটা সংকট আছে বলে বৈঠকে আলোচনায় এসেছে। সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় সংকট থাকলে তা দূর করা, পালিয়ে যাওয়া ডিলারদের শূন্যস্থান পূরণ এবং ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার বিতরণ ব্যবস্থাপনায় মনিটরিং জোরদার করা, কৃষিবান্ধব সার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ, যশোরের গদখালীতে ফুল গবেষণা কেন্দ্র ও মৃত্তিকা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, পাহাড় ও সমতল এলাকাসহ বিভিন্ন পরিত্যক্ত জায়গায় তুলা উৎপাদন, চরের জমিতে ভুট্টা, মিষ্টি আলু, বাদাম চাষ, কৃষিতে সৌরবিদ্যুৎ কাজে লাগানো, কৃষকদের উন্নত প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানো, কৃষক পর্যায়ে পাটের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি এবং পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিগত বছরগুলোর তুলনায় বর্তমান বছরে কৃষক পর্যায়ে বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, সারের ডিলার নিয়োগে অত্যন্ত স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা–২০২৬’ জারি করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্যদের মধ্যে বৈঠকে অংশ নেন শহিদুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রোকন উদ্দীন বাবুল, মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সাবিরা সুলতানা, গোলাম রছুল ও আব্দুল বারী সরদার। বিশেষ আমন্ত্রণে বৈঠকে অংশ নেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ।