বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক। রমনা, ঢাকা। ১ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার অধিবেশনে বক্তব্য দিচ্ছেন দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক। রমনা, ঢাকা। ১ আগস্ট ২০২৬

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে: মামুনুল হক

  • জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা।

  • নেতাদের ঐক্য ও আন্দোলন সুরক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান।

  • সংবিধান সংস্কারে ইসলামি বিধান অন্তর্ভুক্তির দাবি।

গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

কোনো বক্তব্য, সিদ্ধান্ত বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ যেন চলমান আন্দোলনকে দুর্বল না করে বা জনগণের ঐক্যে কোনো বিভেদ সৃষ্টি না করে, সে জন্য দলের নেতাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

আজ শনিবার রাজধানীর রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে দলের ২০২৫-২০২৬ সেশনের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, স্থানীয় সরকারের সব স্তরের নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। যোগ্য, সৎ, দক্ষ ও জনস্বার্থে নিবেদিত প্রার্থী নির্বাচন করে প্রতিটি পর্যায়ে শক্তিশালী সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে।

দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার তৃতীয় অধিবেশনে ৯ দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়। এতে সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন এবং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সব আইন ও নীতিমালাকে অকার্যকর ঘোষণার সাংবিধানিক বিধান অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। এ ছাড়া আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলামের অবমাননার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধানসংবলিত আইন প্রণয়ন এবং জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক ইস্যুতে গাজায় গণহত্যা বন্ধ, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি ও ভারতে মুসলিম নিপীড়ন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের গ্রেপ্তার ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।

অধিবেশনে দলের অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা আকরাম আলী, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মাওলানা আলী উসমান, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমীসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।