
জাতীয় নেতা, স্থানীয় প্রার্থী ও আঞ্চলিক সমীকরণে কক্সবাজারের চার আসনে ভোটের হিসাব জটিল হয়ে উঠেছে।
কক্সবাজার শহরের কলাতলী মোড়। সকাল সাড়ে নয়টা। এক চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে আছি। সকালের মিষ্টি রোদ, সাগরের ঢেউ সৈকতে আছড়ে পড়ার শব্দ আসছে। খানিকটা ‘অবেলায়’ ভোটের কথা তুললাম। মাঝবয়সী একজন বললেন, ‘ভোট তো হবে, কিন্তু এবার হিসাবটা মনে হয় একটু আলাদা।’
সাধারণত চা-দোকানে রাজনীতির তর্ক, ভোটের আলোচনা জমে দিনের শেষ বিকেলে বা সন্ধ্যার আড্ডায়। সকাল সকাল এই আলোচনায় প্রথম সাড়া দেওয়া ওই ব্যক্তির নাম মো. মোস্তফা। তিনি কক্সবাজার শহরের সমিতি পাড়ার বাসিন্দা। কথাবার্তায় বাস্তব বোধসম্পন্ন বলে মনে হলো। কিন্তু তিনি যে বললেন, ‘এবারের হিসাবটা একটু আলাদা’, সে হিসাবটা কী, সেটা পরিষ্কার করেননি। কিছুটা আভাস-ইঙ্গিত দিলেন।
ভোটের পরিস্থিতি জানতে গত রোববার পর্যটন শহর কক্সবাজারে পৌঁছাই। এরপর তিন দিনে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে মনে হলো, ‘এবারের হিসাবটা একটু আলাদা’—মোস্তফার এই উক্তি যেন পুরো জেলার নির্বাচনী আবহের একটা সারসংক্ষেপ।
আরেকটা বিষয় বেশ লক্ষণীয়, সেটা হচ্ছে এবার ভোটারদের মুখে আবেগ কম, হিসাব বেশি। যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই খুব জোর দিয়ে কিছু বলেননি—সবাই যেন হিসাব কষছেন। বিশেষ করে, তরুণ ভোটাররা বিশেষ কোনো দল বা প্রতীক নয়, তাঁরা বুঝতে চান—আগামী পাঁচ বছরে তাঁরা কী পাবেন?
চার আসনে চার রকম বাস্তবতা
কক্সবাজার জেলায় চারটি সংসদীয় আসন। পাহাড়, নদী, সাগর, সীমান্ত পরিবেষ্টিত আসনগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতা। কক্সবাজার শুধু পর্যটন শহর নয়; এটি সমুদ্রবন্দর-সংলগ্ন দীর্ঘতম উপকূলীয় জেলা। এই জেলায় এবার জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ দুজন রাজনীতিক নির্বাচন করছেন ভিন্ন ভিন্ন আসন থেকে। একজন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, অপরজন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ। এ কারণে অনেকের দৃষ্টি কক্সবাজারের নির্বাচনের দিকে।
আরেকটা বিষয় বেশ লক্ষণীয়, সেটা হচ্ছে এবার ভোটারদের মুখে আবেগ কম, হিসাব বেশি। যাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশই খুব জোর দিয়ে কিছু বলেননি—সবাই যেন হিসাব কষছেন। বিশেষ করে, তরুণ ভোটাররা বিশেষ কোনো দল বা প্রতীক নয়, তাঁরা বুঝতে চান—আগামী পাঁচ বছরে তাঁরা কী পাবেন?
কক্সবাজার-১: ‘অসম লড়াই’ কি জটিল হচ্ছে?
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনটি বেশি আলোচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কারণে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী এ আসনের চারবারের সংসদ সদস্য ছিলেন।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে গতকাল বুধবার বিকেল পর্যন্ত চকরিয়া ও পেকুয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে, মানুষের সঙ্গে কথা বলে যে ধারণা পাওয়া গেল, তাতে আসনটিতে সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ও জামায়াতের তরুণ প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুখের মধ্যে যে ‘অসম লড়াই’ হওয়ার কথা ছিল, সেটি হচ্ছে না।
এই আসনে আরেকজন প্রার্থী আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ছরওয়ার আলম কুতুবী। তবে সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আবদুল্লাহ আল ফারুকের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে স্থানীয় লোকজন মনে করছেন।
গত দুই দিনে চকরিয়া উপজেলার ইসলাম নগর, শিকলঘাট, পৌরসভার হালকাকারা এবং পেকুয়া বাজার, সদরের জালিয়াখালী ও শিলখালী ইউনিয়নের কিছু এলাকা ঘুরেছি। সঙ্গে ছিলেন প্রথম আলোর চকরিয়া প্রতিনিধি এস এম হানিফ। এলাকার মানুষজন বলছেন, চকরিয়া-পেকুয়ার যতটা উন্নয়ন দেখা যায়, তার ভিত্তি গড়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারি ইমারত নির্মাণের জন্য ১৯৯১ সালে তাঁর হাত ধরেই প্রথম ইট আসে পেকুয়া উপজেলায়।
কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমির পদে থাকা অপেক্ষাকৃত নবীন আবদুল্লাহ আল ফারুক এখানে কী করে সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এলেন, সেটাও এলাকায় আলোচনার বিষয়।
মঙ্গলবার রাত নয়টার দিকে পেকুয়ার চৌমুহনীতে দাঁড়িয়ে আছি। একটু আগেই পাশের সিকদার পাড়ায় সালাহউদ্দিন আহমদের বাড়ি থেকে ফিরেছি। একটি মোটরসাইকেল পাশে এসে থামল। মোটরসাইকেলের তেলের ট্যাংকের ওপর দাঁড়িপাল্লার প্রতীকের স্টিকার লাগানো। জানতে চাইলাম, তিনি দাঁড়িপাল্লার সমর্থক কি না। বললেন, হ্যাঁ। তাঁর নাম নুরুল আমীন। তিনি পেকুয়া সদরের জালিয়াখালীর বাসিন্দা, লবণচাষি। জামায়াতের প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী বলে জানালেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় পর্যায়ের নেতা, বিএনপি ক্ষমতায় এলে তিনি আবার মন্ত্রী হবেন, এই এলাকার উন্নয়ন তাঁর হাত ধরেই হয়েছে, সামনেও হবে। আবদুল্লাহ আল ফারুক তো সে পর্যায়ের নেতা নন। ধানের শীষের সমর্থকদের এমন ভাষ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে নুরুল আমীন বললেন, ‘সবই ঠিক, ওনাকে (সালাহউদ্দিন আহমদ) নিয়ে তো কোনো বিতর্ক নাই। কিন্তু ৫ তারিখের (৫ আগস্ট, ২০২৪) পর বিএনপির নেতা-কর্মীরা তো মানুষকে হুমকি-ধমকির ওপর রেখেছে, ঘের দখল ও চাঁদাবাজি করেছে। এ জন্য মানুষ বলছে ফারুকই ভালো।’
এ বিষয়গুলো নিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তাঁর পেকুয়ার বাড়িতে কথা হয়। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে দু-চারটা ঘটনা যা ঘটেছে, যখনই আমরা অভিযোগ পেয়েছি, তখনই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে গত এক-দেড় বছরে যা ঘটেছে, আমরা তার চেয়ে বেশি অপপ্রচারের শিকার হয়েছি।’
জামায়াতের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকের কাছে প্রশ্ন ছিল—কী কারণে নিজেকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করছেন। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় বিষয়গুলো মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ দুর্নীতিমুক্ত দেশ চায়, এর জন্য ‘ফ্রেশ’ লোক লাগবে। দেশ দুর্নীতিমুক্ত হলে উন্নয়ন এমনিতেই হবে।
তবে সালা-উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ওরা ৫০০ ভোট থাকলে মনে করে চেয়ারম্যান হবে, ৫ হাজার ভোট থাকলে মনে করে এমপি হয়ে যাবে।’
কক্সবাজার-১ আসনে ভোটারসংখ্যা ৫ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে চকরিয়ায় ৩ লাখ ৯০ হাজার, পেকুয়ায় ১ লাখ ৪৬ হাজার। সালাহউদ্দিন আহমদের বাড়ি পেকুয়ায়, জামায়াতের প্রার্থী ফারুকের বাড়ি চকরিয়ায়। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ভোট নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। দুই প্রার্থীর অঞ্চলকেন্দ্রিক ভোট টানার একটা আলোচনা থাকলেও গতকাল পর্যন্ত আঞ্চলিকতার প্রভাব চোখে পড়েনি।
স্থানীয় লোকজন, সাংবাদিক, স্কুল ও কলেজের একাধিক শিক্ষক জানালেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ভোটের মাঠ জটিল করে তুলেছিলেন জামায়াতের প্রার্থী। তবে গত এক সপ্তাহে পরিস্থিতি পাল্টেছে। সালাহউদ্দিন আহমদ নিরবচ্ছিন্নভাবে জনসংযোগ করছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ওরা ৫০০ ভোট থাকলে মনে করে চেয়ারম্যান হবে, ৫ হাজার ভোট থাকলে মনে করে এমপি হয়ে যাবে।’
মহেশখালী ও কুতুবদিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-২ আসনটি দ্বীপাঞ্চল। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ মূল প্রতিদ্বন্দ্বী।
দুজনই সাবেক সংসদ সদস্য। দুজনই অতীতে বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এবার দুজন একে অন্যের প্রতিদ্বন্দ্বী। আসনটিতে ভোটের চিত্রও ভিন্ন।
এই আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫১ জন। এর মধ্যে কুতুবদিয়ায় ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৯ জন ও মহেশখালীতে ২ লাখ ৮২ হাজার ৯৩২ জন। আযাদের বাড়ি কুতুবদিয়া, আর ফরিদের বাড়ি মহেশখালী। শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিকতার বিষয়টি বড় হয়ে গেলে আযাদের জন্য জয় কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
যদিও হামিদুর রহমান আযাদ মনে করেন, আঞ্চলিকতাকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা হয়েছিল, সেটা সফল হয়নি। তিনি বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী লীগও এই চেষ্টা করেছিল, তখনো আমি সংসদ সদস্য হয়েছি। এবারও জনগণের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।’
অপরদিকে ভোটে আঞ্চলিকতার প্রভাব পড়লে সেটা বিএনপির প্রার্থীর জন্য ইতিবাচক হবে মনে করা হচ্ছে। এর বাইরে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যায়, সে হিসাব কষছে সব পক্ষ। এর মধ্যে বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েও আলোচনা আছে। ওপরে ওপরে কোন্দল মিটমাট হলেও ভেতরে-ভেতরে দ্বন্দ্ব রয়ে গেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে। তবে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, এখন কোনো সমস্যা নেই। সবাই এক কাতারে এসে গেছেন। তিনিও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান।
জামায়াতের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় বিষয়গুলো মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ দুর্নীতিমুক্ত দেশ চায়, এর জন্য ‘ফ্রেশ’ লোক লাগবে। দেশ দুর্নীতিমুক্ত হলে উন্নয়ন এমনিতেই হবে।
কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনটি পর্যটনকেন্দ্রিক। পর্যটন, ব্যবসা, যানজট, জীবনযাত্রার ব্যয়, দখল—এ বিষয়গুলো সেখানকার বাস্তবতা। দলীয় বা প্রতীকের পরিচয়ে জমে ওঠা নির্বাচনে এ বিষয়গুলো হারিয়ে যায়নি।
এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন। তাঁদের অন্যতম হলেন বিএনপির লুৎফর রহমান কাজল, জামায়াতে ইসলামীর শহীদুল আলম বাহাদুর ও ইসলামী আন্দোলনের আমিরুল ইসলাম। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির কাজল ও জামায়াতের বাহাদুরের মধ্যে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কাজল এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য। বাহাদুর কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও কক্সবাজার সরকারি কলেজের ভিপি ছিলেন।
গত সোমবারের লেখায় বলেছিলাম, ভোটের চিত্র জানতে শনিবার ঢাকা থেকে দুটি ধারণা নিয়ে টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা করি। ধারণাটি হচ্ছে, ভোট নিয়ে রাস্তায় কম আয়ের মানুষজন, যেমন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান-সিএনজিচালক—এই শ্রেণির লোকদের সঙ্গে কথা বললে তাঁদের অনেকেই একটি দলকে সমর্থনের কথা বলেন। কক্সবাজারে এসে এর একটি হোঁচট খেয়েছে।
রোববার কক্সবাজার রেলস্টেশনে নেমে অটোরিকশায় সুগন্ধা এলাকার হোটেলে যাচ্ছিলাম। চালক সোহাগের কাছে জানতে চাইলাম, ভোটের পরিস্থিতি কী। তিনি শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তাঁর ভাষ্য, ‘কাজল সাহেব ভালো মানুষ। উনি কখনো কারও ক্ষতি করেননি। টাকাপয়সারও অভাব নেই। ভোটে তাঁর অবস্থা ভালো।’
কক্সবাজার শহর ও শহরের বাইরে অন্তত ১০টি স্থানে মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, নবীন প্রার্থী বাহাদুর ইতিমধ্যে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন কাজলের সঙ্গে। কেউ কেউ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথাও বলেছেন।
কথা হচ্ছিল রামুর নাছিরউদ্দিনের সঙ্গে। রামু সরকারি কলেজের পাশেই তাঁর বাড়ি। তিনি বলেন, তাঁর ধারণা, ভোটের হাওয়া কাজলের দিকে বেশি। তবে বাহাদুর বেশি পিছিয়ে থাকবেন না। যিনিই জিতুন, ব্যবধান কম হবে।
এ ছাড়া জেলার সবচেয়ে সংবেদনশীল আসনটি হচ্ছে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ)। সেখানে রোহিঙ্গা সংকট, মাদক ও মানব পাচার এবং আন্তসীমান্ত নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিষয়। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী অভিজ্ঞ রাজনীতিক, চারবারের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন জামায়াতের প্রার্থী নূর আহমদ আনোয়ারীও।
কক্সবাজার শহর ও শহরের বাইরে অন্তত ১০টি স্থানে মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, নবীন প্রার্থী বাহাদুর ইতিমধ্যে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন কাজলের সঙ্গে। কেউ কেউ হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথাও বলেছেন।
কক্সবাজারে কয়েক দিন ঘুরে যে চিত্রটা স্পষ্ট হয়েছে, তা হলো এবার ভোটের মাঠে আবেগের চেয়ে হিসাবই বেশি কাজ করছে। কে জাতীয় নেতা, কে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী—এসব পরিচয়ের পাশাপাশি ভোটাররা দেখছেন, গত সময়ে কারা কী করেছেন, আর ক্ষমতার পালাবদলে বাস্তবে তাঁদের জীবনে কী বদল আসতে পারে। সে কারণে অনেক আসনেই দৃশ্যমান কোনো ‘একতরফা হাওয়া’ নেই; বরং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত হিসাব কষে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা চোখে পড়ছে।
কলাতলী মোড়ের সেই চায়ের দোকানে মোস্তফা যে কথা বলেছিলেন, ‘এবার হিসাবটা একটু আলাদা’—জেলার চারটি আসন ঘুরে সেই কথাই যথার্থ বলে মনে হয়েছে।