ভোট দিতে যাচ্ছেন কয়েকজন। তেলিহাটি উচ্চ বিদ‍্যালয়, কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ
ভোট দিতে যাচ্ছেন কয়েকজন।  তেলিহাটি উচ্চ বিদ‍্যালয়, কোটালিপাড়া, গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জের তিন আসনে বেলা ২টা পর্যন্ত ৩০–৩৩% ভোট

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোপালগঞ্জের তিনটি আসনে ভোটার উপস্থিতি বেড়েছে। সকালে ভোট শুরুর দিকে কেন্দ্রগুলো ফাঁকা থাকলেও পরে উপস্থিতি বাড়ে। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তিনটি আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও নির্বাচন অফিস সূত্র বলছে, বেলা ২টা পর্যন্ত গোপালগঞ্জ-১ আসনে ভোট পড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। গোপালগঞ্জ-২ আসনে ভোট পড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদীয় এলাকা গোপালগঞ্জ-৩ আসনে ভোট পড়েছে ৩১ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

সকাল সাড়ে সাতটার দিকে গোপালগঞ্জ সদর এলাকার কয়েকটি কেন্দ্রে গিয়ে ভোটারের তেমন উপস্থিতি দেখা যায়নি। সব কেন্দ্রের মাঠ ফাঁকা ছিল। ধীরে ধীরে ভোটার আসতে থাকে। ৯টার পর টুঙ্গিপাড়া গিয়ে কিছু কেন্দ্রে ভোটার চোখে পড়লেও তা ছিল কম। টুঙ্গিপাড়ায় চারটি কেন্দ্রের তথ্য বলছে, প্রথম দুই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩ থেকে ৫ শতাংশ। সময় গড়িয়ে রোদের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের হার কিছুটা বাড়তে থাকে।

দুপুরের দিকে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় গিয়ে ভোটারের মোটামুটি উপস্থিতি দেখা যায়। তবে ভোটকেন্দ্রের মাঠে কোথাও তেমন লাইন ছিল না। প্রার্থীদের এজেন্ট ছিল সব কেন্দ্রে। এ উপজেলায় সংখ‍্যালঘু সম্প্রদায়ের বসবাস অন‍্য উপজেলার চেয়ে বেশি। তাঁদের মধ‍্যে ভোট দেওয়ার উৎসাহ দেখা গেছে। লাইন না থাকলেও একের পর এক ভোটার আসছিলেন এবং ভোট দিয়েছেন। ভোটার আনার জন‍্য রিকশা দেখা গেছে বিভিন্ন কেন্দ্রে।

কোটালীপাড়ার উমাচরণ পূর্ণচন্দ্র সর্বজনীন উচ্চবিদ‍্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ২৩৯ জন। প্রথম ৪ ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৯৫৫টি, ৩১ শতাংশ। বেলা ১টায় ভোট পড়েছে ১ হাজার ৩০০ (৪০%)। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জুবায়ের আবদুল্লাহ বলেন, সকাল ৮টার পর থেকেই নিয়মিত আসছেন ভোটাররা।

একই উপজেলার তালিমপুর তেলিহাটি উচ্চবিদ্যালয়ে মোট ভোটার ২ হাজার ৬৮ জন। ১টা ৫৩ মিনিটে নেওয়া হিসাব বলছে, ভোট পড়েছে ৯১৭টি—৪২ দশমিক ২৯ শতাংশ। এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শোভন বৈদ‍্য বলেন, আরও ভোটার আসতে পারেন, উপস্থিতি ভালো।

লাটেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা সুমিতি বিশ্বাস (৬০) ভোট দিতে এসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, তাঁর বাড়ি থেকে একসঙ্গে ১০ জন সদস্য কেন্দ্রে এসেছেন ভোট দিতে। পরিবারের সবাই মিলে উৎসবের আমেজেই তাঁরা ভোটকেন্দ্রে হাজির হন। কোনো প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য কোনো চাপ আছে কি না, তা জানতে চাইলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘আমরা কারও চাপে আসিনি। নিজের ইচ্ছায় ভোট দিতে এসেছি। নিজের মত অনুযায়ী ভোট দেব।’

কোটালীপাড়া উপজেলার দীঘলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৬৫৩টি। বেলা আড়াইটা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ১ হাজার ৬৭১টি—৪৫ শতাংশ। এ কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বাসুদেব বিশ্বাস বলেন, সকাল থেকেই ভোটাররা আসছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে ভোটার বেড়েছে। এখনো কিছু কিছু করে আসছে।