
দেশজুড়ে আকস্মিক বন্যা, টানা অতিবর্ষণ ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাসহ অন্যান্য পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাতীয় ছাত্রশক্তি ও বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। আজ সোমবার পৃথক বিবৃতিতে সংগঠন তিনটির পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। এতে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাঝুঁকি, মানসিক চাপ ও যাতায়াতের সংকট তৈরি হয়েছে।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাতে ছাত্রদলের বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সাত জেলায় বন্যায় ২ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী এবং ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বন্যার কারণে অনেক শিক্ষার্থীর বই–খাতা ও শিক্ষাসামগ্রী নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় পরীক্ষায় অংশ নিলে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে পিছিয়ে পড়বেন এবং মেধার সঠিক মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হবে।
তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত রেখে পরে নতুন সময়সূচি দেওয়ার আহ্বান জানায় সংগঠনটি। এ ছাড়া বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অংশ নিতে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।
ছাত্রশক্তির নিন্দা ও ক্ষোভ
দেশে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে আজকের পরীক্ষা চলমান রাখায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। আজ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোর রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। বহু পরীক্ষাকেন্দ্র এখন বন্যার পানিতে প্লাবিত অথবা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় বুকপানি ও তীব্র স্রোত পেরিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চারদিকে যখন একের পর এক মৃত্যুর খবর আসছে, তখন পরীক্ষা চালু রাখা অত্যন্ত অমানবিক। পাশাপাশি যেসব পরীক্ষার্থীর ঘরবাড়ি ও বই–খাতা বন্যার পানিতে ভেসে গেছে, তাঁদের পক্ষে এ মুহূর্তে পরীক্ষায় বসা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। গ্রাম এলাকায় দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট না থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে।
এ অবস্থায় পরীক্ষা নেওয়া মেধা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য তৈরি করবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষা ও সমতা নিশ্চিত করতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা দেশব্যাপী অবিলম্বে স্থগিত করতে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন সময়সূচি ঘোষণা করাই হবে এ মুহূর্তের সবচেয়ে প্রাজ্ঞ ও মানবিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করে জাতীয় ছাত্রশক্তি।
বন্যা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি ছাত্র ফেডারেশনের
দেশের চলমান বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। একই সঙ্গে সারা দেশে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও ঢাকা মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি আল আমিন রহমান। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া।
মানববন্ধনে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সজীব হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রকৃতি ও পরিবেশকে উপেক্ষা করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব আরও তীব্র হচ্ছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রকাঠামোকে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে গড়ে তুলতে হবে এবং বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।