দেশের ১৩টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ের মৈত্রী মিলনায়তনে
দেশের ১৩টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। আজ বৃহস্পতিবার  ঢাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ের মৈত্রী মিলনায়তনে

সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের আত্মপ্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অসম বাণিজ্যচুক্তি’ বাতিলের দাবি

দেশের ১৩টি বামপন্থী, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ের মৈত্রী মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ ও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)’ একটি অসম, একতরফা ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে ফেলবে। চুক্তির বিভিন্ন ধারায় বাংলাদেশের ওপর শুল্ক ও শুল্কবহির্ভূত বাধ্যবাধকতা আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের একক সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি, খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্য ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানিতে বাধ্য করা হবে উল্লেখ করে বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প ও কৃষি খাত মারাত্মক প্রতিযোগিতার মুখে পড়বে এবং বিপুল কর্মসংস্থান হুমকির সম্মুখীন হবে। এ ছাড়া অন্যান্য দেশের সঙ্গে স্বাধীনভাবে বাণিজ্যচুক্তি করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপের মাধ্যমে দেশের নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, অন্তর্বর্তী সরকার তার এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে নির্বাচনের আগে এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যা গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থী। এমনকি সংবিধানের ১৪৫(ক) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। বক্তব্যে একই সঙ্গে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা, ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা এবং বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন, বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সমন্বয়ক শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, বাসদ (মাহবুব) সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ ভূঁইয়া, গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসিরউদ্দীন নাসু, সোনার বাংলা পার্টির সভাপতি সৈয়দ হারুন অর রশীদ, জাতীয় গণফ্রন্টের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়ক রজত হুদা, বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামসহ অনেকে।