অনুসন্ধান

নবীজির জন্মতারিখ: ১২ নাকি ৯ রবিউল আউয়াল?

রবিউল আউয়াল মাস এলেই মুসলিম বিশ্বে ফিরে আসে একই আবেগ, একই উৎসব। কিন্তু জন্মতারিখ নিয়ে পুরোনো প্রশ্নটির নিষ্পত্তি হয় না। লোকমুখে ১২ রবিউল আউয়ালকেই সবাই নবীজির জন্মদিন বলে জানে, অথচ সিরাতের পুরোনো পাতা উল্টালে দেখা যায়, বিষয়টি মোটেই তত সরল নয়।

প্রাক-ইসলামি আরবে ধারাবাহিক কোনো পঞ্জিকা ছিল না; মানুষ বছর চিনত কোনো বড় ঘটনার স্মৃতি দিয়ে। ইয়েমেনের শাসক আবরাহা যে বছর হাতির বাহিনী নিয়ে কাবা আক্রমণ করেছিলেন, সেই বছরকে সবাই ডাকত ‘আমুল ফিল’ বা হস্তী বর্ষ নামে। (ইবনে হিশাম,আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১/১৫৮, দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত, ১৯৯০)

পরে কোনো ঘটনার সময় বোঝাতে মানুষ বলত, হস্তী বর্ষের অমুক মাসে বা নবুয়তের অমুক বছরে অমুক ঘটেছিল। এই রকম আপেক্ষিক সময়গণনার কারণেই শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঐতিহাসিকদের হাতে নবীজির জন্মদিন নিয়ে একাধিক পরস্পরবিরোধী বর্ণনা টিকে গেছে।

সেই জট খুলতে গবেষকেরা হাত বাড়ান দুই ভিন্ন যুগের দুই উৎসের দিকে—মধ্যযুগীয় গণিতশাস্ত্র আর আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞান।

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ১২ রবিউল আউয়াল সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হলেও ঐতিহাসিক আর গাণিতিক দুই বিচারেই সব বর্ণনা সমান গ্রহণযোগ্য নয়।

সোমবারের প্রশ্নে ঐক্য, তারিখে বিভেদ

মহানবী (সা.) সপ্তাহের কোন দিনে জন্মেছিলেন, তা নিয়ে মুসলিম ঐতিহ্যে আসলে কোনো দ্বিমত নেই। বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, তিনি সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন। সোমবার নফল রোজা রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি নিজেই উত্তর দিয়েছিলেন, এই দিনেই জন্মগ্রহণ করেছেন, আর এই দিনেই তাঁর ওপর প্রথম ওহি নাজিল হয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)

কিন্তু রবিউল আউয়াল মাসের ঠিক কোন তারিখে সেই সোমবার পড়েছিল, তা নিয়ে সাহাবি-পরবর্তী প্রজন্মের ঐতিহাসিকদের বিবরণে বেশ কয়েকটি ভিন্ন মত দেখা যায়।

ইমাম নববি লিখেছেন, নবীজির জন্ম সোমবারে আর রবিউল আউয়াল মাসে হয়েছে—এ বিষয়ে সবাই একমত, তবে দিন-তারিখ নিয়ে চারটি প্রধান মত প্রচলিত: ২, ৮, ১০ ও ১২ রবিউল আউয়াল। (নববি, তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত, ১/২৩, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, ১৯৯৬)

ইবনে সাইয়িদ আন-নাস আরও বিস্তৃত তালিকা দিয়েছেন, যেখানে ৯ রবিউল আউয়ালের কথাও এসেছে। (ইবনে সাইয়িদ আন-নাস, উয়ুনুল আসার ফি ফুনুনিল মাগাজি ওয়াশ শামায়িল ওয়াস সিয়ার, ১/৪১, দারুল কলম, বৈরুত, ১৯৯৩)

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ১২ রবিউল আউয়াল সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হলেও ঐতিহাসিক আর গাণিতিক দুই বিচারেই সব বর্ণনা সমান গ্রহণযোগ্য নয়।

হিজরি-পূর্ব কালরেখা যাচাই

সিরাতের বিক্ষিপ্ত ঘটনাবলিকে একটি অবিচ্ছিন্ন সময়রেখায় বসাতে গবেষকেরা হিজরতকে শূন্যবিন্দু ধরে নিয়েছেন। এর আগের সব ঘটনাকে তাঁরা ঋণাত্মক সংখ্যায়, অর্থাৎ ‘হিজরি পূর্ব’ (ق.هـ) হিসেবে সাজিয়েছেন। (ইবনে সাইয়িদ আন-নাস, উয়ুনুল আসার, ১/৪১)

নবীজি ৫৩ বছর বয়সে মদিনায় হিজরত করেন। হিজরতের বছরকে ১ হিজরি ধরলে তাঁর জন্মবর্ষ দাঁড়ায় ৫৩ হিজরি পূর্বে। এই স্থির কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়েই প্রাচীন বর্ণনাগুলোকে গণিত ও জ্যোতির্বিজ্ঞানের মানদণ্ডে যাচাই করার সুযোগ তৈরি হয়।

জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাহমুদ পাশা আল-ফালাকির ‘নাতাইজুল আফহাম’ গ্রন্থের একটি প্রচ্ছদ

আল-খোয়ারিজমির গাণিতিক হিসাব

জন্মতারিখের এই জট খোলার প্রথম উল্লেখযোগ্য প্রয়াস রেখে গেছেন মধ্যযুগের প্রখ্যাত গণিতবিদ, ভূগোলবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-খোয়ারিজমি (মৃ. আ. ২৩২ হি.)। বীজগণিতের জনক হিসেবে পরিচিত এই পণ্ডিত আরব জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণি তৈরিতেও সমান দক্ষ ছিলেন।

ইবনে সাইয়িদ আন-নাসের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, খোয়ারিজমি লিখে গেছেন, হস্তী বর্ষের মহররম মাস শুরু হয়েছিল জুমার দিনে, আর হাতির বাহিনী মক্কায় পৌঁছায় মহররমের তেরো দিন বাকি থাকতে, রোববারে। তার ঠিক পঞ্চাশ দিন পর, রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ সোমবারে জন্মগ্রহণ করেন নবীজি, যা খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জিতে পড়ে ২০ এপ্রিল। (ইবনে সাইয়িদ আন-নাস, উয়ুনুল আসার, ১/৪১)

পরবর্তীকালে ইবনে কাসিরও এই হিসাবের সত্যতা স্বীকার করে লিখেছেন, খোয়ারিজমি ও যুগের গণনাবিদেরা (আহলুল হিসাব) একমত হয়েছিলেন যে জন্ম আট রবিউল আউয়ালেই, যদিও ইবনে দিহইয়া (মৃ. ৬৩৩ হি.) দশ তারিখের কথা বলেছেন আর ইবনে আবদিল বার (মৃ. ৪৬৩ হি.) বলেছেন দুই তারিখের কথা। (ইবনে কাসির, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা মুকতাদাবান মিনাল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১/১৬০, দারুল ফিকর, বৈরুত, ২০০৫)

খোয়ারিজমির এই হিসাব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি নিছক শোনা কথার ওপর নির্ভর করেননি; বরং একটি যাচাইযোগ্য দিনগণনার কাঠামো দাঁড় করিয়েছিলেন। লক্ষণীয়, তাঁর হিসাবে তারিখ পড়ে আট রবিউল আউয়াল—নয় নয়, বারো তো নয়ই।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণির সাহায্যে চন্দ্র-সৌর গতিবিধি হিসাব করে তিনি দেখান, হস্তী বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসে ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে শুধু ৯ তারিখেই সোমবার পড়ে; অন্য কোনো তারিখে পড়ে না।

আল-ফালাকি ও জ্যোতির্বিজ্ঞান

খোয়ারিজমির প্রায় হাজার বছর পর, ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই প্রশ্নে সবচেয়ে সুশৃঙ্খল জবাব দেন মিসরীয় প্রকৌশলী ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাহমুদ পাশা আল-ফালাকি (মৃ. ১৮৮৫ খ্রি.)। কায়রোর এই বিজ্ঞানী আলেকজান্দ্রিয়া নগরীর প্রত্নতাত্ত্বিক মানচিত্র প্রণয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন। (আর্থার গোল্ডস্মিড, বায়োগ্রাফিক্যাল ডিকশনারি অব মডার্ন ইজিপ্ট, পৃ. ৫৩, লিন রিয়েনার পাবলিশার্স, বোল্ডার, ২০০০) 

প্রাক-ইসলামি আরব বর্ষপঞ্জি আর নবীজির জন্ম-জীবনকাল নিয়ে তাঁর গবেষণা প্রকাশিত হয় নাতাইজুল আফহাম ফি তাকউইমিল আরাব কাবলাল ইসলাম ওয়া ফি তাহকিকি মাওলিদিহি ওয়া উমরিহি আলাইহিস সালাম শীর্ষক গ্রন্থে। 

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক সারণির সাহায্যে চন্দ্র-সৌর গতিবিধি হিসাব করে তিনি দেখান, হস্তী বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসে ৮ থেকে ১২ তারিখের মধ্যে শুধু ৯ তারিখেই সোমবার পড়ে; অন্য কোনো তারিখে পড়ে না।

যেহেতু হাদিসের বর্ণনায় নবীজির সোমবারে জন্মগ্রহণের বিষয়টি সুনিশ্চিত, তাই যুক্তির নিরিখে বাকি সব তারিখ বাদ পড়ে যায়। ৯ রবিউল আউয়াল, খ্রিষ্টীয় বর্ষপঞ্জিতে যার তারিখ ৫৭১ সালের ২০ এপ্রিল। (আলী জুমা, আল-মালুম আন আল-জাদওয়াল আল-তারিখি লি সিরাত আল-রাসুল স. ইয়াওমান বি ইয়াওম,  দ্য রয়্যাল আল-বাইত ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক থট, আম্মান, জর্ডান, ২০১৬)

শিবলি নোমানি, সাইয়েদ সোলাইমান নদভি ও সফিউর রহমান মুবারকপুরীসহ বিশ শতকের প্রভাবশালী অনেক সিরাতকার পরে এই সিদ্ধান্তকেই সবচেয়ে যুক্তিসংগত মনে করেছেন।

গাণিতিক যাচাই ও তার সীমাবদ্ধতা

আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানে একটি সিনোডিক চন্দ্রমাসের গড় দৈর্ঘ্য ২৯.৫৩০৫৮৯ দিন। নবীজির জন্ম থেকে হিজরতকালে কোবা পল্লীতে পৌঁছানো পর্যন্ত যদি পুরো ৫৩ চান্দ্রবছর ধরা হয়, তাহলে মোট মাসের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩৬ (৫৩ × ১২), আর মোট দিনের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার ৭৮১।

এই সংখ্যাকে সাত দিয়ে ভাগ করে অনেকে দেখাতে চান, ভাগফল প্রায় পূর্ণসংখ্যার কাছাকাছি পড়ে—আর তাকেই সোমবার-সোমবার মিলে যাওয়ার প্রমাণ বলে হাজির করেন। শুনতে চমকপ্রদ লাগলেও এই যুক্তি গাণিতিকভাবে তেমন জোরালো নয়; যেকোনো বড় সংখ্যাকে সাত দিয়ে ভাগ করলে ভাগশেষ প্রায় সব সময়ই কোনো না কোনো সংখ্যার কাছাকাছি পড়বে, তাতে আলাদা করে কিছু প্রমাণিত হয় না।

নবীজীবনের দিন–তারিখ নিয়ে জর্ডানের রয়্যাল আহলে বাইত থেকে প্রকাশিত আধুনিক গবেষণা ‘আল-মালুম আন আল-জাদওয়াল আল-তারিখি লি সিরাত আল-রাসুল স. ইয়াওমান বি ইয়াওম’ গ্রন্থের একটি প্রচ্ছদ

এর চেয়েও জরুরি কথা হলো, প্রাক-ইসলামি আরবেরা বিশুদ্ধ চান্দ্রবর্ষ মানত না; ঋতুর সঙ্গে মাস মিলিয়ে রাখতে তারা মাঝেমধ্যে একটি বাড়তি মাস যোগ করত, যাকে বলা হতো ‘নাসি’। (কোরআন, সুরা তওবা, আয়াত ৩৭)

নবম হিজরিতে বিদায় হজের ভাষণে ইসলাম এই প্রথা রদ করে। ফলে হিজরতের আগের ৫৩ বছরকে নিরবচ্ছিন্ন ৬৩৬ চান্দ্রমাস ধরে নেওয়া আসলে একধরনের সরলীকরণ। এ কারণেই আধুনিক গবেষকদের মধ্যেও মতভেদ আছে।

খ্যাতিমান পণ্ডিত মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ ভিন্ন পদ্ধতিতে হিসাব করে জন্মসাল ৫৬৯ খ্রিষ্টাব্দ আর তারিখ ১২ রবিউল আউয়াল বলে মত দিয়েছেন। (হামিদুল্লাহ, উদ্ধৃত: আবজি, জাসিম, দ্য বার্থ অব প্রফেট মুহাম্মদ, তুর্কি দিয়ানত ফাউন্ডেশন, ইস্তাম্বুল, ২০১১) 

এর অর্থ, আধুনিক গণিত-জ্যোতির্বিজ্ঞানও একক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি; বরং এটি প্রাচীন বর্ণনাগুলোর মধ্যে কোনটি বেশি সংগতিপূর্ণ, তা যাচাইয়ের একটি হাতিয়ার মাত্র।

১২ রবিউল আউয়াল কেন প্রশ্নবিদ্ধ

লোকমুখে ১২ রবিউল আউয়াল এত ব্যাপক প্রচলিত হওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট ইতিহাস আছে। এই মতের প্রধান উৎস ইবনে ইসহাক—সিরাতশাস্ত্রের প্রাচীন ও প্রভাবশালী লেখক, যাঁর গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী কালে ইবনে হিশাম নিজের সিরাত রচনা করেন। (ইবনে হিশাম, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, ভূমিকা)

কিন্তু ইবনে ইসহাক এই তারিখের পক্ষে কোনো সনদ বা বর্ণনাসূত্র উল্লেখ করেননি। পরে ইবনে কাসির তাঁর আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া গ্রন্থে এই মতকেই ‘সর্বাধিক প্রসিদ্ধ’ বলে উল্লেখ করলে জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে ১২ তারিখের প্রাধান্য আরও দৃঢ় হয়। (ইবনে কাসির, আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যা , ১/১৬০)

আধুনিক গণিত-জ্যোতির্বিজ্ঞানও একক কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি; বরং এটি প্রাচীন বর্ণনাগুলোর মধ্যে কোনটি বেশি সংগতিপূর্ণ, তা যাচাইয়ের একটি হাতিয়ার মাত্র।

এমনকি কারও কারও ধারণা, আদি পাণ্ডুলিপি নকল করার সময় লিপিকারের ভুলে ‘২’ সংখ্যাটি ‘১২’ হয়ে গেছে। (ইবনে আবদিল বার, ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ, আল-ইসতিআব ফি মারিফাতিল আসহাব, ১/৩০-৩১, দারুল জিল, বৈরুত, ১৯৯২)

বিপরীতে, ৮ রবিউল আউয়ালের বর্ণনার পক্ষে তুলনামূলক শক্তিশালী সনদ আছে—ইমাম মালিক এটি মুহাম্মদ ইবনে জুবাইর ইবনে মুতইমের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যিনি আরবদের বংশতালিকা ও কালক্রম বিষয়ে সেকালের অন্যতম নির্ভরযোগ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। (মালিক ইবনে আনাস, আল-মুওয়াত্তা, ২/১০২১, দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি, বৈরুত, ১৯৮৫)

এই সূত্র ধরেই খোয়ারিজমির ৮ তারিখ আর মাহমুদ পাশার ৯ তারিখ একে অপরের কাছাকাছি এসে দাঁড়ায় এবং দুটোই ১২ তারিখের বিপরীতে অবস্থান নেয়। (আলী জুমা, আল-মালুম আন আল-জাদওয়াল আল-তারিখি লি সিরাত, পৃ. ৭৮৫)

শেষ কথা

নবীজির জন্মতারিখ নিয়ে চূড়ান্ত নিশ্চয়তার দাবি করা ইতিহাসের সততার সঙ্গে মেলে না—এটা স্বীকার করাই ভালো।

তবে প্রাচীন সিরাতকারদের বর্ণনা, মধ্যযুগীয় গণিতবিদ আল-খোয়ারিজমির হিসাব আর ঊনবিংশ শতাব্দীর জ্যোতির্বিজ্ঞানী মাহমুদ পাশা আল-ফালাকির পুনর্গণনায় নজর রাখলে তিনটি ভিন্ন যুগ আর তিন ভিন্ন পদ্ধতির মধ্যে একটি লক্ষণীয় মিল খুঁজে পাওয়া যায়। তা হলো, সোমবারের শর্ত পূরণ করে ৮ বা ৯ রবিউল আউয়াল, ১২ তারিখ নয়।

যদিও এই মিল বিতর্কের পুরোপুরি অবসান ঘটায় না, কিন্তু দেখিয়ে দেয় যে সিরাতের বর্ণনাগুলো নিছক কিংবদন্তি নয়; তার ভেতরে একধরনের গাণিতিক সংগতি খুঁজে পাওয়া সম্ভব—আর সেই সংগতি ধরে গবেষণা অব্যাহত রাখাই ইতিহাসের প্রতি আমাদের দায়।