
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে একশনএইড বাংলাদেশ ও প্রথম আলোর যৌথ উদ্যোগে ‘রাজনীতিতে নারীর নেতৃত্ব ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক সম্মাননা ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে।
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
মোট প্রার্থী: ২ হাজার ২৮ জন। মোট নারী প্রার্থী: ৮৭ জন।
প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর নারী প্রার্থী:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি): ১০ জন। জামায়াতে ইসলামী: ০ (শূন্য) জন। এনসিপি: ২ জন। গণসংহতি আন্দোলন ৪ জন। গণ অধিকার পরিষদ ৩ জন। বাসদ (মার্ক্সবাদী) ১০ জন। জাতীয় পার্টি ৬ জন। স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী ২১ জন।
বিজয়ী নারী প্রার্থী: ৭ জন
আফরোজা খান (বিএনপি): মানিকগঞ্জ-৩
শামা ওবায়েদ (বিএনপি): ফরিদপুর-২
ফারজানা শারমিন (বিএনপি): নাটোর-১
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ (বিএনপি): ফরিদপুর-৩
ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো (বিএনপি): ঝালকাঠি-২
তাহসিনা রুশদীর (বিএনপি): সিলেট-২
রুমিন ফারহানা (স্বতন্ত্র): ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২
নির্বাচিত সংসদ সদস্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২
আমার কাছে সব সময় মনে হয়েছে, নারীর আসল শক্তি আসে শিক্ষা ও নিজের সচেতনতা থেকে। কিন্তু আমাদের পরিবার, সমাজ, দল—সব জায়গায় পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব ও নারীবিদ্বেষ রয়েছে। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নারীর জন্য একধরনের সংগ্রাম অব্যাহত থাকে।
আমাদের দেশে নির্বাচন এবং দলগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ সীমিত। এক দল শূন্য, আরেকটি দল মাত্র ৩ শতাংশ নারীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নারী রাজনীতিতে এগোতে চাইলেও বাধার সম্মুখীন হতে বাধ্য। তাই নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন শুরু হওয়া উচিত পরিবার থেকে, যেখানে বৈষম্যহীন পরিবেশ থাকলে নারীর আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে ৫১ শতাংশ নারী ভোটার প্রমাণ করেছেন, তাঁরা নিজস্ব শক্তি ব্যবহার করতে জানেন। সমাজে পরিবর্তন আনা যায়, আর এর উদাহরণ আমাদের চারপাশেই আছে। নেতৃত্বে থাকা নারীরা যেন সঠিক উদ্যোগ নেন, তাঁদের পাশে থাকেন।
নির্বাচিত সংসদ সদস্য, ফরিদপুর-৩
মনোনয়ন-প্রক্রিয়ায় অনেকেই সন্দেহ করেছিল যে নারী হিসেবে আমি সফল হতে পারব কি না। কিন্তু আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম এবং সেই আত্মবিশ্বাস মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। নির্বাচনের সময় আমি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইতাম। আমাদের সভাগুলোয় প্রায়ই নারীর উপস্থিতি পুরুষদের চেয়ে বেশি ছিল। গ্রামে গিয়ে দেখেছি, অনেক নারী এখনো মৌলিক অধিকার ও প্রাত্যহিক প্রয়োজন থেকেও বঞ্চিত। সমাজের কিছু শক্তি তাঁদের দুর্বল অবস্থাকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের পিছিয়ে রাখার চেষ্টা করে।
আমি নারীদের সমস্যা শোনার পাশাপাশি সমাধান করতে চেষ্টা করি। আমি বিশ্বাস করি, নারীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো খুব জরুরি। যদি তাঁরা সাহসী হয়ে ওঠেন, তবে তাঁরা সমাজ ও রাজনীতিতে দৃঢ়ভাবে অংশ নিতে পারবেন। নারীরা যখন স্বাবলম্বী ও আত্মবিশ্বাসী হন, তখন তাঁরা নিজেদের ও অন্য নারীদের জন্য শক্তি হয়ে দাঁড়ান।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ঢাকা-৯
প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা বাড়ছে। ফলে যুবনারীরা পাবলিক লাইফে আসতে ভয় পাচ্ছেন। আমরা সাধারণত সংখ্যা দিয়ে হিসাব করি—কতজন নারী অংশগ্রহণ করেছেন, কতজন সংসদে আছেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর উপস্থিতি দেখার বিষয়টা আমাদের চোখে পড়ে না।
পার্টিসিপেশন ইজ নট পাওয়ার। সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটে নির্বাচিত হয় না, তাঁরা শুধু দলীয় প্রতিনিধি। এতে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কমে যায়। যখন মনোনয়ন দেওয়ার সময় আসে, তখন পুরুষদের প্রাধান্য প্রতিফলিত হয়। দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ ও নীতিনির্ধারণ পুরুষেরাই নিয়ন্ত্রণ করেন।
তৃণমূল পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ অনেক বেশি। সেখান থেকে নারী নেতৃত্ব তুলে আনার ক্ষেত্রে মনোযোগী হতে হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ঢাকা-২০
নির্বাচনী প্রচারের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, সমাজের নির্দিষ্ট অংশ নারীদের বিশেষ উদ্দেশ্য হ্যারাস করে। পুরুষ ও নারী প্রার্থীর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য লক্ষ করা যায়। নারীদের ওপর অতিরিক্ত আক্রমণ হয়, যা তাদের অংশগ্রহণ সীমিত করে দেয়। এ ক্ষেত্রে নারীরা অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন।
যে কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বুলিং করলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। রাষ্ট্র, সমাজ ও ভুক্তভোগী—তিনটির সমন্বয়ে প্রথম প্রতিরোধ তৈরি করতে হবে। অনেক নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যারাসমেন্টের ভয়ে প্রকাশ্যে আসতে চান না। রাজনীতিতে আসতে চান না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিদেশি কোম্পানিগুলোকে আমাদের দেশীয় প্রেক্ষাপটে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ঢাকা–১২
নারীরা সামাজিক দায়িত্বে ও নাগরিক হিসেবে যত সক্রিয় হবে, সমাজ ও ইতিহাসে তাদের অবস্থান ততই উজ্জ্বল হবে।
মৌলিক চাহিদার সঙ্গে সাংস্কৃতিক পরিবর্তনও প্রয়োজন। নারীরা যাতে সব জায়গায় তাদের নাগরিক পরিচয়, শ্রমজীবী ও পেশাজীবী পরিচয় নিয়ে কাজ করতে পারে, সে জন্য আমাদের সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে। কর্মক্ষেত্র বলতে শুধু অফিস বা কলকারখানা বোঝা উচিত নয়। আমার ঘর, চারপাশের পরিবেশ, বন্ধুবান্ধব—সবই আমার কাজের জায়গা। যে জায়গায় সমান সুযোগ নেই, সে জায়গায় আমাদের আওয়াজ তোলার প্রয়োজন।
রাজনৈতিক পর্যায়ে নারীর উপস্থিতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। শুধু নারী বিষয়েই নয়, নীতিনির্ধারণের সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, শেরপুর–১
নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সময়ে আমি বুঝেছি, একজন নারীনেত্রী হওয়ার পেছনে কতটা কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করা লাগে। এই কষ্ট ও বাধা শুধু সেই নারীই ভালোভাবে অনুভব করতে পারেন, যাঁরা রাজনীতিতে এসেছেন।
রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় নারীদের অবস্থান এখনো সীমিত। মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব কেউ কেউ পছন্দ করে না। অনেকে বাধা তৈরি করে। নিজের দলের মধ্য থেকেও বাধা আসে। এসব বৈষম্য ও অনিয়মের মোকাবিলা এককভাবে করা সত্যিই কঠিন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী নেতৃত্বের সুযোগ বাড়ানোর জন্য আমাদের কণ্ঠস্বর দৃঢ় করতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, নারীরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে আমরা নিজেদের ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ করতে সক্ষম হব এবং সমাজে ও রাজনীতিতে নারীর উপস্থিতি শক্তিশালী হবে।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, মাগুরা–১
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা রোধের মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবেও আমাদের কিছু দায়িত্ব ও ভূমিকা রয়েছে। বাসদের পক্ষ থেকে আমরা মনে করি, নারীর প্রতি সহিংসতা বা বাল্যবিবাহ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটা আসলে নির্ভর করে যে রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক, কতটা বৈষম্যহীন ও সেখানে ন্যায়বিচারের ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তার ওপর। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হলো গণসচেতনতা সৃষ্টি করা এবং গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াই অব্যাহত রাখা।
বর্তমান পটভূমিতে আমরা দেখছি, দেশে নারীর প্রতি বিদ্বেষমূলক মনোভাব প্রকট। নারী নির্যাতনের শিকার হলে তার পোশাক বা চলাফেরাকে দায়ী করা হয়, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করে সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, ঢাকা–৮
আমাদের সমাজ নারী–পুরুষের বৈষম্য করে পাওয়ার স্ট্রাকচারের ওপর দাঁড়িয়ে। ক্ষমতার কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে। এই কাঠামোতে যার হাতে ক্ষমতা থাকে, তাকে জবাবদিহির আওতায় আনার সুযোগ সমাজের হাতে খুব কম থাকে। এটা বদলাতে হবে।
আমি বলতে চাই, এই লড়াই পুরুষের বিরুদ্ধে নয়। পিতৃতান্ত্রিক যে ব্যবস্থা আমাদের সমাজে গড়ে উঠেছে, সেটির বিরুদ্ধে। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাটিকেই আমাদের চ্যালেঞ্জ করতে হবে।
আরেকটি বিষয় হলো, নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনায় আমরা অনেক সময় শক্তভাবে আওয়াজ তুলতে পারি না। আমার মনে হয়, আমাদের এ লড়াইটি কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের বিরুদ্ধে নয়; এটি একটি বৈষম্যমূলক জেন্ডারভিত্তিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে লড়াই।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, রংপুর–৩
আমার চ্যালেঞ্জটা ভিন্ন। আমি হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। একদিকে প্রান্তিকতার শেষ সীমানা থেকে উঠে আসা, আর অন্যদিকে রয়েছে আর্থিক সীমাবদ্ধতা।
আমার চ্যালেঞ্জগুলো ছিল ভিন্ন। আমার সঙ্গে মাঠে কাজ করতে নাগরিক সমাজের মানুষেরা হিমশিম খায়। অনেকেই দূর থেকে বা নেপথ্যে সহায়তা দেয়, মাঠে এসে মান–সম্মানের ভয়ে কাজ করতে চায় না।
রাষ্ট্র ২০১৩ সালে ভোটার হিসেবে আমাদের স্বীকৃতি দিয়েছে। আর কিছু নয়। আমি চাই, রাষ্ট্র আমাদের জন্য সংসদে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করুক। অ্যাফারমেটিভ অ্যাকশনের মাধ্যমে আমরা মূলধারায় আসতে চাই। অবহেলিত মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।
নির্বাহী পরিচালক, গণসাক্ষরতা অভিযান
নতুন যাঁরা সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের কাছে আমার প্রত্যাশা, আপনারা শুধু দলের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলবেন না; বরং সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে কথা বলুন। নারীর অধিকার আদায়ে সংসদে পুরুষদেরও কথা বলতে হবে। কেননা, নারীরা ভোট না দিলে তাঁরা সংসদে আসতে পারতেন না।
আমি রোকেয়া সাখাওয়াতের ‘সুলতানার স্বপ্ন’–তে ফিরে যেতে চাই। ভাবুন, যদি বাংলাদেশের কোনো নারী ভোট না দিতেন, তাহলে চিত্রটা কী হতো?
নারীরা যদি ভোটার হিসেবে এত গুরুত্বপূর্ণ হন, তাহলে কেন এখনো আমরা তাঁদের মর্যাদার আসনে বসাতে পারিনি? এই মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস। আমাদের স্বাধীনতার মূল মন্ত্র ছিল—সমতা, ন্যায্যতা ও মানবিক মর্যাদা। কিন্তু আজ কেন যেন এই তিন জায়গা থেকেই নারীরা বাদ পড়ে গেছে। আমাদের এই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে এবং নতুন প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।
প্রতিষ্ঠাতা, জাগো ফাউন্ডেশন
আমাদের প্রকল্পের মূল কাজ ছিল ৩০০ আসনে গিয়ে নারীদের সঙ্গে কথা বলা এবং তাঁদের ভোট দিতে উৎসাহিত করা। আমরা কথা বলে দেখেছি, ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ জায়গায় নারীরা সচেতন; তাঁরা ভোটের গুরুত্ব বোঝেন। কিন্তু তাঁদের জন্য বড় সমস্যা হলো ‘অ্যাকসেস’ বা সুযোগের অভাব। রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে আমাদের সামগ্রিক কাঠামোর ভেতরে নারীদের যথেষ্ট জায়গা দেওয়া হচ্ছে না।
আবার ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ জায়গায় গিয়ে আমরা দেখেছি, অনেকেই বিষয়টিকে তেমনভাবে ভাবছেন না। অনেক নারী এখনো মনে করেন, পরিবারের প্রধান যা বলবেন, তাঁরা সেটাই করবেন। কিংবা তাঁদের ভোটের বিশেষ কোনো মূল্য নেই। এই অনাগ্রহ শুধু সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় নয়; গুলশান, বনানীর মতো এলাকাতেও আমরা প্রায় একই চিত্র দেখেছি।
সদস্য, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরাম
যাঁরা প্রার্থী হয়ে দাঁড়িয়েছেন, সবাইকে অভিনন্দন। অনেক কষ্ট ও বাধার মুখোমুখি হয়েও আপনারা চ্যালেঞ্জ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এটি আমাদের সবার জন্যই আশার জায়গা।
আমরা নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন, নিরাপত্তা ও সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে গবেষণা, পর্যবেক্ষণ, অ্যাডভোকেসি ও সংলাপের মাধ্যমে কাজ করছি। সাধারণ আসনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানো, দলীয় মনোনয়নে বৈষম্য দূর করা এবং সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের প্রত্যাশা—নারীরা শুধু সংখ্যা বা প্রতীকী উপস্থিতি হিসেবে নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণপ্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে। মাঠপর্যায়ে ও নীতিগতভাবে আমরা এই চাপ অব্যাহত রাখব। সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে সংসদে বড় সংখ্যায় দেখতে পাওয়ার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি।
কান্ট্রি ডিরেক্টর, একশনএইড বাংলাদেশ
নারীর ক্ষমতায়নের প্রথম শর্ত হলো সহিংসতামুক্ত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা। নারীর প্রতি সহিংসতার নতুন রূপ হিসেবে সাইবার বুলিং এখন বড় একটি উপদ্রব হয়ে উঠেছে।
এবারের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য হলো ‘রাইটস, জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকশন ফর অল উইমেন অ্যান্ড গার্লস’। আমরা নারীদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছি। নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত করাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা শুধু সংখ্যা দেখতে চাই না, বাস্তব পরিবর্তনই চাই।
রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বকে টেকসই করতে সংসদের ভেতরে–বাইরে নারী ককাস গঠন করা জরুরি।
সম্পাদক, প্রথম আলো
প্রথম আলো নারীদের বিষয়গুলো সব সময় গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করার চেষ্টা করে। একসময় বছরে পাঁচ শতাধিক নারী অ্যাসিডদগ্ধ হতেন। প্রথম আলো, ব্র্যাক, অ্যাসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন নানা কার্যক্রম হাতে নেয়। সরকার শক্তিশালী আইন তৈরি করে। বর্তমানে অ্যাসিডদগ্ধের সংখ্যা কমে বছরে ১০ থেকে ১৫ জনে নেমেছে। আমাদের প্রত্যাশা, আসিড–সন্ত্রাসের সংখ্যা শূন্যে নেমে আসবে। উদ্যোগী হলে, চাপ তৈরি করতে পারলে কাজ হয়, এটা তার প্রমাণ।
নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণে আমরা আশা দেখেছি। বিগত দুই দশক ধরে প্রচার ও কাজের ফলে এবার নারী প্রার্থীরা অনেক সরব উপস্থিতি দেখিয়েছেন। রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা উচিত।
এ ছাড়া সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন:
সাবিরা সুলতানা (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি): যশোর–২,
নাসরিন সুলতানা (এবি পার্টি): ঢাকা–১০,
সাবিনা জাবেদ (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি—এনপিপি): ঢাকা–১৮,
দিলরুবা নূরী (বাসদ): বগুড়া–৬,
মনিকা আলম (জাতীয় পার্টি): ঝিনাইদহ–১,
বহ্নি বেপারী (জাতীয় পার্টি): ঢাকা–১০,
মল্লিকা খাতুন (গণ অধিকার পরিষদ): সিরাজগঞ্জ–১,
শিরীন আখতার (গণ অধিকার পরিষদ): নরসিংদী–১,
রাহেলা খাতুন (বাসদ—মার্ক্সবাদী): গাইবান্ধা–৫,
প্রগতি বর্মন (বাসদ—মার্ক্সবাদী): রংপুর–৪,
তৌফিকা দেওয়ান (বাসদ—মার্ক্সবাদী): জয়পুরহাট–১,
শাহিনুর আখতার (বাসদ—মার্ক্সবাদী): ঢাকা–৫,
সীমা দত্ত (বাসদ—মার্ক্সবাদী): ঢাকা–৭,
তাসলিমা আক্তার (বাসদ—মার্ক্সবাদী): গাজীপুর–১,
সাদিয়া নওশিন তাসনিম চৌধুরী (বাসদ—মার্ক্সবাদী): মৌলভীবাজার–২,
আসমা আখতার (বাসদ—মার্ক্সবাদী): চট্টগ্রাম–১০,
দীপা মজুমদার (বাসদ—মার্ক্সবাদী): চট্টগ্রাম–১১,
মুন তাহার বেগম (বাসদ—মার্ক্সবাদী): নোয়াখালী–৫,
শম্পা বসু (বাসদ): মাগুরা–১,
কিবরিয়া হোসেন (বাসদ): দিনাজপুর–৩,
ইলোরা খাতুন (জাসদ): সিরাজগঞ্জ–৬,
আরিফা আখতার (জাসদ): ফরিদপুর–৩,
রোকেয়া আখতার (ইনসানিয়াত বিপ্লব): মুন্সিগঞ্জ–১,
সালমা আখতার (ইনসানিয়াত বিপ্লব): ঢাকা–১২,
ফাতেমা আখতার (ইনসানিয়াত বিপ্লব): ঢাকা–১৩,
সরকার তাসলিমা আফরোজ (ইনসানিয়াত বিপ্লব): গাজীপুর–২,
তাহমিনা আখতার (ইনসানিয়াত বিপ্লব): নরসিংদী–৫,
সাবিনা খাতুন (ইনসানিয়াত বিপ্লব): চট্টগ্রাম–১০,
নাসিমা নাজনীন সরকার (লেবার পার্টি): চাঁদপুর–২,
সারদার আশা পারভেজ (গণফোরাম): পাবনা–৩,
শাহনাজ হক (নাগরিক ঐক্য): পাবনা–৪,
হোসনে আরা বেগম (স্বতন্ত্র): জামালপুর–৫,
আনোয়ারা ইসলাম (স্বতন্ত্র): রংপুর–৩,
কোহিনূর আক্তার (স্বতন্ত্র): ঢাকা–১১,
আশা মনি (স্বতন্ত্র): ঠাকুরগাঁও–৩,
রীতা রহমান (স্বতন্ত্র): রংপুর–৩।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইব্রাহিম খলিল আল-জায়াদ, চেয়ারপার্সন, একশনএইড ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সোসাইটি।