উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডকে বেশ হতাশ মনে হলো। তবে হতাশার কারণ হার নয়, হারের ধরনটাই মানতে পারছেন না তিনি।
যত ভালো দলের বিপক্ষে যত খারাপ দলই খেলুক না কেন, টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সাধারণত জয়-পরাজয়ের ব্যবধান কমই থাকে। অথচ কাল বাংলাদেশের কাছে আয়ারল্যান্ড কি না হারল ৪৪ রানের ‘বড়’ ব্যবধানে! ম্যাচ শেষের সংবাদ সম্মেলনে হারের প্রসঙ্গ উঠতেই এটিকেই সামনে আনলেন আইরিশ অধিনায়ক, ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হারের ব্যবধান ৫০ রানের কাছাকাছি মানে একটু বেশি। সে জন্য একটু হতাশ। ম্যাচটা আরও ক্লোজ করা উচিত ছিল। তার পরও বাংলাদেশের বিপক্ষে এই ম্যাচ থেকে আমরা অনেক কিছু শিখেছি।’
আয়ারল্যান্ডের কাছে যে ম্যাচ শিক্ষামূলক, বাংলাদেশের জন্য সেটাই আত্মবিশ্বাস অর্জনের উপলক্ষ। আমিরাত ম্যাচে কষ্টার্জিত জয়ের হতাশা এ ম্যাচে কাটাতে চেয়েছিল বাংলাদেশ দল। মুশফিকুর রহিম-সাকিব আল হাসানের ব্যাটের সৌজন্যে সেটা হলো ভালোভাবেই। ম্যাচ শেষে দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা সাব্বির রহমানও বললেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ টানা হারছিল। আমাদের ইচ্ছা ছিল দুটি প্র্যাকটিস ম্যাচই ভালোভাবে জিতে বিশ্বকাপ শুরু করব। আরব আমিরাতকে হারানোর পর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই জয়ে আমাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়বে।’ প্রস্তুতি ম্যাচে পাওয়া আত্মবিশ্বাস তিনি নিয়ে যেতে চান বিশ্বকাপে, ‘এই দুটি ম্যাচ আমরা ভালো খেলেছি। আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। এখন আমাদের লক্ষ্য আফগানিস্তানকে হারানো। আমরা পরের ম্যাচগুলোতেও এভাবেই এগোতে চাই।’
ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত পারফরমার হিসেবে সাব্বির রহমান নামটা বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক দিন ধরেই আলোচনায়। তবে তিনি পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সর্বশেষ হোম সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা খেলে। বিশ্বকাপের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে দলে না থাকলেও কাল আবার মাঠে নামলেন সাব্বির। ২৩ বলে ২৩ রান করলেও সাব্বির স্বীকার করেছেন, ‘হঠাৎ করে দলে সুযোগ পেলে অনেক সময় স্বাভাবিক খেলাটা খেলা যায় না। তবে আমি চেষ্টা করব, দলের চাহিদা অনুযায়ী খেলে জায়গা ধরে রাখতে।’
কাল বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা ছিল সাকিব-মুশফিকের ১১৬ রানের জুটির। ম্যাচ শেষে সেটা স্বীকার করেছেন আয়ারল্যান্ড অধিনায়ক পোর্টারফিল্ডও, ‘শেষ ২-৩ ওভারে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে যায়। সাকিব-মুশফিকই আমাদের চাপে ফেলে দিয়েছে।’ উল্টো দিকে নিজেদের ব্যাটিং নিয়েই অসন্তুষ্ট আইরিশ অধিনায়ক, ‘আমরা শুরু থেকেই ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারিয়েছি। ব্যাটিংটা ভালো হয়নি। বাংলাদেশের যেমন সাকিব-মুশফিক বড় জুটি গড়েছে, আমাদের সে রকম কোনো জুটি হয়নি।’
পোর্টারফিল্ডের এই হতাশাটাই বাংলাদেশের জন্য আশা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচেও সাকিব-মুশফিকরা এমন ছবিটা ধরে রাখতে পারলেই হয়।