আশরাফুলের এনে দেওয়া জয়ে বাংলাদেশের অনেক লাভ

দলকে চিন্তামুক্ত করেছেন আশরাফুল। ছবি: প্রথম আলো
দলকে চিন্তামুক্ত করেছেন আশরাফুল। ছবি: প্রথম আলো

থাইল্যান্ডকে অন্তত ৫-৬ গোলে হারানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ হকি দল। সেটি অসম্ভবও মনে হচ্ছিল না। কারণ, থাইল্যান্ডের কাছে কখনো হারেনি বাংলাদেশ। সব সময় জিতেছে বড় ব্যবধানেই। কিন্তু আজ এশিয়ান গেমসে নিজেদের চতুর্থ গ্রুপ ম্যাচে থাইল্যান্ডকে হারাতে অনেক ঘাম ঝরাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ডিফেন্ডার আশরাফুলের সুবাদে ৩-১ ব্যবধানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। দুটি পেনাল্টি কর্নার পেয়ে দুটিতেই গোল করেছেন আশরাফুল।

আগামী মঙ্গলবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে এশিয়ান গেমসে সোনাপ্রত্যাশী পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচ। সেটিতে হার ধরে নিলেও এই জয়ে গ্রুপে তৃতীয় হওয়া নিশ্চিত বাংলাদেশের। যদি না ওমান অপ্রত্যাশিতভাবে মালয়েশিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দেয়। সে অঘটনের চিন্তা অবাস্তবই মনে হচ্ছে। কারণ, মালয়েশিয়া অনেক শক্তিশালী দল। তাই গ্রুপে তৃতীয় হওয়া বলতে গেলে নিশ্চিতই বাংলাদেশের। তৃতীয় মানে ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত হয়েই গেছে বাংলাদেশের। ষষ্ঠ আগেও হয়েছে বাংলাদেশ। তবে এবার সম্ভাবনা জাগছে এই প্রথম এশিয়াডে পঞ্চম হওয়ার। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ জাপানকে হারিয়ে পঞ্চম হওয়া মানে এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে বাংলাদেশের।

এশিয়াডে ষষ্ঠ হওয়া দলকে আগামী এশিয়ান গেমস, এশিয়া কাপ বা এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফির বাছাই খেলতে হবে না। সে দিক থেকেও আজ থাইল্যান্ডকে হারানো ম্যাচে অনেক প্রাপ্তি আছে হকি দলের।

তবে জিতলেও আজ বাংলাদেশকে চেনা যায়নি মোটেও। দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষেও কোনো পেনাল্টি কর্নার নেই। অথচ দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শেষ দিকে থাইল্যান্ড টানা চারটি পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিয়েছে। যদিও কোনোটিই গোলে পরিণত হয়নি। তৃতীয় কোয়ার্টারেও ভালো খেলতে পারছে না বাংলাদেশ। অন্তত যতটা ভালো খেলা পরিস্থিতি দাবি করছিল।

এবার পঞ্চম হওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের। ছবি: প্রথম আলো

অবশেষে ৩৫ মিনিটে পিসির দেখা মিলেছে। জিমির পুশ, সারোয়ারের স্টপে আশরাফুলের গোল। এরপরই আরেকটি পেনাল্টি কর্নারে সেই আশরাফুলই করে দিলেন ২-০। ম্যাচের দুটি পিসি পেয়ে দুটি কাজে লাগাতে পেরেছে বাংলাদেশ। এই তৃতীয় কোয়ার্টারটাই সবচেয়ে ভালো কেটেছে বাংলাদেশর। চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতেই থাইল্যান্ডের বোরিয়াক হারাপ্পন স্কোরলাইন করে ফেলেন ২-১। শেষ দিকে জিমি ওপরে ওঠা বল স্টিকের ছোঁয়ায় পাঠান পোস্টে, ৩-১।

প্রত্যাশিত জয়, তবে জিমিদের খেলায় খুবই অখুশি কোচ গোবিনাথ বলছিলেন, ‘থাইল্যান্ড রক্ষণ কাজে এত ভালো যে, আমরা গোল করার জায়গা বের করতে পারিনি। মাত্র দুটি পেনাল্টি কর্নার পাওয়ায় আমি অসন্তুষ্ট। আজ আমাদের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খেলতে পারিনি। ছেলেরা সংগঠিত ছিল না মাঠে। এভাবে খেললে সামনে আমাদের সমস্যা হবে।’

ভুল বলেননি কোচ। তবু এক জয়ে অনেক প্রাপ্তি। মন্দ কী!