
>ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের প্রথম দিনে ৯৭ রানে আউট হয়েছেন কোহলি। টেস্টে মাত্র দ্বিতীয়বার নার্ভাস নাইনটিজের শিকার হলেন। সেঞ্চুরি পাননি রাহানেও। তবে দুজনের ১৫৯ রানের চতুর্থ জুটির সৌজন্যেই ৬ উইকেটে ৩০৭ রানে দিন শেষ করেছে ভারত ৮২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা ভারত।
ক্লাস একেই বলে! ইংল্যান্ডে তাঁর ১৩.৪০-এর ব্যাটিং গড়ের জবাবটা কী দারুণভাবেই না দিচ্ছেন বিরাট কোহলি! সিরিজের প্রথম টেস্টে ২০০ রান করেছেন। দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাট না হাসলেও কাল বিপদে পড়ে যাওয়া দলকে আরও একবার টেনে তুললেন। আরও একটি দুর্দান্ত সেঞ্চুরিই যখন তাঁর নামের পাশে লেখা হতে চলেছে, সেই সময় মাত্র ৩ রান দূরে থাকতে আদিল রশিদের শিকার হয়ে ফিরলেন। বিরাট কোহলির নার্ভাস নাইনটিজ? টেস্টে এ এক বিরল ঘটনা। এর আগে মাত্র একবারই নড়বড়ে নব্বইয়ের শিকার হয়েছেন। সেটিও প্রায় ৫ বছর আগের ঘটনা।
ফিফটি করলে সেটিকে সেঞ্চুরিতে টেনে নিয়ে যাওয়ার সুখ্যাতি আছে কোহলির। টেস্টে ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেওয়ার হার তাঁর অবিশ্বাস্য। ফিফটির চেয়ে তাই সেঞ্চুরিই বেশি। ২২ সেঞ্চুরির বিপরীতে ফিফটি ১৮টি। সেটিও কালকের ৯৭ রানের ইনিংসটি ধরে। না হলে তো ২৩ সেঞ্চুরি আর ১৭ ফিফটি হতো! ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে নিয়ে যাওয়ার এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতায় কোহলির সঙ্গে তুলনা হতে পারে কেবল ডন ব্র্যাডম্যানের। কমপক্ষে ২০টি সেঞ্চুরি করেছেন এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে ফিফটি-সেঞ্চুরি রূপান্তর হারে কোহলির ওপরে আছেন কেবল ব্র্যাডম্যান।
খেলোয়াড় | ১০০ | ৫০ | রূপান্তর |
ডন ব্র্যাডম্যান | ২৯ | ১৩ | ৬৯.০৪% |
বিরাট কোহলি | ২২ | ১৮ | ৫৫.০০% |
মো. আজহারউদ্দিন | ২২ | ২১ | ৫১.১৬% |
মাইকেল ক্লার্ক | ২৮ | ২৭ | ৫০.৯০% |
ম্যাথু হেইডেন | ৩০ | ২৯ | ৫০.৮৪% |
ইউনিস খান | ৩৪ | ৩৩ | ৫০.৭৪% |
অনেকের চোখে আধুনিক যুগের ব্র্যাডম্যান ছিলেন যিনি, সেই শচীন টেন্ডুলকারের সব ব্যাটিং রেকর্ড নাকি কোহলি একদিন ভেঙে দেবেন। যেভাবে ছুটছেন, সবচেয়ে বেশি রান আর সেঞ্চুরির আসল দুই রেকর্ড কোহলি টেন্ডুলকারের কাছ থেকে বুঝে নেবেন হয়তো। তবে টেন্ডুলকারের আরেকটি রেকর্ড যে কোনোভাবেই কোহলি পেতে চান না, এরই মধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টেন্ডুলকার সেঞ্চুরির সেঞ্চুরি করেছেন। টেন্ডুলকার এই ভেবে আফসোস করতে পারেন, সেঞ্চুরি আরও অনেকগুলো হতেই তো পারত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৭ বার নার্ভাস নাইনটিজের শিকার হয়েছেন টেন্ডুলকার। এটিও একটি বিশ্ব রেকর্ড। সেদিক দিয়ে কোহলি বেশ সতর্ক বলা যায়। টেস্টে মাত্র দুবার, আর ওয়ানডেতে নড়বড়ে নব্বইয়ে আউট হয়েছেন ৫ বার। গত ৫ বছরে টেস্ট-ওয়ানডে মিলিয়ে মাত্র তিনবার। ২০১৬–তে একবার, ২০১৭–তে একবার, ২০১৮–তে হলেন কাল।
কোহলি তাই নব্বইয়ের ঘরে আউট হয়ে ফিরছেন, কালকের দৃশ্যটা বড় অচেনাই ঠেকল!