ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু
ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু

ইনফান্তিনোকে সমর্থন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়কের, দিলেন ব্যাখ্যা

চাপে আছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো, আবার তাঁর প্রতি অনেকের সমর্থনও দেখা যাচ্ছে। দুই দিন আগেই ফিফা সভাপতির সমালোচনা করে বিবৃতি দিয়েছিলেন সাবেক কয়েকজন খেলোয়াড়। কিন্তু এবার তাঁর পাশে দাঁড়ালেন আরেক সাবেক খেলোয়াড়, ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক কাফু।

বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলো আয়োজনের অংশীদারত্ব বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরবর্তী সময়ে সে পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হলেও ক্ষোভ কমেনি; বরং ২০১৬ সাল থেকে ফিফার সর্বোচ্চ পদে বসে থাকা এই সুইস সংগঠকের ওপর পদত্যাগের চাপ দিন দিন বাড়ছে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন এএফসি এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার কনক্যাকাফের মতো শক্তিশালী কনফেডারেশনগুলোও প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর বিরোধিতা শুরু করেছে। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের গুঞ্জনও জোরালো হচ্ছে। এত সব ঝড়ের মধ্যেও নিজের পদে অনড় রয়েছেন ইনফান্তিনো।


এর মধ্যেই ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি ত্রয়ী ইমানুয়েল পেতি, বিশেন্তে লিজারাজু ও রবার্ট পিরেস এবং যুক্তরাষ্ট্র নারী দলের বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা ব্রিয়ানা স্কারি ও ইংল্যান্ডের লুসি ব্রোঞ্জের মতো সাবেকরা ইনফান্তিনোর সমালোচনা করে এক বিবৃতি দেন। যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মনের উৎকণ্ঠা আর আমাদের ভাবনা এক। তাঁদের মতোই আমরাও দেখছি, বর্তমান ফিফা নেতৃত্বের অধীন আমরা যে খেলাকে ভালোবেসেছিলাম, তা মূল মূল্যবোধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। পরিবর্তন এখন অবশ্যম্ভাবী। ক্ষমতা বর্তমান নেতৃত্বের চোখ এমনভাবে ঢেকে দিয়েছে যে তারা নিজেদের স্বার্থ আর ফুটবলের আসল কল্যাণের মধ্যকার পার্থক্যটাই ভুলে গেছে।’

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো


তবে এই অভিমতের সঙ্গে একমত নন কাফু। তাঁর মতে, গত এক দশকে আধুনিক ফুটবল প্রশাসনে যে পরিবর্তন এসেছে, তা অভাবনীয়। বিশেষ করে যাঁরা মাঠে ঘাম ঝরিয়েছেন, সেই সাবেক ফুটবলারদের প্রশাসনের সিদ্ধান্তে অন্তর্ভুক্ত করার যে উদ্যোগ, তা আগে কখনো দেখা যায়নি।


ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তায় ফুটবল–বিশ্বের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা এবং এর সভাপতি ইনফান্তিনোর কাজের প্রশংসা করে কাফু বলেছেন, ‘১০ বছর ধরে ফুটবলের নিয়ামক সংস্থায় প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য ফিফা এবং প্রেসিডেন্ট ইনফান্তিনো যেভাবে কাজ করেছেন, তা আমরা দেখেছি। এটা আগে কখনো ঘটেনি। নানা কমিটি, প্রকল্প এবং ওয়ার্কিং গ্রুপে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়ে খেলোয়াড় ও সাবেক ফুটবলারদের কথা বলার একটি মঞ্চ ও নীতিনির্ধারণী টেবিলে স্থান দেওয়া হয়েছে।’

ব্রাজিলের হয়ে দুটি বিশ্বকাপ জিতেছেন কাফু


সাবেক ফুটবলারদের এই অন্তর্ভুক্তি কেবল শুভেচ্ছাদূতের বাঁধাধরা কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কাফুর মতে, মাঠে অর্জিত অভিজ্ঞতা এখন সরাসরি আন্তর্জাতিক ফুটবল নীতি গঠনে ভূমিকা রাখছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ অভিভাবক সংস্থার কাছে নিজেদের মতামত মূল্যায়িত হতে দেখে সাবেক এই রাইটব্যাক প্রকাশ করেছেন গভীর সন্তুষ্টি, ‘আমাদের মতামত শোনা হয়। খেলাটির স্বার্থে নেওয়া অনেক পদক্ষেপই আমাদের চিন্তাভাবনা, ধারণা, পরিকল্পনা ও অংশগ্রহণের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।’


ফুটবল যে কেবল মাঠের ৯০ মিনিটের খেলা নয়, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাবেক এই ব্রাজিলিয়ান তারকা লেখেন, ‘আমরা জানি ফুটবল কীভাবে জীবন বদলে দিতে পারে, সমাজকে সুন্দর করতে পারে এবং বিশ্বজুড়ে মানুষের সুযোগের পরিধি বাড়াতে পারে। আমরা সেই আশা জাগিয়ে রাখার কাজে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত এক দশকে আমাদের এই খেলাটির যে বিশাল অগ্রগতি হয়েছে, তাকে সমর্থন দিতে আমরা প্রস্তুত, যাতে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে ফুটবলের এই সুফল পৌঁছায়।’
কাফুর এই সমর্থন ইনফান্তিনোর কতটা কাজে লাগে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।