জৈব সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে থাকার পরও কয়েকজন ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে আইপিএল স্থগিত করেছে বিসিসিআই।
জৈব সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে থাকার পরও কয়েকজন ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর ফলে আইপিএল স্থগিত করেছে বিসিসিআই।

আইপিএল আয়োজনের ‘অনৈতিক’ কাজটাই হোক ইংল্যান্ডে, চান পিটারসেন

দুটি প্রশ্ন। প্রথমত, আইপিএলের বাকি অংশ আয়োজন করা সম্ভব হবে কি না। এটা নিশ্চিত যে ভারতে করোনাভাইরাস মহামারির যা পরিস্থিতি, সেখানে আইপিএলের বাকি অংশ আয়োজন করা সম্ভব নয়। তবে প্রায় আড়াই-তিন হাজার কোটি রুপির লোকসান এড়াতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএলের বাকি অংশ আয়োজন করতে মরিয়া। তা বিকল্প ভেন্যুটা যেখানেই হোক। বিসিসিআইয়ের এই মরিয়া ভাবের কারণেই দ্বিতীয় প্রশ্নটি ঘুরছে ক্রিকেট বিশ্বে—তাহলে কোথায় হবে আইপিএলের বাকি অংশ?

জৈব সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে থাকার পরও কলকাতা নাইট রাইডার্স ও চেন্নাই সুপার কিংসের কয়েকজন ক্রিকেটার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর গত মঙ্গলবার বিসিসিআই আইপিএল স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই থেকেই ক্রিকেট বিশ্বে ওপরের প্রশ্ন দুটি ঘুরছে। আইপিএলের বিদেশি খেলোয়াড়দের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে করতেই বিসিসিআই সম্ভাব্য লোকসানের পরিমাণটা হিসাব করে দেখেছে। সেই লোকসানটা হিসাব করার পরই তারা টুর্নামেন্টটি শেষ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

আইপিএল আর আয়োজন করা না গেলে প্রায় আড়াই হাজার রুপি লোকসান হতে পারে বিসিসিআইয়ের।

এরই মধ্যে বিসিসিআই বিকল্প ভেন্যু খুঁজতে শুরু করেছে। এমসিসি, ল্যাঙ্কাশায়ারসহ ইংল্যান্ডের কয়েকটি কাউন্টি দল আইপিএল আয়োজন করতে চায় বলে ক্রিকেটবিষয়ক খবরের ওয়েবসাইট ক্রিকইনফো খবর দেয়। কাউন্টি দলগুলোর এমন ইচ্ছার কথা শুনে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডও আইপিএলের বাকি অংশ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড অবশ্য মাথায় রাখছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথাও। সফলতার সঙ্গে গত বছরের আইপিএল আয়োজন করেছিল আরব আমিরাত।

আগামী মাসেই ইংল্যান্ডে যাচ্ছে ভারতের ক্রিকেট দল। সেখানে তারা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলবে। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের একটি সিরিজ খেলবেন বিরাট কোহলিরা। সব মিলিয়ে প্রায় চার মাসের সফর। এটা বিবেচনা করে অনেকেই মনে করছেন, বছরের শেষ ভাগে আইপিএলের বাকি অংশটা হতে পারে ইংল্যান্ডেই। তা ছাড়া ইংলিশদের জৈব সুরক্ষাবলয় এরই মধ্যে ক্রিকেট বিশ্বে খুব প্রশংসা পেয়েছে।

আইপিএলের বাকি অংশ বিকল্প ভেন্যুতে আয়োজনের কথা ভাবছে বিসিসিআই।

কিন্তু ইংল্যান্ডে আইপিএলের বাকি অংশ আয়োজনের কথা শুনে হ্যাম্পশায়ার কাউন্টির প্রধান বলেছেন, এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। বর্তমান যে নিয়ম আছে, সেই অনুযায়ী ইংল্যান্ডে আইপিএল আয়োজন করাটা ‘অনৈতিক’ হবে বলে মনে করেন তিনি। কেভিন পিটারসেন অবশ্য ইংল্যান্ডে আইপিএল আয়োজনের পক্ষে। ভারতের বিপক্ষে পাঁচ টেস্টের সিরিজ শেষ হওয়ার পর সেপ্টেম্বরে একটা ফাঁকা সময় আছে। আর সেই সময়েই ইংল্যান্ড আইপিএল আয়োজন করতে পারে বলে মনে করেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক।

পিটারসেনের কথা, ‘আমি দেখেছি লোকেরা আইপিএলের বাকি অংশের আয়োজনের ব্যাপারে সংযুক্ত আরব আমিরাত নিয়ে কথা বলে। কিন্তু আমি মনে করি আইপিএল যুক্তরাজ্যে হতে পারে।’ কীভাবে আর কখন এটা হতে পারে, সেই বিষয়েও পরামর্শ দিয়েছেন পিটারসেন, ‘সেপ্টেম্বরে একটা ফাঁকা সময় আছে। ভারতের সেরা খেলোয়াড়দের সবাই তখন তো এখানেই থাকবে। ইংল্যান্ডের সেরা খেলোয়াড়েরাও তখন আইপিএলে খেলতে পারবে।’

আইপিএলের বাকি অংশ ইংল্যান্ডে আয়োজন করার পক্ষে কেভিন পিটারসেন।

সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডে আইপিএল হলে আরও একটা ভালো দিক দেখছেন ৪০ বছর বয়সী ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান, ‘যুক্তরাজ্যে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি খুব সুন্দর সময়। তারা ম্যানচেস্টার, লিডস এবং লন্ডনের আরও দুটি ভেন্যু ব্যবহার করতে পারে। ওই সময় মাঠে দর্শক ঢোকার অনুমতিও দেওয়া হতে পারে। তাহলে তো আবহটা হবে অসাধারণ।’