
জনহিতকর কাজ শহীদ আফ্রিদির খুবই প্রিয়। ২০২০ সালে করোনার প্রাদুর্ভাবে সারা দুনিয়া যখন অচল, সবাই ঘরবন্দী, তখন করাচি-লাহোরে ঘুরে ঘুরে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ত্রাণ বিতরণ করেছেন দুস্থ মানুষের মধ্যে। বিলিয়েছেন চিকিৎসাসামগ্রী। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন কেবল করোনা অতিমারির সময়ই নয়, বছরজুড়েই জড়িয়ে থাকে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে।
আফ্রিদি এখন তাঁর ফাউন্ডেশনের কর্মপরিধি আরও বাড়াতে চাইছেন। পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ গরিব মানুষের দুয়ারে চিকিৎসাসুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আফ্রিদি প্রতিষ্ঠা করতে চান মোবাইল হাসপাতাল। সেই সঙ্গে পাকিস্তানি তরুণদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটি তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনও তাঁর স্বপ্নের অংশ।
সম্প্রতি পাকিস্তানের একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্যানেল আলোচনায় আফ্রিদি পাকিস্তানি তরুণ ও যুবাদের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি–বিষয়ক পড়াশোনার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে করাচি, ইসলামাবাদ, লাহোর ও পেশোয়ারের মতো বড় শহরগুলোর বাইরে তরুণেরা যেন তথ্যপ্রযুক্তি–বিষয়ক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারেন, সেটি নিয়ে ভাবনা তাঁর। বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্ম যেন শিক্ষিত হতে পারে, দেশের কাজে লাগতে পারে—আফ্রিদির লক্ষ্য ও চিন্তা এমনই।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক পত্রিকা দ্য গলফ টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও বিভিন্ন জনহিতকর চিন্তার কথা তুলে ধরেছেন আফ্রিদি, ‘এ মুহূর্তে শহীদ আফ্রিদি ফাউন্ডেশন পাকিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কথা ভাবছে। গ্রামের সাধারণ গরিব মানুষ যেন তাদের বাড়ির দোরগোড়ায় চিকিৎসাসুবিধা পায়, আমাদের চিন্তাভাবনা এমনই। পাকিস্তানের গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষই মৌলিক চিকিৎসাসুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমরা এ জায়গায় কাজ করতে চাই।’
তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথাও বলেছেন আফ্রিদি, ‘মোবাইল হাসপাতালের পরিকল্পনাটার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের লক্ষ্য একটা তথ্যপ্রযুক্তি–বিষয়ক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। এটা আমরা করতে চাই খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে। সেখানে এমন কিছু নেই। ওখানকার তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি পড়তে দূরে যেতে হয়। তবে এটা তো একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা নয়। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক সময় লাগে। তবে ইনশা আল্লাহ আমি এটা করতে চাই।’
শিক্ষা নিয়েও অনেক কাজ আছে আফ্রিদি ফাউন্ডেশনের। কিছুদিন ধরে আফ্রিদির ফাউন্ডেশন পাকিস্তানের গ্রামাঞ্চলের স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে আফ্রিদি ফাউন্ডেশনের কর্মকাণ্ড বেশ বিস্তৃতি পেয়েছে। ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য কেবল স্কুল থেকে ঝরে পড়া শিশুদের স্কুলে ফেরানোই নয়, শিশুদের মনস্তত্ত্ব নিয়েও কাজ করছে তারা। শিক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই আফ্রিদি ফাউন্ডেশনের এই কার্যক্রমের লক্ষ্য।