কেপটাউনের বল টেম্পারিংয়ে বিপিএলের যে লাভ হলো

অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথকে ফুলেল বরণ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। ছবি: প্রথম আলো
অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথকে ফুলেল বরণ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের। ছবি: প্রথম আলো
>

বল টেম্পারিংয়ের দায়ে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার এবারই পাচ্ছেন বিপিএলের স্বাদ।

অস্ট্রেলিয়ানদের বল টেম্পারিংয়ে তাহলে বিপিএলের লাভই হলো!

একভাবে দেখলে তা-ই। গত মার্চের শুরুতেও যদি কেউ বলত, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে সময়ের সবচেয়ে বড় দুই তারকা ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভ স্মিথ খেলবেন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে, তা-ও ঠিক যে সময়ে তাঁদেরই দেশে বিগ ব্যাশ লিগ চলছে, কজন বিশ্বাস করত?

২০১২ সালে শুরু হয়ে অনেক পালাবদলের মধ্য দিয়ে যাওয়া বিপিএল আগের পাঁচবারে টি-টোয়েন্টির সত্যিকারের বড় তারকা বলতে তো ক্রিস গেইলকেই দেখেছে। সঙ্গে ডোয়াইন ব্রাভো, এভিন লুইসরা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে বেড়ানো ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের ‘প্রতিনিধি’ হয়ে এসেছেন বারবার। হ্যাঁ, ক্যারিয়ারের শেষবেলায় চলে আসা কুমার সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়াবর্ধনেরাও ছিলেন। কিন্তু স্মিথ-ওয়ার্নারের মতো কেউ এবারই প্রথম।

সেটি হয়তো সম্ভব হয়েছে শুধু গত মার্চে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্টে ওই কুখ্যাত বল টেম্পারিং-কাণ্ডের কারণেই। এই দেখুন, সেই কাণ্ডে স্মিথ-ওয়ার্নারেরই সঙ্গী ক্যামেরন ব্যানক্রফট কদিন আগে নয় মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষ করে দিব্যি খেলছেন বিগ ব্যাশে।

শাস্তির আরও তিন মাস বাকি, তাই স্মিথ-ওয়ার্নারদের সে সুযোগ নেই। তাঁরা বাংলাদেশে। সিলেট সিক্সার্সের অধিনায়ক ওয়ার্নার আগেই চলে এসেছেন। পরশু সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন, কাল অনুশীলনে এসেছেন। অবশ্য চলে গেছেন শুধু গা গরম করে। আর স্টিভ স্মিথ? তাঁর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসে যোগ দেওয়া না-দেওয়া নিয়ে নাটকের জেরে এবারের বিপিএলে একটা নিয়মই বদলে গেছে, বিপিএল শুরুর আগেই তাই এবারের বিপিএলের অন্যতম বড় চরিত্র সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। কাল সন্ধ্যায় তিনি এসেছেন ঢাকায়।

আইপিএলে সতীর্থ ছিলেন দুজনে। বিপিএলে আবার দেখা হওয়ায় কুশল বিনিময় ওয়ার্নার-মোস্তাফিজের। ছবি: প্রথম আলো

এঁদের দুজনের বাইরে এবারের বিপিএলে তারকার মেলায় নতুন সংযোজন আরেকজনও আছেন—এবি ডি ভিলিয়ার্স। গত মে মাসে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেও ক্রিকেটের ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’ ব্যাটসম্যানের আবেদন এখনো অনন্য। গেইল-লুইসদের পাশে এই নামগুলোর উপস্থিতির কারণেই এবারের বিপিএলের আকর্ষণ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি কি না, প্রশ্নটা বারবার উঠছে।

কাল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়া প্রত্যেক দলের কোচ বা খেলোয়াড়ের কাছে প্রশ্নটা ছুটে গেল। সবার উত্তর অভিন্ন। গেইল-ডি ভিলিয়ার্স যাঁর অধীনে, সেই রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার কথা, ‘...আগেরবার যারা এসেছে, তাদের চেয়েও বেশি মানসম্পন্ন ও ফর্মে থাকা খেলোয়াড়েরা এবার বিপিএলে।’ চিটাগং ভাইকিংস অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম বললেন, ‘এঁদের মতো ক্রিকেটাররা আসছেন, মানে বিপিএল বিশ্বের কাছে আরও বেশি মর্যাদাপূর্ণ হচ্ছে।’ শুধু কি বাংলাদেশ? অস্ট্রেলিয়ান দৈনিক সিডনি মর্নিং হেরাল্ডও পরশু বিপিএলের তারকাদ্যুতি নিয়ে একটা প্রতিবেদন করেছে, যেটির মূল সুর—তারকা টানার লড়াইয়ে বাংলাদেশের কাছে হেরে যাচ্ছে বিগ ব্যাশ!

তা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ বলে এই টুর্নামেন্টে ডি ভিলিয়ার্সের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া হয়তো কম। স্মিথ-ওয়ার্নারদের তা নয়। ওয়ার্নার তো পরশুই সংবাদমাধ্যমে বলে দিয়েছেন, এই বিপিএলই হবে ২০১৯ বিশ্বকাপের অস্ট্রেলিয়া দলে ফেরার চ্যালেঞ্জে তাঁর প্রথম সিঁড়ি। যে সাক্ষাৎকার সাড়া ফেলেছে অস্ট্রেলিয়ায়ও। কদিন আগে অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যমে বল টেম্পারিং-কাণ্ডের জন্য ওয়ার্নারকেই ‘মূল অপরাধী’ বানানো স্মিথ ও ব্যানক্রফটের সাক্ষাৎকারগুলো বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তারপর সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রথমবার আসা ওয়ার্নারের পরিণতিবোধ উল্টো কুড়াচ্ছে প্রশংসা।

সেসব না হয় অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। বিপিএল রোমাঞ্চিত দুই অস্ট্রেলিয়ানকে পেয়ে। ওয়ার্নারের চার-ছক্কার ফুলঝুরি, স্মিথের ব্যাটে দারুণ সব শট দেখার আশায়। নিজেদের প্রমাণে তাঁদের জেদে যে আখেরে বিপিএলেরই লাভ।