
>স্নায়ুচাপে ভেঙে পড়ে তীরে এসে তরি ডোবার অনেক উদাহরণ আছে বাংলাদেশের। কঠিন পরিস্থিতিতে চ্যালেঞ্জ যেন উতরে যেতে পারে, বাংলাদেশ এখন সেটির অনুশীলন করছে। দলের ব্যাটিং কোচ মনে করেন, শেষ দিকে ছক্কা মারার অপেক্ষায় না থেকে টানা চার মারাই শ্রেয়।
শেষ ওভারে দরকার ১০ রান। তীব্র স্নায়ুচাপে শেষ ৬ বলের চ্যালেঞ্জটা উতরাতে হবে লেজের ব্যাটসম্যানদের। পারবেন তাঁরা জয়ের প্রান্তে পৌঁছাতে? স্নায়ুকে জয় করতে না পেরে তীরে এসে তরি ডোবার অনেক উদাহরণ আছে বাংলাদেশের। ক্যারিবীয় সফর দিয়ে শুরু প্রথম ‘অ্যাসাইনমেন্টে’ স্টিভ রোডসেরও দেখা হয়েছে, কীভাবে স্নায়ুচাপে পা হড়কায় বাংলাদেশ!
বাংলাদেশ কোচ তাই কৃত্রিম স্নায়ুচাপ তৈরি করছেন। ব্যাটসম্যানদের বলে দিচ্ছেন, কঠিন পরিস্থিতিতে এত বলে করতে হবে এত রান। আজ বিকেলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সেই চ্যালেঞ্জে কেউ উতরে যেতে পেরেছেন, কেউ পারেননি। শেষ ওভারে যখন ১০, ১৫ কিংবা ২০ দরকার তখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অনুভব হয় বড় হিটারের। বাংলাদেশ দলে ঝড় তোলার মতো যথেষ্ট বিগ হিটার কি আছেন; যেমনটা দেখা যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে?
বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি মানছেন, বিগ হিটারের অভাব আছে। তবে ছক্কা মারার আশায় বল নষ্টের পক্ষে নন, ‘আমরা ভালো কিছু হিটারকে পেতে যাচ্ছি যারা জোরে মারতে পারে। আমাদের রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) আছে। সে দারুণভাবে হিট করতে পারে। আরও কিছু হিটার আছে। যদি ছক্কা মারার মতো আরও কিছু হিটার পাই বাংলাদেশ দলে ভীষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারবে। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানদের মতো চাই না, কয়েকটা বল মিস করে ছক্কা মারবে। বরং দেখতে চাই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা বল নষ্ট না করে টানা চার মারছে। ছক্কা মেরে হারতে চাই না। বাউন্ডারির মাঝের বলগুলোয় কী করে, সেটি দেখতে চাই।’
বাউন্ডারির অপেক্ষায় থেকে বল নষ্ট না করে এক-দুই করে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখার পক্ষে ম্যাকেঞ্জি। অবশ্য সবকিছুই নির্ভর করে পরিস্থিতির ওপর। এক ওভারে যদি ৬ রান দরকার হয়, এক-দুই করে নিলেই যথেষ্ট। যদি বলের দ্বিগুণ কিংবা তার চেয়ে বেশি রানের প্রয়োজন হয়, তখন আক্রমণাত্মক তো হতেই হবে।
তীরে এসে যেন তরি না ডোবে, চাপকে জয় করার অনেক প্রস্তুতিই নিচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু শুরুটা নিয়ে কী ভাবছে তারা? ওপেনিং জুটি নিয়ে দুশ্চিন্তা যে এখনো থেকে গেছে। সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের কথায় ধরুন, তামিম ইকবালের সঙ্গে এনামুল হকের জুটি একেবারেই জমেনি। সৌম্য ছন্দ হারিয়ে ফেলার পর আবারও তামিমের যোগ্য সঙ্গী খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ম্যাকেঞ্জি মনে করেন, তরুণদের কেউ ধারাবাহিক দ্যুতি ছড়ালেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে, ‘আমি একেবারে নতুন চোখে সব দেখছি। সত্যি ভাবছি না এটা নিয়ে। সবাইকে এগিয়ে যাওয়ার যথেষ্ট সময় দেওয়ার পক্ষে। দাস (লিটন) টি-টোয়েন্টিতে (ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) দেখার মতো একটা ইনিংস খেলেছে। তামিম রান পেয়েছে। ৫ ওভারে ৭০ রান করাটাই বলে দেয় ঠিক পথেই তারা আছে। তবে একজন তরুণ খেলোয়াড় দুর্দান্ত খেলতে পারলেই হবে। প্রতিভাবান খেলোয়াড় দলে আছে। আমাদের কথা বলতে হবে ম্যাচের পরিকল্পনা, নিবেদন ও মনস্তাত্ত্বিক বিষয় নিয়ে। সামনে যা আসছে, আমি সে সব নিয়ে ভীষণ ইতিবাচক।’