
বাংলাদেশের দেওয়া ২৬২ রানের জবাব দিতে নেবে খাবি খাচ্ছে শ্রীলঙ্কা। ৯.২ ওভারে ৩৮ রান তুলতে হারিয়ে ফেলেছিল ৪ উইকেট। সর্বশেষ স্কোর ১৬ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে ৬০
তামিম ইকবালের ব্যান্ডেজ বেঁধে এত হাতে ব্যাট করতে নেমে পড়া, আর মুশফিকুর রহিমের এলোপাতাড়ি মার...লঙ্কানরা যেন বাংলাদেশের ইনিংসের শেষের ধাক্কাটা সামলে উঠতে পারেনি। ব্যাট হাতে নেমেও খাবি খাচ্ছে তারা। ১১ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার স্কোর ৪ উইকেটে ৪৯। ২৬২ রানের লক্ষ্যটাকে এভারেস্ট উচ্চতায় তুলে দিয়েছে লঙ্কানদের এই কাঁপাকাঁপি। জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে মাশরাফি নিজে বল হাতে দিচ্ছেন নেতৃত্ব। বাকি দুটি উইকেট মোস্তাফিজ ও মেহেদী হাসান মিরাজের।
অবশ্য ওয়ানডে ম্যাচে কীভাবে বারবার রং বদলায়, বাংলাদেশের ইনিংসটাই তার বড় উদাহরণ। সেই রং বদলে এই ম্যাচে শ্রীলঙ্কা ফিরতে পারবে কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে পঞ্চম উইকেট জুটির ওপর। লঙ্কানরা ব্যাট হাতে ঝোড়ো শুরুই করেছিল। ২ ওভারে তুলে ফেলেছিল ২২ রান। সেই তারাই পরের ৮ ওভারে তুলতে পারল মোটে ২০। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে আর মাপা বোলিং করে লঙ্কানদের ঠেসে ধরেছে বাংলাদেশের বোলাররা
শুধু বল হাতে নয়, মাশরাফির গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ সিদ্ধান্তও এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের শেষ বলে এলবিডব্লুর আবেদন নাকচ হলে গেলে রিভিউ নিয়ে সফল হন মাশরাফি। মোস্তাফিজের সৌজন্যে প্রথম উইকেটের (কুশল মেন্ডিস) দেখা পায় বাংলাদেশ। পরের ওভারের শেষ বলে মাশরাফি বোল্ড করে দেন উপুল থারাঙ্গাকে। নিজের তৃতীয় আর ইনিংসের পঞ্চম ওভারে আবার মাশরাফি। এবার দনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলেন মাশরাফি। পরিষ্কার এলবি, কিন্তু দনাঞ্জয়া রিভিউ নিয়ে ফেলেন।
সেই ভুলের খেসারত পরে গুনতে হয়েছে শ্রীলঙ্কাকে। মেহেদী মিরাজের বলে এলবিডব্লুর আবেদনে আম্পায়ার হাত তুলে দিলে কোনো বেগর বাই না করে সোজা হাঁটা দিতে হয় কুশল পেরেরাকে। অথচ কুশলের প্যাডে লাগার আগে ব্যাটের কানা ছুঁয়েছিল ব্যাট। বাকি ইনিংসে শ্রীলঙ্কা আর রিভিউ পাবে না, এটিও মস্ত বড় সুবিধা বাংলাদেশের।
ম্যাচটা ১৫তম ওভারেই এক রকম শেষ করে ফেলতে পারত বাংলাদেশ। মিরাজের বল আড়াআড়ি চালাতে গিয়ে শনাকা আকাশে তুলে দিয়েছিলেন। সহজ ক্যাচ ছিল বদলি ফিল্ডার নাজমুল ইসলামের জন্য। কিন্তু ‘মাশরাফি ভাই’ ধরবে ভেবে হাতই বাড়ালেন না নাজমুল! এই ভুলটা বাংলাদেশ দ্রুত শুধরে নেবে নিশ্চয়ই।