জন বুকাননের নাম নিলেই মাথায় ফ্লপি হ্যাট পরা, গোঁফওয়ালা এক ব্যক্তির ছবি ভেসে ওঠে। চশমার ফাঁক দিয়ে মাঠের দিকে তাকিয়ে আছেন—একটা সময় তো মনে হতো এই ব্যক্তির বুদ্ধিদীপ্ত কৌশল মেনেই হয়তো স্টিভ ওয়াহ, রিকি পন্টিংদের অস্ট্রেলিয়া হয়ে উঠেছে বিশ্বের সেরা দল। ক্রিকেট দুনিয়ায় পন্টিং, গিলক্রিস্ট, ম্যাকগ্রাদের দাপটের নেপথ্য নায়ক এই বুকানন।
এই কোচের অধীনে একটা দল প্রায় অজেয় হয়ে উঠেছিল। যে কোচ একটা দেশকে তিনবার বিশ্বকাপ জিতিয়েছেন, তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়। অনেক দিন প্রশ্ন ওঠেও নি। কিন্তু আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচের দায়িত্ব পালন করার পর থেকেই বুকাননের গোপন খবর ফাঁস হয়ে গেছে। বাইরের দুনিয়ায় চাউর হয়ে গেছে, এই ব্যক্তিকে যতটা দুর্দান্ত কোচ মনে করা হতো, ততটা দুর্দান্ত তিনি নন। পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সালমান বাট তো বলেই দিয়েছেন, বুকাননকে পাত্তা দেওয়ার কিছু নেই।
বুকানন দুর্দান্ত একটা দল পেয়েছিলেন। অনেকে বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সেই দলই বুকাননকে সফল বানিয়েছিল। আলাদা করে তাঁর কোনো কারিশমা নেই। এ নির্মম সত্যটি উন্মোচিত হয়ে পড়ে ২০০৮ সালে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর। নানা উদ্ভট তত্ত্ব, কৌশল ইত্যাদি প্রয়োগ করতে চেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু কোনোটাই কাজে লাগেনি।
উল্টো বুকাননের কিছু সিদ্ধান্ত রীতিমতো বুমেরাং হয়েছিল। ভারতের সাবেক অধিনায়ক ও হালে বিসিসিআইয়ের সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলীও তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, বুকানন কীভাবে নিজের তত্ত্ব ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ওপর চাপিয়ে দিয়ে তাদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার কোচ হিসেবে তাঁর মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পর কোচ হিসেবে আজ পর্যন্ত বুকাননের কোনো সাফল্য নেই।
সালমান বাট ২০০৮ সালেই কলকাতা নাইট রাইডার্সে বুকাননের অধীনে খেলেছিলেন। ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে নিষিদ্ধ হওয়া বাটের মতে, ‘বুকানন খুবই প্রযুক্তিনির্ভর একজন কোচ। তাঁর কাজই ছিল লম্বা লম্বা বৈঠক করা। তাঁর সেই বৈঠকগুলোতে ক্রিকেটাররা অনেক সময় ঘুমিয়ে পড়ত।’
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে বুকানন সম্পর্কে প্রচলিত কথাটিই আবার সামনে নিয়ে এসেছেন বাট, ‘অস্ট্রেলিয়া দলের দায়িত্ব ছাড়ার পর এই বুকানন কোনো জায়গাতেই সফল হয়নি। সে অনেক কিছুরই অংশ ছিল। বুকাননের অধীনে ওই অস্ট্রেলিয়া দলটা ছিল দুর্ধর্ষ। সেই দলের কোচ কে, সে ওই খেলোয়াড়দের কী শেখাল, সেসব কোনো বিষয়ই নয়। অস্ট্রেলিয়ার অনেক তারকা ক্রিকেটারও নিজেদের আত্মজীবনীতে এমন বলেছে। ব্যক্তি হিসেবেও বুকানন মোটামুটি।’