সমালোচনায় বিদ্ধ সিধুর হয়ে ব্যাট ধরলেন ইমরান

ইমরানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সিধু। ফাইল ছবি
ইমরানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সিধু। ফাইল ছবি

ইমরান খানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে গিয়েই একে তো খেপিয়ে দিয়েছেন অনেককে, নভজ্যোত সিং সিধু তার ওপর কিনা জড়িয়ে ধরেছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধানকে! এ নিয়ে ভারতে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছেন সিধু। সেই সমালোচনার জবাব দিলেন এই সাবেক ক্রিকেটার, টিভি তারকা ও রাজনীতিবিদ। সিধুর হয়ে টুইট করেছেন পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীপ্রধান জেনারেল ওমর জাভেদ বাজওয়াকে আলিঙ্গন এবং শপথ অনুষ্ঠানের প্রথম সারিতে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের প্রধান মাসুদ খানের পাশে বসার ছবি ভারতের মিডিয়াগুলো ছেয়ে যায়। তখন থেকেই সিধু সমালোচনার মুখে পড়েন। বিশেষ করে সিধুর বিরোধী রাজনীতিকেরা এটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। সিধুর বিরুদ্ধে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করার অভিযোগও উঠেছে।

এমনকি উত্তর পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এমন অভিযোগও করেছেন, যাঁদের কারণে প্রতিদিন অসংখ্য ভারতীয় সেনা নিহত হচ্ছে, সেই সেনাপ্রধানকে কীভাবে আলিঙ্গন করেন সিধু? সিধু বর্তমানে কংগ্রেসের টিকিটে পাঞ্জাবের বিধানসভাতেই মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন। ২০০৮ সাল থেকেই ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক একরকম স্থগিত হয়ে আছে। ইমরান নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশের এই সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, এটাই এখন অনেকের কৌতূহল।

তবে যা অবস্থা, তাতে কেউ আগবাড়িয়ে শান্তির পতাকা ওড়ানোর চেষ্টা করে ভিলেন বনে যেতে রাজি হবেন বলে তো মনে হয় না! সিধু যেমন আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন, বাজওয়াকে তিনি আবেগেই জড়িয়ে ধরেছেন। কারণ, তিনি শান্তি চান। আর বাজওয়া পাকিস্তানে অবস্থিত শিখদের একটি অন্যতম তীর্থস্থান খুলে দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন।

৫৪ বছর বয়সী সিধু বলেছেন, ‘এটা আমার জন্য খুবই আবেগময় একটি মুহূর্ত ছিল। কিন্তু ওই সংক্ষিপ্ত মুহূর্তটুকুই। এরপর আমাদের আর দেখাই হয়নি। এটা সর্বোচ্চ এক মিনিটের মতো স্থায়ী ছিল হয়তো। এ নিয়ে যা হচ্ছে, তাতে সত্যিই হতাশ ও ব্যথিত।’

আর ইমরান খান টুইট করেছেন, ‘সিধু শান্তির দূত। পাকিস্তানের মানুষ তাকে অনেক ভালোবাসা ও আবেগ দিয়েছে। ভারতে যারা সিধুকে আক্রমণ করছে, তারা আসলে এই অঞ্চলের শান্তির ক্ষতিই করছে। শান্তি ছাড়া জনগণের উন্নতি কখনো আসে না।’