
অস্ট্রেলিয়ার ড্রেসিংরুমে মুত্তিয়া মুরালিধরন! অবাক করার মতো দৃশ্য তো অবশ্যই। তবে এই দৃশ্য দেখার জন্য প্রস্তুত হয়ে যান। শুধু ড্রেসিংরুমে বসে থাকবেন না, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও পালন করবেন। সেটিও কিনা শ্রীলঙ্কারই বিপক্ষেই! মুরালি যে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং পরামর্শক হিসেবে কাজ করবেন আসন্ন সিরিজে।
অবাক হওয়ার মতোই ব্যাপার। এই একটা দেশই তো তাঁর ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে। সেটা দল হিসেবে না যতটা, তার চেয়ে বেশি অস্ট্রেলিয়ার আম্পায়ার আর দর্শকেরা। তাঁর ক্যারিয়ারটাই খুন হতে বসেছিল অস্ট্রেলিয়ার জন্য। মুরালি নিজে অস্ট্রেলিয়াকে কম ভোগাননি। সেটা অবশ্য বোলার হিসেবেই।
তিন টেস্টের সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কা সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। স্পিনের অস্ত্রটা শাণিয়ে নেওয়া দরকার। এ জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তিটাকেই দলে ভিড়িয়েছে তারা। অস্ট্রেলীয় স্পিনারদের এই সিরিজে প্রশিক্ষণ দেবেন মুরালি। পরামর্শক হিসেবে আপাতত এই সিরিজেই শুধু কাজ করবেন। মুরালি জানালেন, প্রতিপক্ষ শিবিরে কাজ করতে কোনো আপত্তি নেই তাঁর, ‘আমি শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটে আর কোনোভাবেই যুক্ত নই। অন্যরা এখানে কাজ করছে। অস্ট্রেলিয়া আমাকে আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিকভাবে দুবার প্রস্তাব দিয়েছে। আমিও ভাবলাম, করলে অসুবিধা কী। এতে করে আমার জ্ঞান আমি অন্য কাউকে দিতে পারব, হোক না সেটা আমার কিংবা অন্য কারও দেশ।’
মুরালির কথা শুনে মনে হচ্ছে, সুযোগ পেলে শ্রীলঙ্কার হয়েই কাজ করতেন। কিন্তু সেটা আপাতত সম্ভব নয়। কারণ, দীর্ঘদিন ক্রিকেটে কাটানোর পর এখন পরিবারকেই সময় দিতে চাইছেন। পূর্ণ মেয়াদের কোচ হয়ে আবারও এ দেশ-ওদেশ ঘোরার ইচ্ছা তাঁর নেই, ‘পরিবারকে ভালোভাবে সময় দেওয়াটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে দু-তিন সপ্তাহের ছোট ছোট কাজগুলো নিচ্ছি। এ ধরনের কাজ শ্রীলঙ্কায় পাওয়া যায় না।’
২০১৪ সালেও সংক্ষিপ্ত মেয়াদে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে কাজ করেছিলেন মুরালি। ৮০০ টেস্ট উইকেটের মালিককে পেয়ে খুশি অস্ট্রেলিয়াও। অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কায় মুরালির অভিজ্ঞতার ভাঁড়ার পরিপূর্ণ। ভূরি ভূরি উইকেট সে নিয়েছে। এই সিরিজের ওর মতো একজন আমাদের বোলারদের যে সাহায্য করছে, অভিজ্ঞতাগুলো আমাদের ভাগাভাগি করছে, এটা সত্যিই দারুণ। এখন পর্যন্ত ও আমাদের দলে দারুণ করছে, সেন নিজেও সময়টা উপভোগ করছে।’
এর আগে শ্রীলঙ্কার ইংল্যান্ড সফরের সময় প্রতিপক্ষ শিবিরে কাজ করেছিলেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। সেটিও মাত্র ১০ দিনের মতো। তাতেই শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান এর ‘নৈতিক’ দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এবার তো মুরালি কাজ করবেন পুরো তিন টেস্ট ধরে, সেটিও অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের হয়ে। দেখা যাক, কী প্রশ্ন ওঠে। সূত্র : রয়টার্স, ক্রিকইনফো।