
১৯৭১ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল ওয়ানডের যাত্রা। গতকাল ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ টু–তে স্কটল্যান্ড–কানাডা ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে ছুঁয়েছে ৫০০০তম ম্যাচের মাইলফলক। এই দীর্ঘ পথচলায় কত শত রেকর্ডই তো দেখেছে ওয়ানডে, কত শত আবার ভেঙেও গেছে। এর মধ্যে কিছু রেকর্ড টিকেছিল দীর্ঘদিন, কিছু টিকে আছে এখনো। এমনই দীর্ঘস্থায়ী রেকর্ডে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যেতে পারে এবার।
এই মুহূর্তে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ দলীয় রানের রেকর্ডটি ইংল্যান্ডের। ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ইংল্যান্ড করেছে ৬ উইকেটে ৪৯৮ রান। তবে ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড সবচেয়ে বেশি সময় ছিল শ্রীলঙ্কার দখলে। ২০০৬ সালের জুলাইয়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার করা ৯ উইকেটে ৪৪৩ রান সর্বোচ্চ হিসেবে টিকেছিল ৩৭১০ দিন। মজার বিষয় হচ্ছে, শ্রীলঙ্কা ও ইংল্যান্ডের দুটি ম্যাচই হয়েছে নেদারল্যান্ডসের আমস্টেলভিনে।
সবচেয়ে বেশি সময় ধরে একক ইনিংসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি ছিল ভিভ রিচার্ডসের। ১৯৮৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২৭২ রানের মধ্যে তিনি একাই অপরাজিত ১৮৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ওয়ানডের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস হিসেবে রেকর্ডটি টিকেছিল ৪৭৩৮ দিন। পরে সাঈদ আনোয়ার ১৯৪ রান করে তা ভেঙে দেন। যদিও বর্তমান রেকর্ডটি রোহিত শর্মার (২৬৪)। দিনের হিসেবে এখনো এগিয়ে রিচার্ডসই।
২০০১ সালের ৮ ডিসেম্বরে এসএসসিতে জিম্বাবুয়ে দলকে চামিন্ডা ভাসের একা ধসিয়ে দেওয়ার ২৫ বছর পূর্ণ হতে চলল। বাঁহাতি এ পেসার সেদিন ১৯ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৮ উইকেট। ওয়ানডে ইতিহাসে একমাত্র ৮ উইকেট নেওয়ার কীর্তি এটিই। ভাসের এই রাজত্ব এরই মধ্যে ৯০০০ দিন পার করেছে।
ওয়ানডেতে ৫০০ বা এর বেশি উইকেটের মালিক শুধু মুত্তিয়া মুরালিধরন এবং ওয়াসিম আকরাম। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আকরামের ৫০২ উইকেটের রেকর্ড টপকে যান মুরালি, এর পর থেকে গত ১৭ বছর ধরে তিনিই তালিকার শীর্ষে। বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে কাছে আছেন মিচেল স্টার্ক, তবে অস্ট্রেলিয়ান এ পেসারের উইকেট আড়াই শরও কম (২৪৭টি)। যার অর্থ, মুরালিধরনের এই রেকর্ডটা আরও কয়েক দশক তাঁরই থেকে যেতে পারে।
টেস্টের তুলনায় ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ সংগ্রাহকের তালিকায় টেন্ডুলকার অনেক বেশি শক্ত অবস্থানে রয়েছেন; বিরাট কোহলির চেয়ে তিনি এখনো ৩০০০ রানের বেশি এগিয়ে। ২০০০ সালের অক্টোবরে মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের ৯৩৭৮ রান ছাড়িয়ে ওয়ানডের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন শচীন টেন্ডুলকার। এরপর ১৮৪২৬ রান নিয়ে ২০১২ সালে অবসর নিলেও এখনো শীর্ষেই আছেন। বিরাট কোহলি (১৪৯৪১) অবিশ্বাস্য কিছু করে না দেখালে টেন্ডুলকারের এই রেকর্ডটিও অনেক দিন টিকে থাকার কথা।
পুরুষদের ওয়ানডেতে ৫০ বলের কমে সেঞ্চুরি আছে ১৫টি, তবে প্রথমটি দেখতে ক্রিকেট বিশ্বের সময় লেগেছিল ২৫ বছর। ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে পাকিস্তানের বিপক্ষে সনথ জয়সুরিয়া ৪৮ বলে সেঞ্চুরি করে প্রথম এই রেকর্ড গড়েন। কিন্তু মাত্র ছয় মাস পরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৭ বলে তিন অঙ্ক ছুঁয়ে তা ভেঙে দেন শহীদ আফ্রিদি। নাইরোবিতে আফ্রিদির সেই ঝোড়ো ইনিংসটি ২০১৩ সালের শেষ পর্যন্ত দ্রুততম সেঞ্চুরি হিসেবে টিকে ছিল—যার স্থায়িত্ব ছিল ৬২৯৮ দিন। বর্তমান রেকর্ডধারী এবি ডি ভিলিয়ার্স ৩১ বলে সেঞ্চুরি করার পরও অবশ্য এক দশক (২০১৫ সালে) পেরিয়ে গেছে।
১৯৯৮ সালে ডেসমন্ড হেইন্সের ১৭টি সেঞ্চুরির রেকর্ড টপকে গিয়েছিলেন টেন্ডুলকার। ২৫ বছরের বেশি সময় (৯১৭১ দিন এবং ৩৩৪০টি ওয়ানডে) ধরে এই রেকর্ডটি ধরে রাখেন। লম্বা সময় ধরে মনে হচ্ছিল তাঁর ৪৯টি সেঞ্চুরির রেকর্ড বোধ হয় কেউই ছুঁতে পারবে না। কিন্তু ২০২৩ বিশ্বকাপে কোহলি তা ভেঙে দেন।
১৯৯০ সালে ওয়াকার ইউনিস সর্বোচ্চ ৫ উইকেট নেওয়ার রিচার্ড হ্যাডলির রেকর্ড (৫ বার) স্পর্শ করেন, তবে রেকর্ডটি নিজের করে নিতে সময় লাগে আরও দুই বছর। এর পর থেকে অবিশ্বাস্যভাবে ৩৩ বছর এবং ৪২০১টি ওয়ানডে জুড়ে এই রেকর্ড ধরে রেখেছেন ওয়াকার। পাকিস্তানের এই পেসার ক্যারিয়ার শেষ করেন ১৩ বার ৫ উইকেট নিয়ে। সক্রিয় ক্রিকেটারদের মধ্যে ৯ বার নিয়ে তাঁর সবচেয়ে কাছে আছেন মিচেল স্টার্ক।