
একজন খেলছেন ৫৫তম টেস্ট, আরেকজন চতুর্থ টেস্ট। অভিজ্ঞতার বিস্তর পার্থক্য থাকলেও নিরোশান ডিকভেলা ও সোনাল দিনুশাকে মিলিয়ে দিয়েছিল একটি পরিসংখ্যান—দুজনের কারোরই টেস্ট সেঞ্চুরি নেই। সেই দুজন আজ গলে টেস্টের তৃতীয় দিনে যখন জুটি বেঁধে এগোচ্ছিলেন মনে হচ্ছিল ডিকভেলা ও দিনুশার সেঞ্চুরির অপেক্ষা ফুরাচ্ছে আজ।
তবে শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি পেলেন শুধু চার টেস্টের অভিজ্ঞ দিনুশা। আর ডিকভেলা বিদায় নিলেন সেঞ্চুরি থেকে ২০ রান দূরে থেকে ক্যারিয়ারের ২৩তম ফিফটি সঙ্গী করে। আর তাতে সেঞ্চুরি ছাড়া সবচেয়ে বেশি টেস্ট রানের শেন ওয়ার্নের রেকর্ডের আরেকটু কাছে পৌঁছে গেলেন ২০১৪ সালে প্রথম টেস্ট খেলা শ্রীলঙ্কান উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। অস্ট্রেলিয়ার প্রয়াত লেগ স্পিন কিংবদন্তি কোনো সেঞ্চুরি ছাড়াই টেস্টে করেছেন ৩১৫৪ রান। ২৮৩৭ রান নিয়ে ডিকভেলা আছেন এরপরই।
ডিকভেলার হতাশার আর দিনুশার সেঞ্চুরি উদ্যাপনের দিনটি শেষে গল টেস্টের লাগাম শক্তভাবেই হাতে রেখেছে সফরকারী ভারত। ভারতের প্রথম ইনিংসে করা ৪৬২ রানের জবাবে সোনাল দিনুশা (১০০) ও নিরোশান ডিকভেলার (৮০) ষষ্ঠ উইকেটে গড়ে তোলা ১৪৬ রানের লড়াকু জুটির পরও শ্রীলঙ্কার প্রথম ইনিংস গুটিয়ে যায় ২৮৪ রানে। তাতে প্রথম ইনিংসে ১৭৮ রানের লিড পায় ভারত। তবে আকাশে ঘন কালো মেঘ ও ঝড়ের শঙ্কায় নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয় তৃতীয় দিনের খেলা। ফলে আজ দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং শুরু করার সুযোগ পায়নি ভারত।
এর আগে, সকালে দিনের খেলা শুরু হতেই ভারতের শেষ উইকেটটি তুলতে শ্রীলঙ্কার লেগেছে মাত্র ৪ বল। ৯ উইকেটে ৪৬০ রান নিয়ে দিন শুরু করা ভারত অলআউট আর মাত্র ২ রান যোগ করেই। কিন্তু নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে সকালের সেশনেই ধসের মুখে পড়ে স্বাগতিকেরা। ৯০ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে তারা।
ভারতের পেসার মোহাম্মদ সিরাজ নিজের দ্বিতীয় বলেই নিশান ফার্নান্ডোকে (০) ফিরিয়ে পতনের সূচনা করেন। এরপরই কাজে নামেন ভারতের স্পিনাররা। বাঁহাতি স্পিনার মানব সুতার নিজের প্রথম বলেই দিনেশ চান্ডিমালকে (৪) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন। ৬টি চারে ২৭ রান করা ওপেনার লাহিরু উদারাকেও ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ বানান এই স্পিনার।
এরপর কুলদীপ যাদবের বলে এক্সট্রা কভারে নিজের বাঁ দিকে শরীর ভাসিয়ে অসাধারণ এক ডাইভিং ক্যাচে কামিন্দু মেন্ডিসকে (১৪) সাজঘরে ফেরান শুবমান গিল। শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে (২১) যখন স্লিপে ক্যাচ বানালেন রবীন্দ্র জাদেজা, তখন ৯০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল স্বাগতিকেরা।
এমন দুরবস্থা থেকে থেকে শ্রীলঙ্কাকে টেনে তোলেন নিরোশান ডিকভেলা ও সোনাল দিনুশা। তিন বছর পর টেস্ট দলে ফেরা ডিকভেলা ২০ রানে স্লিপে লোকেশ রাহুলের হাতে জীবন পান। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দিনুশার সঙ্গে জুটি বেঁধে পুরো দ্বিতীয় সেশনে ভারতের বোলারদের হতাশ করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত প্রসিধ কৃষ্ণার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ডিকভেলা বিদায় নিলেও দিনুশা ফিরেছেন সেঞ্চুরি করেই। সুতারের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি উদ্যাপন করেন এই তরুণ।
৪টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো দুর্দান্ত এই ইনিংসটি থামে রবীন্দ্র জাদেজার (৩/৫৭) বলে এলবিডব্লু হয়ে। বল ব্যাটে লেগেছে ভেবে দিনুশা সঙ্গে সঙ্গেই রিভিউ নেন, কিন্তু আল্ট্রা-এজে ব্যাটের স্পর্শ ধরা না পড়ায় বিদায় নিতে হয় তাঁকে।
ভারতের হয়ে সুতার ৭৬ রানে ৪টি ও জাদেজা ৫৭ রানে ৩টি উইকেট নেন। দ্বিতীয় উইকেটটি নিয়ে টেস্টে ৩৫০ উইকেটে মাইলফলক ছুঁয়েছেন জাদেজা।
ভারত ১ম ইনিংস: ১১৬.৪ ওভারে ৪৬২। শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৭৯.৪ ওভারে ২৮৪ (দিনুশা ১০০, ডিকভেলা ৮০, উদারা ২৭; সুতার ৪/৭৬, জাদেজা ৩/৫৭)।